Ultimate magazine theme for WordPress.

জেলেদেরমন  উচ্ছ্বাসে মোকাম সয়লাব ইলিশে,

342

ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গতকাল মধ্যরাতে। তবে জেলেদের প্রস্তুতি ছিল তার আগেই। ফলে জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়তে সময় লাগেনি তাঁদের। উৎসবের আনন্দ নিয়ে দলে দলে বের হন ইলিশ শিকারে।

মধ্যরাতে মাছ শিকার শুরু করেছেন চাঁদপুরের জেলেরাও। নদীতে জাল ফেলার পর ভোর থেকেই শত শত জেলে নৌকাভর্তি ইলিশ নিয়ে মোকামে ফেরেন। জেলেদের মুখে এ সময় হাসির ঝিলিক। হাসির রহস্য হলো কাঙ্খিত মাছ পাওয়া। মুহূর্তে ভুলে গেছেন গত ২২ দিনের কষ্টের কথা। এ সময় তাদের মাথার ওপর ছিল নিষেধাজ্ঞার খড়গ। এখন বেশ কিছুদিন ইলিশ ধরতে পারলে পুষিয়ে যাবে বিগত দিনের ক্ষতি। এমন কথাই জানালেন বেশ কয়েকজন জেলে।

আর মোকামিরা বলছেন, নতুন করে মাছ ধরা শুরুর ফলে আবারো ব্যবসা জমে উঠতে শুরু করেছে তাঁদের ব্যবসা।

দক্ষিণের সাগর কিংবা মোহনা থেকে নয়, চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। এমনই নানা আকারের ইলিশ নিয়ে মোকামে ফিরেছেন শত শত জেলে। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের প্রধান পাইকারি ইলিশের বাজার বড়স্টেশন মাছঘাট ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এমন পরিবেশ কেবল এই মোকামেই নয়, চাঁদপুরের দক্ষিণের চরভৈরবী, কাটাখালী, আখনেরহাট, হরিণাঘাট, বহরিয়া, রনাগোয়াল, উত্তরে আনন্দবাজার, সফরমালি, কানুদী, আমিরাবাদ, মোহনপুর, বাবুরবাজার- এমনকি ষাটনল পর্যন্ত ইলিশের ছোটবড় মোকাম সব  ইলিশে ইলিশে সয়লাব।

জেলেরা জানান, স্থানীয় নদীতে শিকার করেই প্রচুর ইলিশ পেয়েছেন তাঁরা। আর দরদাম ভালো হওয়ায় সেই মাছ নিয়ে তারা এসেছেন আশপাশের মোকামে। ছোটছোট ইলিশের সঙ্গে বড় আকারের ডিমওয়ালা ইলিশও ধরা পড়ছে। তবে এ নিয়ে কেউ কেউ বলেছেন, প্রজনন মৌসুমের সময়সীমা আরো কয়েকদিন বাড়িয়ে দিলে ডিমওয়ালা ইলিশ এখন ধরা পড়তো না।

এদিকে, প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় দারুণ খুশি চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ীরা।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবেবরাত বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, এবার প্রথমদিনেই ইলিশে ইলিশে সয়লাব গোটা মোকাম। এমন ধারা মৌসুমের শেষপর্যন্ত থাকলে ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হবে। আরেক ব্যবসায়ী সম্রাট ব্যাপারী বলেন, বড় আকারের প্রতিমণ ইলিশ ২৭ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ২২ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, সরকারি অভিযান সফল হওয়ায় ইলিশের প্রাচুর্য বেড়েছে। তবে আগামী নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ অভিযান একইভাবে নিশ্চিত হলে এরপরও ইলিশের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

ইলিশ গবেষক, মৎস্যবিজ্ঞানী ড. মো. আনিছুর রহমান বলছেন, এবার নির্ধারিত সময় প্রজনন মৌসুম হওয়ার ফলে সাগরের নোনা পানি ছেড়ে নদীর মিঠা পানিতে ইলিশের ঝাঁক ছুটে এসেছে। তাছাড়া চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর তলদেশে ইলিশের বিশেষ খাবার প্লাংকটন রয়েছে। আর সুস্বাদু সেই খাবার খেতেই সাগর থেকে ইলিশ ছুটে আসছে।

গত ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সারা দেশের মতো চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সবধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। গতবছর দেশে ইলিশের মোট উৎপাদন ছিল পাঁচ লাখ ১২হাজার মেট্রিকটন।

 

 

 

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.