Ultimate magazine theme for WordPress.

তাঁর শরীরে করোনা পজেটিভ ছিল গাবতলীর সৈয়দ আহম্মদ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নজবুল হক’র দাফন সম্পন্ন

216

মুহাম্মাদ আবু মুসা ঃ বগুড়া গাবতলীর সুখানপুকুরস্থ সৈয়দ আহম্মদ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আলহাজ¦ নজবুল হক ইন্তেকাল করেছেন ইন্না—-রাজিউন। তিনি গত মার্চের প্রথম সপ্তাহে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সর্বশেষ স্কায়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে গত ৪দিন পূর্বে তাঁর শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেলে ঢাকাস্থ মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার বিকেল ৫টায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। দিনগত রাত সোয়া ৩টায় তাঁর মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসা হলে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী রাত সাড়ে ৩টায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাজা নামাজের ইমামতি করেন মরহুমের ছেলে হাফেজ মাসনবী। জানাজায় সরকারী কোন কর্মকর্তা না থাকলেও অংশ নেন মরহুমের পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নজবুল হক এর বোন জামাই ও কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মোঃ সাইদুজ্জামান এবং ভাতিজা ও কলেজের ইসলামী ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মুন্জুরে আলম রাসেল এর সাথে কথা বললে তাঁরা উপরোক্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর আলম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, খোঁজ-খবর নেয়া হলেও আমরা জানাজা বা দাফনে ছিলাম না। অধ্যক্ষ নজবুল হক এর মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪বছর, তিনি স্ত্রী, ২ছেলে, ১মেয়ে, নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। সাবেক এমএলএ মরহুম সৈয়দ আহম্মদ এর ২য় ছেলে অধ্যক্ষ নজবুল হক। ১৯৪৬ সালের ১২ডিসেম্বর জেলার তৎকালিন গাবতলী বর্তমান সোনাতলা উপজেলার শিহিপুর (সরকারপাড়া) গ্রামে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৬২সালে বগুড়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৬৪সালে সরকারী আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৬৮সালে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে গণিত বিষয়ে বিএসসি (অনার্স) ও ১৯৬৯সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এর পর ১৯৭১ সালের ১২জানুয়ারী সৈয়দ আহম্মদ কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১সালের ১২ডিসেম্বর তিনি অবসর গ্রহন করলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে (নজবুল হক) কলেজের উপদেষ্ঠা হিসেবে রাখেন। গ্রাম অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে বর্তমানে প্রায় ১০হাজার ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কলেজে ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। তিনি সুনামধন্য ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছাড়াও ১৯৮৫সালে সোনাতলা উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ছাড়া নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এলাকাবাসি হারালেন এক মহান মানুষকে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.