Ultimate magazine theme for WordPress.

অল্প বেতনে দুঃখ ও কষ্টে জীবন পার করেন গ্রাম-পুলিশরা।

1,117

অল্প বেতনে দুঃখ ও কষ্টে জীবন পার করেন গ্রাম-পুলিশরা।

স্টাফ রির্পোটারঃ ”পরিশ্রম সৌভাগ্যর প্রসূতি”এ বাণী বাংলাদেশে গ্রাম-পুলিশদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, গ্রাম-পুলিশরা রাত দিন জনগণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন অথচ তাদের সরকারি বেতন নামমাত্র, তারা যে বেতন পান সে বেতনের টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলেনা।
গ্রাম বাংলায় একটা প্রবাদ আছে ”নুন আন্তে পান্তা ফুরাই” গ্রাম–পুলিশদের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি প্রযোজ্য।
গ্রাম পুলিশরা পুলিশেরই সহায়ক।
খেয়ে না খেয়েই দুঃখ কষ্টের মধ্য দিয়ে চলে
তাদের জীবন সংসার।
সকাল থেকে রাত জেগে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের।
এর মধ্যে বিশ্রামের একটু সময় পর্যন্ত জোটেনা।
কিন্তু এর পরও পায়না তারা শ্রমের ন্যায্য মজুরী।
এরা খুবই সামান্য পরিমাণ ভাতা পান ফলে ধর্মীয়
উৎসবগুলোতে ঈদ কিংবা পূজোয় গ্রাম পুলিশের সদস্যরা তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে উৎসব আমেজে আনন্দের সাথে উদযাপন করতে পারেন না।
গ্রাম পুলিশের বেশ কয়েকটি দাবী তারা তুলে ধরেছেন, এর মধ্যে চাকুরি জাতীয়করণ, রেশন চালু করা, মোবাইল ফোন ও সীম কার্ড বরাদ্দ দেয়া এবং চাকরিতে কোটা সংরক্ষন করা।
গ্রাম পুলিশের যেসব দাবী উঠে
এসেছে, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ মনে
করেন তাদের এসব দাবী যৌক্তিক।
তবে বছরের
পর বছর গ্রাম পুলিশের সদস্যরা এসব দাবী পেশ
করে আসলেও কর্তৃপক্ষ তাদের দাবীগুলো খুব একটা কর্ণপাত করছেন না।
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার গ্রাম-পুলিশরা তাদের অসহায়ত্বের জীবন যাপন কথা তুলে ধরেন , এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের
গ্রাম পুলিশ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলায়
ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করতে
হয়।
আবার রাতে এলাকার জঙ্গি, মাদক এবং বিভিন্ন
মামলার আসামী ধরার কাজে পুলিশকে সহায়তা করতে হয়।
এজন্য কোন কোনদিন সারারাত জেগেও তাদেরকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
পরিষদের কাজে ইউনিয়নের এ গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে হয়।
প্রতি মাসে আমাদেরকে ৩
হাজার টাকা ভাতা দেয়া হয়।
কম ভাতায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমাদেরকে
খেয়ে না খেয়ে খুব দুঃখ কষ্ট করে চলতে হয়।
আমাদের জীবনের
কোন মূল্য নেই, চাকরি জীবন শেষে সবাই পেনশন পায় কিন্তু আমরা পাই না। আমরা রেশনও পাইনা।
যে ভাতা পাই তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না।
তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়ে বলেন তিনি আমাদের সকলের মা তিনি আমাদের বেতন বৃদ্ধিসহ সবধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যাবস্থা করবেন।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, আমার পিতা দফাদার ছিলেন তখন শুনছিলাম গ্রাম পুলিশদের বেতন জাতীয় স্কেলে হবে, আমার পিতা মারা গেছেন তিনার পরিবর্তে আমি গ্রাম পুলিশ হয়েছি পিতার আমল থেকে শুনতেছি জাতীয় স্কেলে গ্রাম পুলিশদের বেতন হবে কিন্তু এখন হয়নি।
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলা শাখার গ্রাম-পুলিশ কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, আমরা গ্রামপুলিশের
সদস্যরা মাসে যে ভাতা পাই সেই ভাতার টাকা দিয়ে
আমাদের সংসার চলে না, ছেলে মেয়েদের ভালো খাবার ভালো পোশাক দিতে পারি না।
ভালো লেখাপড়া করানোর ইচ্ছা থাকলেও অভাবের কারণে ভালো লেখাপড়া করানো সম্ভব হচ্ছেনা তাদের।
তিনিও গ্রাম পুলিশের চাকরি জাতীয়করণ,
একটি মোবাইল ও সীমকার্ড দেয়া সহ রেশন চালু করার জন্য সরকারের নিকট অনুরোধ করেন।
গ্রাম-পুলিশের সুবিধা অসুবিধার কথা জানিয়ে গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর সরকার
বলেন, আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দাবী করছি যে, গ্রাম পুলিশের সদস্যরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেগে যে ভাবে দায়িত্ব পালন করেন সে তুলনায় তাদের বেতন ভাতা বাড়ানো খুবই প্রয়োজন।
গ্রাম পুলিশ সদস্যরা বেতন ভাতা কম থাকায় তাদের ছেলে
মেয়েদেরকে নিয়ে দুঃখে কষ্টের মধ্যেই দিন যাপন করেন। তিনি গ্রাম পুলিশের চাকুরিতে সরকারের
সব সুযোগ সুবিধা সৃষ্টির জন্য সরকারের নিকট
জোর দাবী জানান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.