Ultimate magazine theme for WordPress.

এখনই সময়’ যা করার করতে হবে !

1,524

 

আবু নাছের কচি (সভাপতি, রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ):

আগন্তুকঃ- কি অবস্থা ভাই কেমন আছেন?

আমিঃ- এইতো মুটামুটি, আপনার কি অবস্থা?

আগন্তুকঃ কি বলেন ভাই এখন সরকার ক্ষমতায় এখন তো ভাল থাকার কথা, এখন তো সুখ আর সুখ।

আমিঃ- কিভাবে বুঝলেন??

আগন্তুকঃ এখন তো সব জায়গায় আপনাদের কথায় সবাই উঠে আর বসে। সাথে তো টাকা পয়সার তো এখন অভাব নাই।

আমিঃ কিভাবে বুঝলেন টাকা পয়সার অভাব নেই??

আগন্তুকঃ কি কন ভাই, এটা কি আর বলা লাগে?? সরকার ক্ষমতায় থাকলে টাকার অভাব হয় না।

আগন্তুকঃ তো ভাই কত কামাইলেন বা কেমন কামাইলেন??? ইনকাম মুটামুটি হচ্ছে তো নাকি???

আমিঃ- আমি নির্বাক চেয়ে রই আর হাসি মনে মনে বলি, এই হল আমাদের পরিবেশ, আমাদের রাজনীতি সম্পর্কে আমার, আপনার পরিচিত জনদের ধারনা বা বিশ্বাস।

জানি না, এরকম আর কোন রাজনৈতিক কর্মী বা নেতাকে এই রকম প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় কিনা। আমি ব্যক্তিগত ভাবে হরহামেশাই এই প্রশ্নের সম্মুখীন হই।

ব্যক্তির মান ও সময় সুযোগমত প্রশ্নের উত্তর দিতে চেষ্টা করি অথবা কৌশলে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করি।

বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আমার উত্তর হয়- এখনো সময় হয় নি। তাছাড়া আমি ছাত্ররাজনীতি করি, ছাত্রদের পড়ালেখা সম্পর্কিত সমস্যা, সুবিধা, সুযোগ ইত্যাদি নিয়েই আমার কাজ।

উপরের কথা গুলো যে লিখলাম এটা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, আমি নীজে এই প্রশ্নের সম্মুখীন বহুবার হয়েছি। এবং সেই আলোকেই লিখেছি।

কথা হল এই যে, রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা যাই বলিনা কেন, এদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষ, পরিচিত জন, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, এমনি পরিবারের সদস্যদের এই মনোভাব বা ধারনা কেন জন্ম নিল? কেন মানুষের বিশ্বাস যে রাজনৈতিক নেতা কর্মীর কাছে দল ক্ষমতা মানেই “টাকা আর টাকা”।

এই প্রশ্ন বহুবার শুনতে শুনতে আমি না ভেবে পারলাম না, আর ভেবে যা পেলাম তা আমাকে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে। আর তাই এই সম্পর্কিত লিখাটা না লিখে পারলাম না।

আমি ভেবে এই পেলাম, মানুষের মনে এই ধারণা একদিনে জন্ম নেয়নি। বহুদিন ধরে দেখা আসা অভিজ্ঞতার আলোকেই এই কথাটি প্রায় প্রতিষ্ঠিত সত্যতে পরিনত হয়েছে। এর কারন লক্ষ করে দেখলাম যে, রাজনীতিবিদদের কর্ম আর আচার আচরনের কারনেই এই ধারনা মানুষের মনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

দেখা যায় একটি ছেলে রাজনীতি যখন শুরু করতে যাচ্ছে বা যায় তার কাছে ৫ টাকা দিয়ে চা খেতেও পয়সা থাকেনা। কিন্তু দল ক্ষমতাই আসার পর সেই লোক টাই হয়ে যায় কোটিপতি, শিল্পপতি। হঠ্যাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে সে বনে যায় সমাজ সেবক, দানবীর, ইত্যাদি।

আর অন্য কারন গুলোর মধ্যে অন্যতম যে কারন গুলো লক্ষ করলামঃ-

তার অন্যতম একটির কথাই শুধু বলছি। আর তা হল ” এখনই সময়” যা করার করতে হবে। নীজের আখের গোছাতে হবে। আর এই সময় টাকে ব্যবহার করে যেকোনো উপায়ে টাকা কামানোর চিন্তাচেতনা সারাক্ষণ ঘুরপাক খায় রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীর মাথায়। আর এর ফলেই যে কোন উপায়ে সে টাকা কামাতে চায়। হোক সেটা বৈধ অথবা অবৈধ। শুরু হয় বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব,

“জোর যার মুল্লুক তার” প্রতিষ্ঠা ও হয় এই অবস্থায়।

সাধারণত ভাল কাজে তেমন একটা পয়সা থাকে না, টাকার খেলা চলে অবৈধ ব্যবসায় বা কাজে। পয়সা কামানোই মূল লক্ষ সে যেই উপায়েই হোক।

তাছাড়া, রাজনীতি একটা সেবা এটা কেউ মনে করে না, কারন বেশীর ভাগ লোকই রাজনীতিতে আসে এটাকে ব্যবসা হিসাবে নিয়ে। রাজনৈতিক নেতা হতে পারলে প্রভাব খাটানো তো হবে সাথে অল্পদিনে কোটিপতি। আর কাক চক্ষু ক্ষমতায় আসার।

এই কারনেই সবাই আমাকে প্রশ্ন গুলো করে মনে হল আমার কাছে।

আমি বুঝলাম এই প্রশ্নের ক্ষেত্রটা আমরা যারা রাজনীতি করি তারাই তৈরি করেছি। আমাদের কাজ কর্ম আর আচার আচরনের মধ্য দিয়ে।

মুল কথা হল রাজনীতিকে জনসেবা থেকে ব্যবসার ক্ষেত্রই বানিয়েছি আমরা যারা রাজনীতি করি তারাই।

ভাবি আর হাসি,,, বেচারা কি করবে চোখের সামনে দেখছে অন্যদের আঙ্গুল ফুঁলে কলা গাছ হচ্ছে তাই আমারেও একই প্রশ্ন করাটা তার জায়গা থেকে যুক্তিযুক্ত।

অবশেষে ভাবনা অন্তহীন কিন্তু ফলাফল শূণ্য, কারন এর সমাধান আমার হাতে নেই।

 

সম্পাদকীয়/কেএইচপি

Leave A Reply

Your email address will not be published.