Ultimate magazine theme for WordPress.

এই মাশরাফিকেই তো চাই!

828

বল কিংবা ব্যাটে কিচ্ছু করার দরকার নেই। শুধু নেতৃত্ব গুণেই তিনি একাদশে জায়গা রাখতে পারেন। কিন্তু মাশরাফি নেতৃত্ব দিতে ভালোবাসেন সামনে থেকেই। সেটি তিনি দিচ্ছিলেনও। কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই আজকের ম্যাচটি হয়ে থাকল ‘নেতা মাশরাফি’র ম্যাচ।

বল হাতে দুর্দান্ত শুরু, শুরুতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রতিপক্ষের মনোবল। মাঠে একের পর এক অভাবিত সব রণকৌশল। এর পর দলের প্রয়োজনে চওড়া হওয়া ব্যাট। আজকের ম্যাচ সেরা পুরস্কারটি হয়তো ওঠেনি তাঁর হাতে। কিন্তু ব্যাটে-বলে-নেতৃত্বে আজকের ম্যাচটা যেন মাশরাফিরই ম্যাচ।
এ বছর সাফল্যের নাওয়ে ভাসা বাংলাদেশের মাঝি তিনি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বইঠা টানা আর পাল বাঁধার মূল দায়িত্ব পালন করেছেন নাওয়ে থাকা সতীর্থরা, তিনি শক্ত হাতে ধরে রেখেছিলেন হাল। সতীর্থদের, আরও​ বেশি করে পৃথিবীকে কিছু করে দেখানোর দুঃসাহস নিয়ে দলে আসা তরুণদের ওপর সব আলো ছড়িয়ে দিয়ে তিনি থেকে যাচ্ছেন আড়ালে। তবে আজ মাশরাফি নিজেই আলো ছড়ালেন সবখানে।
শুরুতেই ২ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। প্রথম তিন ওভারে ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট! জিম্বাবুয়েকে শুরুতে কোণঠাসা করেছেন। মাঝখানে ৫ ওভারে ৬৬ রান তুলে জিম্বাবুয়ে যখন চোখ রাঙাচ্ছে, সেই সময় মাশরাফির আশ্চর্য কিছু চাল। আগের ওভারে ১২ রান দেওয়ার পরও মাহমুদউল্লাহকে আনলে যেন স্ট্রাইক বোলারদের ওভার খরচ না হয়। মাহমুদউল্লাহর উইকেট মেডেন! ক্যারিয়ারে প্রথম ওভারে ১৭ রান দিয়ে বসা যুবায়েরকে আনলেন। যুবায়ের তিন রান দিয়ে দুই উইকেট!
মাশরাফির সব চালই জিম্বাবুয়েকে ১৩১-এ আটকে রাখল, অথচ হওয়ার কথা ছিল ১৬০-১৭০! এর পর ১৩২ রানের সহজ লক্ষ্যটা তাড়া করতে গিয়ে খানিকটা চাপে পড়া দলকে অপরাজিত ১৫ রানে বিজয়ের বন্দরেও নিয়ে গেলেন।
কদিন আগে ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠা মাশরাফির বলটা মন্দ হয়নি সদ্য শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও। তবে লক্ষ্য করার মতো ব্যাপার তাঁর ব্যাটিং। প্রতি ম্যাচেই শেষ মুহূর্তে ঝড় ওঠার ইঙ্গিত মিলছে মাশরাফির ব্যাটে। অনেক দিন পর তাঁর ব্যাটিংয়ে সেই ছন্দ। তবে কি ব্যাটিংয়ে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন? খোদ সাকিবই আক্ষেপ করে বলেন, মাশরাফি নিজের ব্যাটিং নিয়ে আরও মনোযোগী হলে তাঁর ক্যারিয়ারটাই হতে পারত অন্যরকম।
আজও ম্যাচ শেষে ব্যাটিং নিয়ে ‘উদাসীন’ মাশরাফির দেখাই মিলল। বললেন, ‘কখনোই ব্যাটিং নিয়ে কাজ করিনি। করার সুযোগ হয়নি আমার ক্যারিয়ারে। চোটাক্রান্ত হওয়ায় সব সময়ই বোলিং নিয়েই ভেবেছি। ফিরতে হলে আমাকে বোলিং দিয়েই ফিরতে হবে। বোলিং এমনই জিনিস, ম্যাচের পর ম্যাচ খেলে জায়গায় আসতে হবে। তবে হ্যাঁ মানসিকভাবে একটু পরিবর্তন করেছি। ওই সময় যদি ওভার ও ব্যাটসম্যান থাকে, তবে সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। আমি যখন আটে নামব, তখন অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে তো সঙ্গ দিতেই হবে। এ মানসিকতাটুকুই পরিবর্তন করেছি। তবে সব সময় অনুভব করি ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিং গুরুত্বপূর্ণ।’
নিজেকে সেই আগের রূপে দেখাটা নিশ্চয় স্বস্তির! মাশরাফি অবশ্য এটাকে ‘স্বস্তি’ ভাবতে রাজি নন। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে মাশরাফির চোখমুখে ফুটে ওঠা অভিব্যক্তি বলে, এটা হচ্ছে ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাস।
বোলিং, নেতৃত্ব, ব্যাটিং—সব মিলিয়ে সার্থক ‘অলরাউন্ডার’। এই মাশরাফিকেই তো চাই!

Leave A Reply

Your email address will not be published.