Ultimate magazine theme for WordPress.

করতোয়া নদী রক্ষার দাবিতে বগুড়া নবাববাড়ীতে মানববন্ধন।

448

নজরুল ইসলাম বগুড়া থেকেঃ  করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ দখল করে বড়বড় বিল্ডিং করেছে বগুড়ার প্রভাবশালী এনজিও টিএমএসএস। প্রতিবাদ করায় জেলা পরিষদের সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে  রবিবার শহরের নবাববাড়ী এলাকায় দেলওয়ারা সেখ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারি স্বার্থ সংরক্ষন পরিষদের নেতারা করতোয়া নদী রক্ষার দাবিতে মার্কেটের সামনে  করে। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, টিএমএসএস এর অবৈধ এজেন্ডা বাস্তাবায়নের জন্য জাতীয় দৈনিক সহ স্থানীয় কিছু পত্রিকায় ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ার হোসেন রানার নামে মিথ্যা বানোয়াট খবর প্রচার করেছে। টিএমএসএস এর মদদে চক্রান্তে যুক্ত হয়েছে কতিপয় সংগঠন। মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবৈধ বিল্ডিং ভেঙ্গে করতোয়া নদীর গতিপথ ফিরে দেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ী ও কর্মচারি সংগঠন। তথ্যমতে, নদী আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই নদী রক্ষার দায়িত্ব দেশের সব মানুষের। মাত্র কিছু দিন আগে ১৯৮৮ সালেও করতোয়ার যৌবন ছিলো টুইটম্বুর। বরেন্দ্র অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এই করতোয়ার পানিতে হাজার হাজার একর জমিতে ফসল ফলতো। বগুড়া তখন পুন্ড্রনগর হিসেবে মানুষ চিনতো। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই পুন্ড্রনগর গড়ে ওঠে করতোয়ার কোল ঘেষেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সওদাবাহী শতশত নৌকা ভীরতো পুন্ড্রনগরের তীরে। সুদূর খুলনা থেকে নারকেল, ইলিশ আসতো। বর্তমানে নদীর অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। দুইশ কিলোমিটার দীর্ঘ এক সময়ের খরস্রোতা করতোয়া এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। করতোয়া নদী এখন মরা কঙ্কাল।১৯৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যার সময় তৎকালীন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে গাইবান্ধার গোাবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের খুলশিচাঁদপুর এলাকার কাটাখালিতে বাঁধ ও ¯øুইস গেট নির্মাণের মাধ্যমে করতোয়া নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। কাটাখালি থেকে করতোয়ার পথ পরিবর্তন হয়ে পূর্ব দিকে গিয়ে বাঙ্গালি নদে মিলিত হয়েছে। আর কাটাখালি থেকে বগুড়ার দিকে প্রবহমান করতোয়া তখন থেকেই মারা যেতে শুরু করেছে। শহরের ময়লা আর্বজনা নদীতে পড়ে ভরাট হতে থাকে করতোয়া। ভরাট হওয়া নদীর বুকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা তুলতে থাকে বড় বড় বিল্ডিং। বগুড়া শহরের উত্তর প্রান্ত নদীর ঠেঙ্গামারা থেকে শুরু করে শহরের দক্ষিণ প্রান্ত এলাকা জুরে নদীটির বেশির ভাগ এখন ভূমি দস্যুদের দখলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে দখল মুক্ত করার লোক দেখানো ঝটিকা অভিযান চালালেও গরীব শ্রেণির সাধারণ মানুষের দুই চারটি টিন সেট ঘর ভাঙ্গা ছাড়া আসল জায়গাগুলোতে কোন দিন হাত দেয়নি। প্রভাবশালী ব্যাক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানগুলো করতোয়া দখল করে যেসব বড় বড় বিজনেস সেন্টার তৈরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থাও নেয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ফলে দিন দিন নদীর অবশিষ্ট অংশটুকুও এই সব প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে।রবিবার বেলা ১১ টায় শহরের নবাববাড়ী এলাকায় দেলওয়ারা সেখ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারি স্বার্থ সংরক্ষন পরিষদের নেত্ববৃন্দ করতোয়া রক্ষার দাবীতে মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভে ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দ করতোয়া সম্পর্কে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এসময় তারা বলেন, বগুড়ার প্রভাবশালী এনজিও টিএমএসএস করতোয়ার নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দখল করে বড়বড় বিল্ডিং তৈরি করেছে। তারা এসব অবৈধ বিল্ডং ভেঙ্গে করতোয়ার গতিপথ ফিরে দেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মিথ্যাচার থেকে দূরে থাকার আহবান জানান ব্যবসায়ীরা।

ও বিক্ষোভ সমাবেশে দেলওয়ারা সেখ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারি স্বার্থ সংরক্ষন পরিষদের আহবায়ক সায়দুর রহমান বাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী নেতা হাসান হামিদুর রহমান রাজু, নূরুল ইসলাম নূরু, রাশেদ খন্দকার চপল, খোরশেদ আলম, আব্দুর রাজ্জাক, তৌহিদুল ইসলাম রুমন, ফরহাদ হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক পিন্টু, সুলতান মাহমুদ, আনন্দ কুমার, শাহাদৎ হোসেন, কর্মচারী নেতা স্বপন, গোপাল, অলক, আনিছ, রাব্বী, রনজিৎ, ইসরাইল, আরিফ হোসেন, রনজু শেখ, শাকিল, রাশেদ, মেহেদী হাসান, পাপ্পু প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে বগুড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পৌরসভার মেয়রের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.