Ultimate magazine theme for WordPress.

কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রবাসীর বাড়ীতে ভাংচুর ও লুট, আহত-৩

7,896

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:

পুলিশের উপস্থিতিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রবাসীর বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ১২টায় সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামে কামলা বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বাহরাইন প্রবাসী ইমাম হোসেন রিয়াদকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তা এস.আই মাসুদ কামালের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে ধারনা করা হচ্ছে।

সন্ত্রাসীদের হামলায় ৩জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, প্রবাসী ইমাম হোসেন রিয়াদ (২৬), তার বোন শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী নুর জাহান আক্তার বীথি (১৪) এবং তার মা বেগম নাজু তাহেরা বেগম (৪৫)। প্রবাসীর বোন আহত স্কুল ছাত্রী বীথিকে অচেতন অবস্থায় কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহজাদপুর গ্রামের শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি দোকানে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ উপ-পরিদর্শক এস.আই মাসুদ কামালসহ সঙ্গীয় ফোর্সরা অবস্থান করছিল। এ সময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কবির আহম্মদের নেতৃত্বে মাকসুদ মিয়া, ইকবাল হোসেন, রিয়াজ হোসেন, সোহেল, রিয়াজ, সাইফুল, রবিন, স্বপন, মাকসুদ, ছালা উদ্দিন ও দিদারসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী বাহরাইন প্রবাসী ইমাম হোসেন রিয়াদের বাড়ীতে গিয়ে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

 

হামলাকারীরা ইমাম হোসেন রিয়াদ, তার বোন শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী নুর জাহান আক্তার বীথি ও তার মা বেগম নাজু তাহেরাকে মারধর করে। এসময় সন্ত্রাসীরা তাদের ঘর থেকে ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩২ হাজার টাকা, ৩টি মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সামগ্রী লুটপাট করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

 

আহত বীথির মা বেগম নাজু তাহেরা অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা গভীর রাতে তাদের বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট করার পরও তার ছেলে প্রবাসী রিয়াদকে মিথ্যা ও সাজানো অপহরণ মামলায় আসামী করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে রিয়াদের মা বেগম নাজু তাহেরা বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানাযায়।

 

পুলিশ উপ-পরিদর্শক মাসুদ কামালের সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাত ১০টায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাকে শাহজাদপুরের অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা কথিত অপহৃত রুবেলকে আমার কাছে রেখে তারা আসামী ধরে আনার কথা বলে কামলা বাড়ীতে যায়। পরে তারা রিয়াদকে ঐ দোকানে নিয়ে আসে। হামলা, ভাংচুর, লুটপাটের বিষয়ে আমি জানি না।

ঘটনায় অভিযুক্ত কবির হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি হামলা করার জন্য কোন নির্দেশ দিনাই। হামলাকারীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী বলে শুনেছি। এতে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবদুল মজিদ জানান, সংবাদ পেয়ে রাত ১টায় আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কবির আহম্মদসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। উত্তেজনাকর অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের চাপে পড়ে প্রবাসী রিয়াদকে থানায় নিয়ে আসতে তারা বাধ্য করে।

 

কেএইচপি

Leave A Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com