Ultimate magazine theme for WordPress.

কোরবানীর হাটকে ঘিরে ১ লাখ পরিবার স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছে বগুড়ায় ।

355

 

কোরবানীর বাজার সামনে রেখে গরুর খামারীরা কোটি টাকা আয় করতে শুরু করেছেন বগুড়ায়। জেলায় খামার গড়ে বেকারত্ব দূর করে প্রায় ১ লাখ পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসতে শুরু করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে খামারিরা এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোরবানির গরু বিক্রি হচ্ছে। সরকারিভাবে ২৭ হাজার বলা হলেও ছোট বড় মিলিয়ে জেলায় প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি গরুর খামার পাওয়া যাবে। এসব খামারে লালন পালন করা গরু এখন ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করে দ্রুত আয় করছে খামারিরা।বগুড়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রতিবেদক নুরনবী রহমান কে জানান, বগুড়া জেলায় তালিকাভুক্ত খামারের বাহিরেও ছোট কিছু খামার রয়েছে। যেখানে ২ টা থেকে ৩টা গরু আছে। তাদের সঠিক হিসাব না হলেও প্রচুর রয়েছে জেলায়। কোরবানীর হাটকে ঘিরে তারা প্রতিবছর বেশ ভাল আয় করেন। এমন অনেকেই আছেন যারা গরু বিক্রি করবার খামার বড় করেন। জেলার প্রায় সকল কোরবানীর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। হাটগুলোতে কোরবানীর পশুর সরবরাহ বেড়েছে। কোন কোন হাটে কোরবানীর পশুর সরবরাহ বেশি থাকলেও ক্রেতা কম ছিল। খামারে এবার প্রচুর পরিমানে দেশীয়জাতের গরু পালন করা হয়েছে। খামারে লালন পালন করা গরুর সংখ্যা বেশি হবে। এ বছর গরু ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬২ টি, মহিষ ২ হাজার ৪৮ টি, ছাগল দেড় লক্ষাধিক, ভেড়া সাড়ে ২৬ হাজার নিয়ে মোট গবাদিপশু রয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৮টি।মোট খামারী রয়েছে ২৬ হাজার ৯৩০ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২১ হাজার। এসব খামারে ৩ থেকে ৪ জন করে শ্রমিক রয়েছে। এই শ্রমিক মিলিয়ে খামারির জনবল সংখ্যা একলাখের বেশি হবে। বগুড়া জেলায় কোরবানীর পশুর চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার। গত বছর কোরবানী দেয়ার সংখ্যা ছিল সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার ৪০৫টি। তিনি জানান, জেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু লালন পালন হয়। বাড়তি পশুগুলো বিভিন্ন জেলায় চলে যায়। সবচেয়ে বেশি যায় ঢাকায়। এছাড়া চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেটে যায় কোরবানীর পশু। বগুড়ায় কোরবানীর হাটকে সামনে রেখে বাণিজ্যিকভাবে গরুর খামার গড়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক খামারে দেশীজাতের পাশাপাশি মাংসালো গরু যেমন ব্রাহমা, ভারতীয় হরিয়ানা, পাকিস্তানি ও ফ্রিজিয়ানজাতের গরু পালন হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাণিজ্যিকভাবে গরুর ফার্ম গড়ে তুলেছেন কয়েক হাজার যুবক। জেলার নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট উপজেলায় খামারীরা এই বাণিজ্যিকভাবে গরুর খামার গড়েছেন। এইসব খামারে কাজ করছেন অসংখ্য শ্রমিক। কোন শ্রমিক রয়েছেন দিন হাজিরা। আবার কেউ আছেন মাসিক বেতনে। আবার খামারগুলোতে বেকার যুবকরা আসছেন খামার গড়ার বিভিন্ন কৌশল জানতে। অনেকে আবার খামারও গড়েছেন। খামার গড়ে এখন তারা ভাল আয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিহারার এক খামারী প্রতিবেদক নুরনবী রহমান কে জানান, তার খামারে তিনি এবার ১০০টি গরু লালন পালন করে কোরবানীযোগ্য করে তোলেন। দেশীজাতের গরুর পাশাপাশি মংসের জন্য ব্রাহমাজাতের গরু লালন পালন করেছেন। পাবনাজাতের গরুও রয়েছে তার ফার্মে। তিনি দাবী করে জানান, কোন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় না, দেশীয় প্রক্রিয়ায় গরু মোটাতাজা করণ করেছেন। তিনি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে ইতিমধ্যে বেশিরভাগ গরু বিক্রি করেছেন। ঢাকা, চট্রগ্রাম ও বগুড়ায় তিনি গরু বিক্রি করেছেন। ৫০ থেকে ৪ লাখ টাকা মূল্যের গরু বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান তার খামারে ৪ জন শ্রমিক রয়েছে।উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ হাট বগুড়ার মহাস্থানগড় গরুর হাট। এই হাটের সাথে, ঘোড়াধাপ, সুলতানগঞ্জ হাট, শেরপুর হাট, সাবগ্রাম হাট, পল্লীমঙ্গল হাট, জয়বাংলা হাট, কালীতলা, পেরী হাট, নামুজাসহ প্রায় শতাধিক স্থানে হাট বসে। এই সব হাটে স্থানীয়ভাবে যেমন কোরবানীর পশু কেনাবেচা হয় ঠিক তেমনি অন্য জেলার জন্যও পশু কেনাবেচা হয়। বগুড়ার খামারীরা কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে খামারে কোরবানী উপযোগী পশু লালন পালন করে লাভের আশা করছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.