Ultimate magazine theme for WordPress.

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে সোনাপুর-জোরারগঞ্জ সড়কে ওবায়দুল কাদেরের স্বপ্নের সেতু

1,608

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিবেদক :

নোয়াখালী বাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী সোনাপুর-জোরারগঞ্জ সড়কের নির্মাণাধীন ছোট ফেনী সেতু’র পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও ফেনীর সোনাগাজীর স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। সকল নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পূর্ব অংশে ছোট ফেনী নদী থেকে এ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি বিক্রয় করছে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যাক্তি। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বপ্নের সোনাপুর-জোরালগঞ্জ সড়কের “সোনাগাজী-ওলামাবাজার-চরদরবেশ-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের ছোট ফেনী নদীর উপর ৬ষ্ঠ কিলোমিটারে শতকোটি টাকা ব্যায়ে নির্মানাধীন ছোট ফেনী সেতুটি”।
গত ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষজ্ঞ ও ভূ-ত্বত্তবীদদের মতে এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকলে ভবিষ্যতে স্বপ্নের সেতুটি ভেঙ্গে বা ডাবিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সোনাপুর- জোরারগঞ্জ সড়কটিও টিকিয়ে রাখা দুঃসাধ্য হয়ে যাবে। রহস্যজনক কারণে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলেও ওই প্রভাবশালী দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।


স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে ও সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে কিছু প্রভাশালী ও অসাধু লোক। স্থানীয়বাসীদের মতে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রায় ৩ মাস ধরে ১০-১২টি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে ওই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ বালুগুলো নির্মাণাধীন সেতুর পশ্চিম ও পূর্ব পার্শ্বে ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে বিক্রি করে এস্কেবেটার মেশিনের সাহায্যে ২০-২৫টি ট্রাক্টরে করে বালু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সরেজমিনে সোমবার বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ২০টিরও অধিক ট্রাক্টরে বালু নিয়ে বাংলাবাজার হয়ে পশ্চিম দিকে যেতে দেখা যায়। এক ট্রাক্টর বালু ১৪০০-১৫০০টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিদিন এ স্থান থেকে গড়ে ৮০-১০০ ট্রাক্টর বালু উত্তোলন করা হয় বলে স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা আরো জানান, বালু উত্তোলনের কারণে নির্মাধীন ছোট ফেনী সেতু হুমকির মুখে। যেকোন মুহুর্তে সেতুটি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। এ অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে সেতুর ঠিকাদার রানা বিল্ডার্সের মালিক, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্তাব্যাক্তিরা জড়িত আছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, নদী থেকে উত্তোলনকৃত বালু দিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা,  নোয়াখালী সদর, ফেনী সদর, দাগনভুইয়া, সেনবাগ, কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন সড়ক নির্মান কাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ এবং ব্যাক্তিগত পর্যায়ে বহুতল ভবন, মার্কেট ও বাড়ী নির্মান কাজে ওই বালু ব্যবহার করা হয়।  এ বিষয়ে স্থানীয় বিষেজ্ঞরা মতামত প্রকাশ করেছেন যে, যে হারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তাতে ভু-গর্ভস্থ ফাটল সৃষ্টি হয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, নদী থেকে বালু উত্তোলন ও অব্যাবস্থাপনার কারনে ইতিপূর্বে কাজীর হাট স্লুইজ গেইটটি ২০০১ সালে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্লুইজ গেইটটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে।

২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাধিন সেতুর পার্শ্বে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন ৩টি, ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আহছান উল্যাহ ভুট্টু মেম্বার ৬টি, যুবলীগ নেতা নুর উদ্দিন ভোলা ১টি ও চরদরবেশ ইউনিয়নের নাডু মেম্বারের ১টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এ ছাড়াও অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত রয়েছে, মিলন প্রকাশ তেল মিলন, ইব্রাহিম মাঝি, সাইফু উদ্দিন ও রাসেদসহ কিছু অসাধু প্রভাবাশালী।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আহছান উল্যাহ ভুট্রো মেম্বারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, নির্মানাধীন সেতুটির জন্য রানা বিল্ডার্সের নির্দেশে তিনি বালু উত্তোলন করছেন। বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসকের থেকে অনুমতি নিয়েছেন বলে দাবী করেছেন। তবে তিনি প্রশাসনের কোন অনুমতির কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অপরদিকে নির্মানাধীন সেতুটির ঠিকাদারের দায়িত্বে থাকা রানা বিল্ডার্স এর সার্ভেয়ার খায়েরুল বাসার জানান, সেতু নির্মানের কাজে ব্যবহারের জন্য তারা ওই বালু উত্তোলন করছে। এতে অনুমতি আছে বললেও কোন অনুমতির কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীনকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অবৈধভাবে কোন বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত নয় বলে দাবী করেন। কিছু লোক তাদের নিজ স্বার্থে আমার নাম ব্যবহার করছে বলে তিনি জানান। তবে বালু বিক্রি করার দায়িত্বে থাকা মিজান নামে এক ব্যাক্তি জানান, এ বালু উত্তোলন করছে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন।

অবৈভাবে বালু উত্তোলনের সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে নোয়াখালীর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন জানান, বালু উত্তোলনের জন্য ঠিকাদার ফেনী জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে বলে তাকে জানিয়েছে। তবে অনুনমোদিত ভাবে যে হারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলে জানান। সোমবার (১৭এপ্রিল) সেতুটির ঝুঁকি পূর্ণ স্থান থেকে বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিনগুলো সরিয়ে নেয়া হয়ছে বলে তিনি জানান। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গিয়েছে সেতুটির নিকটঅদুরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে একই কায়দায় বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

 

এস.এস/কেএইচপি

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.