Ultimate magazine theme for WordPress.

কোম্পানীগঞ্জে নদী ভাঙন কবলিত অর্ধশত পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

2,447

কায়ছার হামিদ পাপ্পু :

“ভোটের সময় যে বার কেজি চাইল দিছিলো, তার হরে আর কনদিন কেও দেখতো আইয়ে নয়।” শত বছর বয়সী মাআদা খাতুন হাজারো কষ্ট আর কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাটা বলছিলেন এ প্রতিবেদকের কাছে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নদী ভাঙন কবলিত এমন শত মানুষের কান্না আর দুর্ধশার কথা শোনার কেউ নেই। নির্বাচনের সময় ভোটের জন্যই নাকি জনপ্রতিনিধিরা তাদের খোঁজ নেয়। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর চেয়ারম্যান মেম্বার কাউকেই চোখে দেখেনা উপকূলীয় অঞ্চলের মানবেতর জীবনযাপনকারী মানুষগুলো।

এমন দুঃখী মানুষগুলোর একজন চরফকিরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রাম এলাকার মৃত আবদুল হকের স্ত্রী শতবছর বয়সী বৃদ্ধা মাআদা খাতুন। বয়সের ভারে ভেঙে পড়ায় বেশীর ভাগ কথাই মুখে বেজে বেজে আসছিল। নদীর ভাঙন দেখতে দেখতে নদীর গর্ভে চলে যাওয়া একটা ভাঙা বাড়ীতে ঢুকতেই চোখে পড়ল, নদীর ভেঙে যাওয়া পাড়ের উপর কোন রকম ভাবে ভাঙা বেড়া আর বস্তা দিয়ে জোড়া তালি দেয়া একটি একচালা কুড়ে ঘরের সামনে ক্ষুদার্ত চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে বৃদ্ধাটি। খালা কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করতেই কিসব বলে উঠল। ভালোভাবে বুঝার জন্য কাছাকাছি গেলে বৃদ্ধা কান্না জড়িত হয়ে বললেন তার পরিবারে আর কষ্টের কথা। অনেক বছর আগেই স্বামী মারা গেছেন। ৫জন সন্তান, ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে। ২ ছেলেই কোন রকম দিনমুজুরী কাজ করে নিজেদের পরিবার নিয়ে আলাদা থাকে। আর ৩ মেয়ে তাদের স্বামীর বাড়ীতেই থাকে। তাই তার খবর কেউ নেয় না। নদীর কূলের কুড়ে ঘরটিতে মাআদা খাতুন আর তার এক নাতি থাকে। যে নাতি নদীতে মাছ ধরে, বাড়ী বাড়ী কাজ করে সংসার চালায়। শেষে দেখালেন অবশিষ্ট ঘরের ভিটিটি নদী গর্ভে যাওয়ার অপক্ষোয়, এবার বৃদ্ধা যাবে কোথায় ?

companigonj_71banglanews

ছোট ফেনী নদীর অব্যাহত ভাঙনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে উপকূলীয় অঞ্চলের ভাঙ্গন কবলিত প্রায় অর্ধশত পরিবার প্রতিদিন এভাবে মানবেতর জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এদের দেখাশোনায় নেই কোন সরকারী বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ। উপজেলার চরফকিরা, মুছাপুর ইউনিয়নসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এসব মানুষদের মানবেতর জীবন চিত্র।

মাআদা খাতুনের মত গুচ্ছগ্রামের আরেক বৃদ্ধ চা দোকানদার মোঃ সেলিম(৬৫) জানান, ৩মেয়ে আর ২ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার পরিবার। এক মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর বাড়ীতে থাকে। পরিবারের বাকী ৫সদস্যকে নিয়ে সে কোন রকম ভাবে নদীর কূলে একটা কুড়ে ঘরে থাকে। পরিবারের আয়ের উৎস বলতে একটা চা এর দোকান। ওই চা দোকান করেই ৬জনের পরিবার কোনমতে চলে। চাপা কষ্টের কথা বলতে গিয়ে বলেন একবার ভাঙনে নিয়ে যায়, আবার অন্য জায়গায় দোকান দেয়।সর্বশেষ গুচ্ছগ্রাম বাজারটি নদী গর্ভে যাওয়ার সময় তার দোকানটাও চলে গেল।এভাবে করতে করতে অব্যাহত নদীর ভাঙনে পর পর চার বার তার চায়ের দোকান নদী গর্ভে চলে গেছে। এখন ভিটাবাড়ীটাও চলে যাচ্ছে। বাড়তি কোন জায়গা না থাকায় স্ত্রী, ছেলে সন্তান নিয়ে কোথায় যাবে এমন চিন্তায় দিনগুনছে সেলিম।

আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকায় উপকূলীয় এই মানুষগুলো এখন প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটায়। রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগীতার অনেক ধরনের আশ্বাস পেলেও, তাদের কাছে যায় না তেমন কোন সহযোগীতা। উপকূলের ঘরবাড়ীহীন দুঃখী এই মানুষগুলো সড়ক ও যোগাযোগ খাতে দেশের অন্যতম সফল এ মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে।

 

কেএইচপি

Leave A Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com