Ultimate magazine theme for WordPress.

ইউপি সদস্যকে ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বগুড়া সদর থানার এসআই শাহজাহানের বিরুদ্ধে

466

বগুড়া সদর থানার এসআই শাহজাহানের বিরুদ্ধে এক ইউপি সদস্যকে ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ চাঁদা পরিশোধ না করায় তাঁর স্ত্রী সাবানা বিবিকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বগুড়া জেলা জজ আদালতে জামিন শুনানিকালে সাবানা এ অভিযোগ করেন। এ সময় তাত্ক্ষণিকভাবে ওই এসআই ও সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামানকে তলব করেন বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার। পরে ওসিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়।
সাবানা বিবি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল হান্নানের স্ত্রী। হান্নান ওই ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সন্তানদের পড়াশোনার জন্য তিনি সপরিবারে বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর জহুরুলপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

আবদুল হান্নান দাবি করেন, তাঁর ও পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার কোনো অভিযোগ নেই। ২৩ মে রাতে এসআই শাহজাহান আলী সাদা পোশাকে তাঁর ভাড়া বাসায় আসেন। এ সময় তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।

এর কিছুক্ষণ পর তিনি বাসায় ফিরলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা হান্নান ও তাঁর স্ত্রীকে থানায় যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে ‘থানায় ওসি স্যার ডেকেছেন’ বলে জানানো হয়। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে ডাকতে চাইলে শুধু সাবানাকে থানায় নেওয়া হয়। পরদিন সকালে ৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ এনে সাবানাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার ওই মামলার জামিন আবেদনের শুনানি হয়।
আদালত সূত্র জানায়, গতকাল জামিন আবেদন শুনানির জন্য সাবানাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি আদালতের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রার্থনা করেন। আদালত অনুমতি দিলে সাবানা অভিযোগ করে বলেন, এসআই শাহজাহান নিজেকে পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মাদকের মামলায় ‘ফাঁসিয়ে’ স্বামী আবদুল হান্নানকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়। এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয় জানালে সাবানাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। গতকাল দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে তলবের পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে এসআই শাহজাহান আলী দাবি করেন, তিনি কাউকে ‘ক্রসফায়ারে’র হুমকি দেননি বা কারো কাছে চাঁদাও চাননি। সাবানার কাছে ইয়াবা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান বলেন, ‘সাবানার গোটা পরিবার মাদক ব্যবসায়ী। সাবানার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর ফেনসিডিল পাচারের মামলা আছে। পুলিশের নথিতে তিনি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তা ছাড়া হান্নানের বিরুদ্ধেও সদর থানায় মাদকের মামলা আছে। ’

Leave A Reply

Your email address will not be published.