Ultimate magazine theme for WordPress.

কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষার্থী নির্যাতনের প্রতিবাদে শিক্ষক বহিষ্কার, সড়ক অবরোধ ও ভাংচুর

2,848

কায়ছার হামিদ পাপ্পু :

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষককে বহিষ্কার করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ করে। এ সময় বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি রাসেল চৌধুরী বিজয়কে ক্লাস রুমে আটক করে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সিরাজপুর পিএল একাডেমী স্কুলে উক্ত ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসী ও বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুলের অফিস সহকারী ধনেশ্বর দেবনাথ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ক্লাসে চুল ধরে মুখে চড় ও ঘুষি মারাসহ আপত্তিকরভাবে ছাত্রীদের গায়ে হাত তোলার একাধিক ঘটনা ঘটায়। এ সব ঘটনার প্রতিবাদ করায় ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা শহিদ উল্যাহকে স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষক হাবিব উল্যাহ বহিষ্কার করে।

 

ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা শহিদ উল্যাহকে বহিষ্কারের ঘটনা শিক্ষার্থীরা জানার পর বুধবার ক্লাস বর্জন করে স্কুল আঙ্গিনায় বিক্ষোভ মিছিল করে সড়ক অবরোধ করে। বুধবার বিক্ষোভ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে  শিক্ষার্থীরা আসারপর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্দেশে প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিব উল্যাহ তাদেরকে বেত্রাঘাত ও শারীরিক নির্যাতন করে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করায় এবং বুধবারের ঘটনা ফেসবুকে প্রচার করায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্দেশে ছাত্রলীগ ওই বিদ্যালয় শাখার সভাপতি ১০ম শ্রেণীর ছাত্র রাসেল চৌধুরী বিজয়কে ক্লাস রুমে আটক করে নির্যাতন করে তার মোবাইল জব্দ করা হয় বলে খবর পাওয়া যায়। প্রধান শিক্ষক বেত্রাঘাত ও শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে আন্দোলন করতে চাইলে তাদের নানা রকম হুমকি দেয়া হয়।

অপরদিকে  বিক্ষোভ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিব উল্যাহ সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন।

 

প্রধান শিক্ষককের স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরণ, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মানষিক নির্যাতনসহ নানা অনিয়নের অভিযোগ করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। এ ঘটনার পর উপজেলার লোহারপুল এলাকায় ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উত্তেজনা তৈরী হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিব উল্যাহ জানান, ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা শহিদ উল্যাহ’র বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগে স্কুল পরিচালনা কমিটি তাকে ১১ মার্চ থেকে ১৫ দিনের জন্য তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছে। কিন্তু এতদসংক্রান্ত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির লিখিত কোন কপি দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক। অপরদিকে ১৬মার্চ ২০১৭ তারিখে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত সূত্র সিপিএলএ/কোম্পা/নোয়া/সা.ব/২৭ নং স্মারকে বহিষ্কার আদেশে ১৫ দিনের কথা উল্লেখ নেই।

 

অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা শহিদ উল্যাহ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিব উল্যাহ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি প্রফেসর মমিনুল হক এর নিকট আত্মীয় ওই বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক এনায়েত উল্যাহ ও আবুল হাসেমের সাজানো ষড়যন্ত্র।

 

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি প্রফেসর মমিনুল হক জানান, ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা শহিদ উল্যাহ’র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা মোঃ শহিদ উল্যাহর বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক হাবিব উল্যাহ ও অফিস সহকারি ধনেশ্বর দেব নাথ আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে প্রধান শিক্ষক সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করে।

 

কেএইচপি

Leave A Reply

Your email address will not be published.