Ultimate magazine theme for WordPress.

অমর একুশেতে ৭১বাংলা নিউজের বিশেষ আয়োজন

733

কায়ছার হামিদ পাপ্পু :

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী (বাংলা ৮ই ফাল্গুন ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে শহীদ হয় কয়েকজন ছাত্র ও তরুণ। শহীদ সেসব ছাত্র ও তরুণদের স্মরণে প্রতি বছর পালিত হয় আজকের এ দিবসটি।

২১শে ফেব্রুয়ারী “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”। দিবসটি উপলক্ষ্যে ৭১বাংলা নিউজের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করেছি বর্তমান সময়ের তরুণ কয়েকজন রাজনীতিবীদ ও সমাজসেবকের সহযোগীতায় ভাষা আন্দোলনের কিছু তথ্য ও চেতনা পাঠকদের মাঝে তুলে ধরতে।

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)। পাকিস্তানের স্থপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ বলে ঘোষণা দেন। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ঘোষণার সাথে সাথেই ময়দানে উপস্থিত জনগণ সমবেতভাবে এ ঘোষণার প্রতিবাদ করেন। জিন্নাহ পুনরায় ২৪মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে গিয়ে একই রকম ভাষণ দেন। সাথে সাথেই সমবেত ছাত্ররা ‘না না’ বলে চিৎকার করে উঠেন। মূলত তারপর থেকেই সূচনা হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের। তবে ভাষা আন্দোলনের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ সালে। সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলায় দলে দলে ছাত্রজনতা জড়ো হয়েছিলেন। মুখে স্লোগান, বুকে সাহস। মিছিলে প্রকম্পিত হলো রাজপথ ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।

তারই প্রেক্ষিতে সেদিন ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে পরিস্থিতি মুহূর্তে পাল্টে যায়। ছাত্রদের আন্দোলন হয়ে ওঠে সবার। ওই মাহেন্দ্রণে বাংলাদেশের ইতিহাস প্রবেশ করে এক নতুন যুগে।

আজ ৭১বাংলা নিউজের বিশেষ আয়োজনে সমাজের তরুণ রাজনীতিবীদ ও সমাজসেবকদের চেতনায় একুশ আজো অমর। ভাষা আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন মত প্রকাশ করেন কয়েকজন রাজনৈতিক ও সমাজ ব্যক্তিত্ব।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার এক মতবাদে বলেন,২১ আমার অহংকার, বাংলা ভাষা আমার অহংকার। যেসব শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাকে পেয়েছি, বিশ্ব দরবারে দাঁড়িয়ে বলতে পারছি বাংলা আমার অহংকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী। উপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে সেদিন বাংলার ছেলেরা নিজের জীবন দিয়ে কঠিন প্রতিবাদ করেছিল বলেই আজ পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে আমরা বলতে পারছি বাংলা শ্রেষ্ঠ ভাষা। তাই আজ শহীদদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা রেখে বলব আমরা তোমাদের ভুলবো না।

বাঙালির ভাষা আন্দোলনের দিন ২১ শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাকে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত করতে হলে আগে নিজেদের বাংলার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। বাংলার ইতিহাসে শ্রদ্ধাভরে স্বরণীয় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা পৃথিবীর সর্বস্তরে এর প্রচলন এখন সময়ের দাবী। বাংলা ভাষা আমাদের বড় গর্বের, বড় ভালোবাসার ধন। একারণেই বাংলাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। সন্তানকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি প্রত্যেক পিতামাতার একান্ত দায়িত্ব তার সন্তানকে নিজের ভাষা, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক যেন কোনভাবেই বিচ্ছিন্ন না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত। নতুন প্রজন্মের আধুনিকতার নামে খিচুড়ি ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধে পরিবার, সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেষ্ট হতে হবে বলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল মত প্রকাশ করেন।

রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরীর বলেন, বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন ছাত্র জনতাসহ হাজারো মানুষ। পরে ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ এলোপাতাড়িভাবে গুলি চালালে শহীদের রক্তে লাল হয় রাস্তাঘাট। যেটি আজকের প্রজন্মের কাছে একটি ঐতিহাসিক ইতিহাস। বাংলাকে এগিয়ে নিতে হলে আজকের প্রজন্মকে সেদিনের শহীদদের আত্মত্যাগকে ভুললে চলবেনা।

মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম শাহীন চৌধুরী বলেন, বাঙালীর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ইতিহাস। ৫২’র ২১শে ফেব্রুয়ারী ভাষা শহীদদের বুকের রক্ত দিয়ে আর্জিত আমাদের মাতৃভাষা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা। আমাদের সবার উচিত একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে আরো উন্নতির লক্ষে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপশি বিশ্ব মঞ্চে বাংলা ভাষার অবস্থান আরো দৃঢ় করা। তাই আজকের দিনে শহীদ সেই ভাষা সৈনিকদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি।

 

২১শে ফেব্রুয়ারী শুধু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তাই নয়, এটি বাঙালীর মহান আত্মত্যাগের স্বাক্ষী বলেন মত প্রকাশ করেন স্বাধীনতা ব্যংকার্স পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাত। তিনি আরো বলেন, সেদিন ১৪৪ দ্বারা ভেঙে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে দেশে ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলনে রাস্তায় নেমে পড়ে। তাদের সাথে যোগ দেয় ছাত্র, শিক্ষকসহ হাজারও জনতা। অনেকগুলো তাজা প্রাণের বুকের রক্ত দিয়ে লিখা হয় এ আমার বাংলা ভাষা। আমরা পাই পৃথিবীর বুকে বাংলা নামক শ্রেষ্ঠ একটি ভাষা। আজকের তরুণ প্রজন্ম সেসব শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম তানভিরের বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন সর্বদা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সর্বদা আমার রাজনীতিতে রসদ জুগিয়েছে। সেদিন ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়। পররাষ্ট্র দফতর ‘শান্তির জন্য সংস্কৃতি’ শীর্ষক একটি রেজুলেশন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরে। ভারত, জাপান, সৌদি আরব, কাতারসহ বিশ্বের ১২৪টি দেশ এ রেজুলেশনটি সমর্থন করে। তাই বাংলাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা।

সর্বোপরি, বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের স্মরণে দেশজুড়ে চেতনার যে উন্মেষ ঘটে তারই ফলে একাত্তরে আমরা পাই সোনার বাংলাদেশ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.