Ultimate magazine theme for WordPress.

করোনা বিজয়ী রংপুরের শাহ আলম সুস্থ সহযোগিতাকারী পজিটিভ হয়নি কেউ

187

।। মাহফুজ মন্ডল ।। গত ২৯ মার্চ দুপুরে বগুড়ার মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা ফেরত শাহ আলম (৫০) নামে রংপুরের এক ব্যক্তিকে করোনা রোগী সন্দেহে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্ধার করে প্রথমে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করাতে যায় কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা সাধারন এ্যাজমা রোগী মনে করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিলে পুলিশ শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রোগীটি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করেন এরপর শাহ আলমের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় ঢাকার আইআইডিসিআর এ। এক সপ্তাহ পর রিপোর্ট আসে শাহ আলম কভিড-১৯ পজিটিভ। এরপর তাকে স্থানান্তর করা হয় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে। সেখানে চিকিৎসা শেষে পুনরায় তার নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেল করোনা ভাইরাস তার শরীরে নেই, মানে তিনি এখন কবিড-১৯ মুক্ত। 

এই শাহ আলম ঢাকার একটি পোশাক শিল্পের কর্মচারী। তার বাড়ি রংপুর জেলার ধাপেরহাট গ্রামে। জ্বর, সর্দি- কাশি নিয়েই একটি ট্রাকে অনেক যাত্রীর সাথে বাড়ি ফিরছিলেন শাহ আলম। বগুড়ার মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডে আসার পর সর্দি কাশি বেড়ে গেলে করোনার ভয়ে অন্যান্য যাত্রীরা শেষ রাতে ট্রাক থেকে নেমে দেয় শাহ আলমকে। ভোরে শাহ আলমকে পড়ে থাকতে দেখে করোনা আতঙ্কে কেউ যায়নি তার কাছে।
সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সদস্য সেলিম উদ্দিন বিষয়টি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গনেশ দাশকে মোবাইল ফোনে জানান। শাহ আলম বার বার পানি ও খাবার চাইলেও তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি কেউ। সাংবাদিক সেলিম সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাকে খাবার ও পানি খেতে দেন। সাংবাদিক নেতা গনেশ দাশের পরামর্শে শাহ আলমের ছবি তুলে নিয়ে তার পরিচয় সনাক্তের জন্য রংপুরের একজন সাংবাদিকের আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করানোর ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও তিনি বিষয়টি শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির ও থানার ওসি মিজানুর রহমানকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।

সাংবাদিক নেতা গনেশ দাশের অনুরোধে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে পাঠানো হয় এ্যাম্বুলেন্স। কিন্ত এ্যাম্বুলেন্সটি পৌছার আগেই দুপুর সাড়ে ১২টায় পুলিশ ভ্যানে তুলে তাকে প্রথমে নিয়ে যায় শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে নেয়া হয় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে। সেখান থেকে নেয়া হয় শজিমেক হাসপাতালে। হার্টের রোগী হিসেবে তাকে রাখা হয় হার্ট ইউনিটের সিসিইউতে। এই যে দীর্ঘ সময়। করোনা আক্রান্ত এই রোগীর সাথে মেলামেশা করেছেন ট্রাকে থাকা যাত্রী, পুলিশ, নার্স, ডাক্তার, গণমাধ্যম কর্মীসহ অনেকে। শাহ আলমের পরিচয় হওয়ার পর তার বাড়ি থেকে দেখতে এসেছেন তার স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয় স্বজন।

শাহ আলম করোনায় আক্রান্ত এ খবর জানাজানি হওয়ার পর যারা তার সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের মাঝে শুরু হয় করোনা আতঙ্ক। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে শাহ আলমকে বহনকারী ভ্যান চালক, এ্যাম্বুলেন্স চালক, চিকিৎসক, নার্স, পুলিশসহ ২৪ জনকে পাঠানো হয় কোয়ারেন্টাইনে। কোয়ারান্টাইন থেকে বাদ যাননি প্রথম সংবাদ দাতা সেলিম উদ্দিন। শাহ আলমের স্ত্রী তার স্বামীর সাথে অবস্থান করলেও জামাই চলে যান রংপুরে। সেই সংবাদে রংপুরে তার বাড়ীও করা হয় লক ডাউন। শাহ আলম বগুড়ায় প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় কিছুটা হলেও করোনা আতংক ছড়িয়ে পড়ে চারদিক। শাহ আলম চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিনে দিনে সুস্থ হতে থাকে। কিন্তু শাহ আলমের স্ত্রী স্বামীর সেবায় নিয়োজিত থাকলেও তার মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দেয় নি। চিকিৎসাধীন শাহ আলম ও তার স্ত্রীর নমুনা পর পর দুই বার পাঠানো হলেও তাদের রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ হওয়ায় চিকিৎসক বলছেন শাহ আলম সুস্থ হওয়ার পথে। এদিকে কোয়ারান্টাইনে থাকা পুলিশ,সাংবাদিক,চিকিৎসক,নার্স,ভ্যানচালক,এ্যাম্বুলেন্স চালকসহ প্রত্যেকের দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তাদের কারো মধ্যে করোনার কোন উপসর্গ দেখা দেয় নি। সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল শাহ আলম ও তার স্ত্রীর আবারো নমুনা পাঠানো হয়েছে। এবারও নেগেটিভ আসলে করোনা যুদ্ধে জয়ী শাহ আলমকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.