Ultimate magazine theme for WordPress.

অবশেষে নেতাদের সাক্ষাৎ দিলেন খালেদা

849

লন্ডন সফররত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে অবশেষে দলের নেতারা সাক্ষাৎ করতে পেরেছেন। সফরের তিন দিনের মাথায় গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় যুক্তরাজ্য বিএনপির ওপরের সারির কয়েকজন নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর ঘণ্টা দুয়েক আগে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও তাবিথ আউয়াল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন।
জানা গেছে, শুক্রবার রাত আটটার দিকে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও তাবিথ আউয়াল তারেক রহমানের বাসায় যান। খালেদা জিয়া পশ্চিম লন্ডনের কিংসটনে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন। সেখানে তাঁরা প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন। এর মধ্যে বেশ কিছু সময় তাঁরা একান্তে তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাত ১০টার দিকে যুক্তরাজ্য বিএনপির কয়েকজন নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুল হামিদ, সহসভাপতি ফরিদ উদ্দিন, লুতফুর রহমান, মামুন চৌধুরী, শেখ শামসুদ্দিন শামীম, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
এ সম্পর্কে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক প্রথম আলোকে বলেন, এই সৌজন্য সাক্ষাতে তাঁরা দলের চেয়ারপারসনকে যুক্তরাজ্য বিএনপির কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেছেন। খালেদা জিয়া তাঁদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের অবদান ও বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
মালেক বলেন, খালেদা জিয়া তাঁদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বর্তমান ‘অবৈধ’ সরকার বাকশালী রূপে আবির্ভূত হয়েছে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আর সাম্প্রতিক সময় গুমের ঘটনা বেশি বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। গণমাধ্যম যাতে সরকারের সমালোচনা না করে এবং বিএনপির ইতিবাচক সংবাদ প্রচার না করে সে জন্য সরকার নানা চাপ অব্যাহত রেখেছে। সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকেও হরণ করেছে। এসব ঘটনাগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছে তুলে ধরার জন্য যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা যাতে যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতেও যুক্ত হন সেই পরামর্শও দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এতে করে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।
মালেক আরও বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী ওই সাক্ষাতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও অর্থনীতিতে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন। সম্প্রতি গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উক্তির প্রসঙ্গ টেনে খালেদা জিয়া উপস্থিত নেতাদের বলেন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসীরা জঙ্গি নয়, বাংলাদেশেও কোনো জঙ্গি নেই। আওয়ামী লীগের লোকেরাই জঙ্গি আচরণ করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.