Ultimate magazine theme for WordPress.

এমন ব্যাকুল কমই ছিলেন ধোনি

818

ভুবনেশ্বর কুমারের বলে মরনে মরকেল ফেরার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধনহারা উদ্‌যাপনে মেতে উঠল গোটা ভারতীয় শিবির। নেচে উঠল ইন্দোরের গ্যালারি। জেগে উঠল ভারত। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে স্টাম্প। সাধারণত স্মরণীয় ম্যাচের স্মারক হিসেবে খেলোয়াড়দের স্টাম্প সংগ্রহের রীতি চালু। তবে কি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এ ম্যাচটা মহাগুরুত্বপূর্ণ ছিল?

আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ একটা ম্যাচ। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। সেই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২২ রানে হারিয়ে সিরিজে ফিরল ভারত। তাতে ভারতীয়দের কেন বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস? কেন ধোনির এমন ব্যাকুলতা? এ যে চাপ জয়ের আনন্দ, ব্যর্থতার চোরাবালি থেকে উদ্ধার হওয়ার আনন্দ, টানা তিন পরাজয়ের পর জয়ের দেখা পাওয়ার আনন্দ।
২৪৮ রানের লক্ষ্যে শুরুটা মন্দ হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। হাশিম আমলা-কুইন্টন ডি ককের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪০। তবে ১২ রানের ব্যবধানে ফিরে যান দুই ওপেনার। সেখান থেকে প্রোটিয়াদের আশার আলো দেখান জেপি ডুমিনি-ফ্যাপ ডু প্লেসির তৃতীয় উইকেট জুটি। এ জুটিতে আসে ৮২। অক্ষর প্যাটেলের বলে বিরাট কোহলির দুর্দান্ত ক্যাচ পরিণত হয়ে ৫১ রানে ফেরেন ডু প্লেসি। এরপরই দক্ষিণ আফ্রিকা হঠাৎই হারিয়ে ফেলল পথ। প্রোটিয়া টপ অর্ডার নাড়িয়ে দেওয়ার মূল কাজটি করেছেন অক্ষর। প্রথম চার উইকেটের তিনটিই বাঁহাতি স্পিনারের।
২ উইকেটে ১৩৪ রান থেকে ৫ উইকেটে ১৪২—৮ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট শেষ প্রোটিয়াদের। দ্রুতই আত্মসমর্পণ করলেন এবি ডি ভিলিয়ার্সও। বিস্ফোরক প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান করলেন মাত্র ১৯ রান। লেজ বেরিয়ে পড়া প্রোটিয়াদের বাকি লড়াইয়ের মূল চরিত্র ফারহান বেহারডিয়েন। ডেল স্টেইন, রাবাদাকে নিয়ে সপ্তম ও অষ্টম উইকেটে ১৯ ও ১৪ রানের ছোট্ট দুটি জুটি গড়ে এগোতে চেয়েছিলেন। তবে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সে স্বপ্নের সমাধি! হরভজন সিংয়ের বলটা আদৌ ফারহানের ব্যাটে লেগেছিল কি না ব্যাটসম্যানের চেয়ে উইকেটরক্ষকের ভালো জানার কথা। কিন্তু ধোনি যেভাবে আবেদন করলেন, আউটের জন্য ব্যাকুল ছিলেন খুবই। কার্যত তখনই শেষ হয়ে যায় প্রোটিয়াদের স্বপ্ন।
শেষ ৬০ বলে দরকার ছিল ৪০ রান। আপাতদৃষ্টিতে বেশ সহজ সমীকরণ। তবে ভারতের দরকার ছিল মাত্র ২ উইকেট। ম্যাচটা আক্ষরিক অর্থে হেলে গিয়েছিল ভারতীয়দের দিকে। লাগামটা আর ফসকে যায়নি ধোনিদের হাত থেকে।
তিন ক্যাচ ও এক স্টাম্পিং তো ছিলই। ধোনির আসল পারফরম্যান্স ছিল ব্যাট হাতেই। ১২৪ রানে ৬ উইকেটের পতন। বিপর্যয়ের মধ্যেও ভুবনেশ্বর আর হরভজনকে নিয়ে ধোনি চালালেন দুটো খণ্ড লড়াই। সেই লড়াই দুটিই ভারতকে এনে দিল লড়াইয়ের পুঁজি।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ব্যর্থতায় তীব্র সমালোচিত ধোনি ভুবনেশ্বরে সঙ্গে করে সপ্তম উইকেটে তুললেন ৪১ রান। ১৪ রানে ভুবনেশ্বর বিদায় নিলেও হরভজনকে নিয়ে ভারত অধিনায়ক চালালেন আরেকটি লড়াই। দুজনের অষ্টম উইকেটে এল ৫৬। অবিচ্ছিন্ন শেষ উইকেট জুটিতে মোহিত শর্মাকে নিয়ে তুললেন ২২। এর মধ্যে ২০ রানই ধোনির। অপরাজিত ৯২।
এ ম্যাচটা ভারতের তো বটেই, জয় হলো ধোনিরও। ভারত অধিনায়ক চাইলে নর্মাদায় একটা ডুব দিয়ে আসতে পারেন! মধ্যপ্রদেশের প্রধান এ নদীতে ধোনির স্নান হতে পারে তীব্র চাপ জয়ের আনন্দে!

Leave A Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com