Ultimate magazine theme for WordPress.

গোপন কথা হচ্ছে ফাঁস পুকুরে হয় চাউলের চাষ,

1,049

দিন বদলের বারো মাস /
পুকুরে হয় চালের চাষ/
পুলিশ কাটে ঘোড়ার ঘাস /
পাবলিকে খায় উল্টা বাঁশ।


এ ধরনের উদ্ভট ছড়া শুনে কেউ কেউ ভাবতেই পারেন যে, লোকজন সব পাগলা হয়ে গেলো নাকি ?

যারা এমনটা ভাবছেন,তারা মগের মুল্লুকে থাকেন, অথচ পাগলা হন না, এমনটা কীভাবে সম্ভব ? কারন, মগের মুল্লুকে যদি রডের বদলে বাঁশ দেওয়া যায়,মিশমিশে কালো কয়লা আর কঠিন পাথরও যখন হাওয়া হয়ে যায়,তখন পুকুরে চাউলের চাষ তো হতেই পারে ।

কি,বিশ্বাস হচ্ছে না ? কিন্তু ঘটনা যখন সত্য, তখন তো বিশ্বাস করতেই হয়।

কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক । পুকুরে মাছ চাষের বদলে এখন রীতিমত চাউলের চাষ হচ্ছে। মাছ চাষের চেয়ে পুকুরে চাউলের চাষ ইদানিং বেশ লাভজনক হওয়ায় এই বৈজ্ঞানিক পন্থা উদ্ভাবন করেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের সরকারি চাউল লুটেরা। এখন সেখানকার আশপাশের পুকুর গুলোতে ডুব দিয়ে চাউল সংগ্রহ করছেন এলাকার লোকজন।

রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার খবরে যারা হতাশ হয়েছিলেন, তারা এবার পুকুরে চাউল চাষের খবরে উন্নয়নের জয়গান গাইতেই পারেন।

যারা কয়লা গায়েব আর পাথর গায়েব হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন,তারাও এই খবরে উল্লসিত হতে পারেন। তবে উল্লসিত হোন আর আনন্দিতই হোন,বিষয়টা খুবই বেদনা দায়ক।

জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মাঝপাড়া মসজিদের পিছনে ৫টি পুকুর থেকে প্রচুর চাউল তুলে আনার পর এলাকায় পুকুরে চাউল চাষের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এক দুই কেজি নয়,হাজার হাজার কেজি চাউল পাওয়া যাচ্ছে । এই খবরে সরেজমিনে গেলে দেখা গেছে যে, সিরাজুল, আজিজুলের সহ আরও ৫টি পুকুরে ডুব দিয়ে লোকজন চাউল তুলে আনছে।

ঐ এলাকার পুকুর গুলোর পানিতে এখন চাউল পচা দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারনে পুকুরের মাছ ভেসে উঠেছে।

আজ ভরতপুর থেকে কিছু মানুষ বেড়াতে এসে পুকুরের পানির গন্ধ নিয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টা জানা জানি হয়ে পড়ে। পুকুরের পানির দুর্গন্ধ থেকে সাধারণ মানুষ ধারনা করছে হয়তো পাঁচটা পুকুরে শত শত বস্তা চাউল ফেলা হয়েছে। এই চাউল পঁচা গন্ধ পাশের বাড়ি ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, এই পুকুর গুলোর দুই পাশে দুই ইউ পি সদস্যের বাড়ি। একজন হলো মহিলা ইউ পি সদস্য শাবানা বেগম আরেক জনের নাম আহাম্মদ আলী।

গ্রামবাসীর ধারনা করছেন সরকারের দেওয়া ভিজিএফ চাউল আত্মসাৎ অথবা ক্রয় করে পরে বিভিন্ন গন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ফলে ভঁয়ে এই চাউল পুকুরে ফেলে দিয়েছে।

এদিকে পুকুরে চাউল চাষ করার পদ্ধতি নিয়ে আজিজুল মেম্বারের মোবাইল ফোনের অডিও ফাস হয়ে গেছে। কীভাবে তিনি পুকুরে চাউলের চাষ করছেন তার সবটাই উঠে এসছে ঐ মোবাইল কথোপকথনে। ফাস হওয়া এই অডিও নিয়ে এখন এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঐ মোবাইল ফোনের কথোপখন শুনে বুঝা যাচ্ছে যে পুকুরে চাউল চাষের মুল হোথা সেই আজিজুল মেম্বার নিজেই।

এই ঘটনায় সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের সাথে কথা বললে এ ব্যাপারে সে কিছুই জানে না বলে জানায়। আহাম্মদ আলী মেম্বরের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি বলেন, আমি কালীগঞ্জ আছি, পরে কথা হবে।

এ ঘটনা জানা জানি হওয়ার পর পার্শ্ববর্তী মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট থেকে খবর পেয়ে আমি এখানে এসেছি।উনি আমাকে তদন্ত করে আসল ঘটনা বের করতে বলেছেন। তিনি আরো বলেন, ।

এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম জানান, ঈদের আগের দিন সে সবুজ নামের এক বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাছ থেকে ২৬০০ কেজি চাউল ২৬ টাকা দরে ক্রয় করে চাল ব্যবসায়ী আজিজুল।

তবে আমি প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি ইউনিয়ন পরিষদে চাউল দেওয়ার পর সবুজ নামে এক ব্যক্তি ২৬ শত কেজি চাউল কিনে আজিজুলের নিকট বিক্রয় করেছে। গণমাধ্যমের বিভিন্ন তৎপরতার কারনে ভয়ে আজিজুর সেই চাউল পুকুরে ফেলে দিয়েছে মর্মে ধারনা করা হচ্ছে। সঠিক কত কেজি চাউল পুকুরে পাওয়া যাবে সে তথ্য না জানা গেলেও প্রায় ৩ হাজার কেজি চাউল হবে বলে এলাকাবাসী ধারনা করছে।

তবে চাউল যে সরকারী এই কথা মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বীকার করেছেন। এদিকে সবুজ চাউল ক্রয়ের কথা স্বীকার করে জানায়, আমি ৬৫ হাজার টাকার চাউল আজিজুলের নিকট বিক্রয় করেছি।

আজিজুলের সাথে মোবাইলে কথা বললে সে জানায়, সে আত্মীয়ের বাড়ি গেছে কিন্তু আজিজুলের স্ত্রী বলেন, সে সকালে চাতালে গেছে দুপুরে বাড়িতে খেতে আসেনি।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ এ ঘটনা জানার পরও বলেন, দোগাছি ইউনিয়নে ভিজিএফ চাউল চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমি ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পাঠিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে।

দৈনিক মহাস্থান.কম সম্পাদক নুরনবী রহমান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.