Ultimate magazine theme for WordPress.

চোখে ঘুম নেই নদী পাড়ে মানুষের

829

নদী ভাঙন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ । প্রতি বছর বর্ষা শুরুর আগেই শুরু হয় নদী ভাঙন । সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা , মেঘনা, যমুনা, ও ব্রহ্মপুত্র  এসব নদীর শাখা নদীর ভাঙনের আহাজারি তে  ভারী হয়ে উঠেছে নদী পাড়ের বাতাস। পদ্দা,মেঘনা, যমুনা ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা,আরিয়াল খাঁ গড়ায় নদীর রুদ্র মূর্তি দেখে আতঙ্কিত নদী পাড়ের মানুষ । সত্তর আশির দশক হতে এদেশে নদী ভাঙনের তীব্রতা যেমন বাড়ছে তেমনি ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও বাড়ছে  ।প্রতি বছর আমাদের দেশে আট হাজার সাতশ হেক্টর জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় ।যার বেশি ভাগ কৃষি জমি ।ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধেক মানুষের টাকার অভাবে ঘড় বাড়ি তৈরি করা  সম্ভব হয়না ।তারা হয়ে পড়ছে  গৃহহীন ছিন্নমূল ।এরা সাধারণত বাধ, রাস্তা , পরিত্যাক্ত   রেল সড়ক , সরকারি খাস জমিতে অবস্থান নেয় নদী ভাঙনের ফলে বাড়ছে সামাজিক ও পারিবারিক সঙ্কট বাড়ছে বেকারত্ত ।আমাদের দেশের ভূমিহীনদের ৫০ শতাংশ  নদী ভাঙনের শিকার ।বিশেষজ্ঞদের মতে নদী ভাঙনের ফলে এক ব্যাক্তির জীবনে ২২ বার ঠিকানা বদল করতে হয় ।নদী ভাঙনের ভয়াল থাবায় অবস্থা সম্পন্ন ফসলী জমির মালিক মুহূর্তে হয়ে পড়ছে নিঃস্ব । পদ্মা যমুনার ভাঙনে প্রতি নিয়ত মানুষের স্বপ্ন ভাঙছে । এমন কি মানুষ নিজেরায় নিজেদের হাতে তৈরি ঘরবাড়ী নিজেরায় ভেঙে ফেলছে ।চেনা নদী বাড়ির দুয়ারে এসে হানা দিচ্ছে অচেনা ভয়ঙ্কর রূপে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে নদী পাড়ের কোন কোন গ্রাম ।নদী ভাঙনের ফলে বসত ভিটা মাথা গোঁজার ঠাই গাছ পালা ,স্কুল, বাঁজার দোকান পাট, বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে তাই নদী পাড়ের মানুষের চোখে ঘুম নেই । নদী ভাঙনের ফলে বেকারত্ত বাড়ছে । ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ অভাবের তারনায় গবাদি পশু ,জমি জমা ,মূল্যবান সামগ্রী হাতছাড়া করছে ।খাবার পানি পয়নিস্কাসন ব্যাবস্তার তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।নদি ভাঙন এলাকায় স্কুল বন্ধ থাকছে দীর্ঘ সময় যার ফলে  দেখা যায়   ছাত্র -ছাত্রী  আগের মত আর স্কুলে ফিরছে না এতে একদিকে যেমন তাদের শিক্ষা জীবন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি শিক্ষা জীবন থেকে অনেক শিশু ঝরে পড়ছে তারা নিক্ষিপ্ত হচ্ছে প্রতিকূল পরিবেশে।
বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশ একটি পলি গঠিত বদ্বীপ হওয়ায় এখানকার ভুমি নদীর পানির ধাক্কায় সামান্য তোরে অতি সহজেয় ভেঙ্গে যায়। বর্ষাকালে বা বন্যার সময় নদিতে পানি বাড়লে বর্ধিত পানির চাপে নদীর ভাঙন হয়। যেখানে নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে সেখানে সৃষ্ট বাঁকের কারনে ভাঙন হচ্ছে নদী অনেক শাখায়  বিভক্ত হলে মধ্যবর্তী চরে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। নদীর পাড় নীচের দিকে অবস্থিত নরম পলি  মাটি পানির ধাক্কায় গলে যাবার ফলে নিচের দিকে ফাটল সৃষ্টি হয় যার ফলে উপড়ের শক্ত মাটি ধসে যায় এবং যার ফলে পাড় ভেঙে যায় ।  নদী ভরাট হওয়ার কারণে পানি বৃদ্ধির কারণে পাড়ের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে যার ফলে ভাঙনের সৃষ্টি হয় ।মানব সৃষ্ট কারন গুলোর মধ্যে আড়াআড়ি বাঁধ   নির্মাণ অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট করে মৌসুমি বর্ষার পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে নদীতে চাপ  এবং ভাঙনের সৃষ্টি হয়। তাই নদী ভাঙন রোধে সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি । ড্রেজিং এর মাধ্যমে নদী ক্ষনন ,বেপরোয়া বালি উত্তোলন বন্ধ  করতে হবে। নদীর নাব্যতা সঙ্কট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা করতে হবে । পরিকল্পিত নদী শাসন করতে হবে নদী  শাসনের জন্য বরাদ্দ কৃত অর্থের পরিপূর্ণ ব্যাবহার নিচ্চিত করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো কনক্রিটের ব্লক দিয়ে তীর বাধার ব্যবস্থা করতে হবে ,পাশাপাশি পরিকল্পিত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.