Ultimate magazine theme for WordPress.

গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল উৎপাদন বেড়েছে ৪২ হাজার মে. টন

568

গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। আব্হাওয়া অনুকুলে থাকলেও গত বছরের চেয়ে এবার আমের ফলন বেশি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। গত তিন বছরে বগুড়া অঙ্গলে আম উৎপাদন বেড়েছে ৪১ হাজার ৮ শ মেট্রিক টন। আর আম চাষ বেড়েছে সাড়ে ৯ শ হেক্টর জমি।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে প্রতিবেদক নুুরনবী রহমান এসব তথ্য জানান।গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বগুড়া, জয়পুরহাট,পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ৮ হাজার ১ হেক্টরে আম চাষ করা হয়। আর আম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৮৩ হাজার ২৪৪ মেট্রিক টন। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে আমের আবাদ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৪৫৫ হেক্টরে। উৎপাদন হয়েছিল ৯২ হাজার ১৪৫ সেট্রিক টন। 

সর্বশেষ গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৮ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১২১ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত ৩ বছরে এ অঞ্চলে আমের উৎপাদন বেড়েছে ৪১ হাজার ৮৭৭ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ২০১৬ সালে বগুড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ হেক্টরে উৎপাদন হয়েছিল ৩১ হাজার ২২০ মেট্রিক টন। জয়পুরহাটে ৭৫২ হেক্টরে উৎপাদন হয়েছিল ৬ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন। পাবনায় ২ হাজার ৩৮০ হেক্টরে উৎপাদন ছিল ২৯ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন। ২০১৭ সালে বগুড়ায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ৬৩৬ মেট্রিক টন, জয়পুরহাটে ৬ হাজার ১৯৩ মেট্রিক টন, পাবনায় ৩০ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন, ও সিরাজগঞ্জে ১৭ হাজার ২৪৩ মেট্রিক টন। ২০১৮ সালে বগুড়ায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ৬৩৬ মেট্রিক টন, জয়পুরহাটে ৬ হাজার ৯২৬ মেট্রিক টন, পাবনায় ৩২ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন এবং সিরাজগঞ্জ জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৬৯ মেট্রিক টন।
বগুড়া পৌর এলাকার উপসহকারি কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আশর জানান, নিয়ম ছাড়াই বিচ্ছিন্ন ও মনগড়া ভাবে আম চাষ করার ফলে আমরা কাঙ্খিত আম উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকি। অন্যান্য ফসলের ন্যায় আমের পরিচর্যা করতে হয়।
আমের মুকুল বের হওয়া থেকে মুকুল থেকে আম ফুটা পর্যন্ত আম গাছে নিয়মিত সেচ দিতে হয়। এতে হঠাৎ বৃষ্টি হলে আমের গ্রোথ বেশি হয়ে ফেটে নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে না। আমের মুকুল আম ফুটে বের হওয়া পর্যন্ত সাইফারমেথ্রিন, ইমিডাক্লোরোফিট গ্রুপের ওষুধ এবং সাথে ছত্রাকনাশক প্রোপিকোনাজিল গ্রুপের ওষুধ একসাথে স্প্রে করতে হবে। যা ডালপালা, পাতা ও ফুলে স্প্রে করতে হয়। এতে ম্যাংগো হপার ও ছত্রাকজনিত রোগ থেকে আমের মুকুল রক্ষা পাবে। আমের মুকুল থেকে গুটি বের হয়ে মোটার দানার সমান হলে আরো একবার স্প্রে করতে হয়। এরপর মাইক্রো নিউট্রিয়ান্ট এর ঘাটতি পূরণে সলুবর বোরন ও চিলেটেড জিঙ্ক প্রয়োজনীয় মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। ফলে ফর ফেটে নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে না। পাশাপাশি ফল তার লাবন্যতা ফিরে যায় ও উৎপাদন বেশি হয়। এছাড়া হরমোনজনিত কারণে গাছ থেকে ফল ঝড়ে যাওয়া রোথ করে। বাজারে বিভিন্ন ধরণের জৈব উজ্জীপক হরমোন ও পিজিআর প্রয়োজনীয় মাত্রায় বিকেলের দিকে স্প্রে করলেও ভাল ফল পাওয়া যায়। তাছাড়া ভাল ফল পেতে আম গাছে বছরে দুইবার জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়। বর্ষার শুরুতে ও বর্ষায় শুরুতে ও বর্ষার শেষে এসব সার ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ভাল মানের ফল পাওয়া যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.