Ultimate magazine theme for WordPress.

দাগনভূঞা থানায় নেই গ্যাস সংযোগ, আবাসন ও পরিবহণ সংকট

549

মো. বজলুর রহিম সুমন, ফেনী :

এইতো সেদিন পেশাগত কাজে গিয়েছিলাম দাগনভূঞা থানায়। খানিক্ষণ পর একটি ফোন রিসিভ করতে থানা ভবনের পাশে গেলে চোখে লাগে ধোঁয়া, নাকেও খানিকটা দুর্গন্ধ। আরেকটু এগিয়ে যেতে দেখলাম বড় একটি চুলায় চলছে রান্নার কাজ। ভাতের অপসারিত মাড় ও আবর্জনার দূর্গন্ধে পাশ দিয়ে চলার উপায় নেই। জিজ্ঞেস করতেই এক কনস্টেবল বললেন গ্যাস সংযোগ না থাকার কথা। একটু আশ্চর্যই হলাম, একি থানায় গ্যাস সংযোগ নেই! তাও আবার পৌর এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের পাশের থানায়। আগ্রহ নিয়ে জানতে গেলাম সীমানা প্রাচীরের বাইরে। জানা গেল, অবাক হওয়ার মত তথ্য। থানার সামনে-পেছনে, ডানে-বামে সবদিকেই রয়েছে গ্যাস সংযোগ। শুধু থানায় নেই। এইতো গেল ভেতরের সমস্যা। রয়েছে আবাসিক সমস্যা। যেটুকু আছে তাও প্রয়োজন সংস্কারের। পরিবহণ সংকট আরো তীব্র।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, থানায় কর্মরত পুলিশের আবাসন ও পরিবহণ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংকট-সমস্যায় নাভিশ^াসে ওঠা পুলিশের আবাসন বলতে থানার পরিদর্শকের (ওসি) একটি ছোট বাসা আর ফোর্সের জন্য দু’টি ব্যারাক। তাও আবার দুটোরই দরকার মেরামত জানালেন পরিদর্শক মো. আসলাম উদ্দিন। পরিবহণ বলতে রয়েছে একটি জিপ। পুরনো জিপটিকে ফেলা যায় ফিটনেসহীন পরিবহণের তালিকায়, বৃষ্টিতে পানি পড়ে অঝোরে। বেশিরভাগ সময়ই থাকে বিকল। একটিমাত্র জিপ দিয়েই চলে জরুরী, পেট্রোল, ভিআইপি ও ভিভিআইপি ডিউটি। প্রায়ই জরুরী প্রয়োজনে পড়তে হয় সমস্যায়। ১ শ’ ৪১ বর্গ কিলোমিটারের থানায় একটি মাত্র জিপ দিয়ে সেবা দেয়া খুবই দুরুহ। এজন্য অনেক সময় দ্রুত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন সেবা প্রত্যাশীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দ্বিতল বিশিষ্ট থানার নীচতলায় পরিদর্শক ও পরিদর্শক (তদন্ত)-এর জন্য দু’টি ছোট্ট কক্ষ। রয়েছে মুন্সিখানা, হাজতখানা, মালখানা আর একটি অস্ত্রাগার। অন্য একটি ছোট কক্ষে চলে ডিউটি অফিসারের দাফতরিক কাজ। রয়েছে ছোট আরো একটি কক্ষ, সেখানে কাজ করেন অন্য কর্মকর্তারা। যেটি ব্যবহৃত হয় অফিস হিসেবে, সেটিই আবার ডাইনিং। এভাবেই দিনের পর দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে এ থানার সংকট। দেখা গেছে, জব্দ করা অবৈধ যানবাহন ও মালামাল রাখার কোন ব্যবস্থা নেই, ফলে থানা অভ্যন্তরে চলাচলের পথে ও কক্ষসমূহের সামনেই রাখা হয়েছে যানবাহনগুলো। বহু টাকার সম্পদ রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। এতে পরিবেশ যেমন নোংরা দেখাচ্ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ।

ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের দোতলায় রয়েছে ফোর্সদের দু’টি ব্যারাক। আনুমানিক আড়াইশ বর্গফুটের একেকটি ব্যারাকে রয়েছে ১৭/১৮ জন ফোর্সের আবাসনের ব্যবস্থা। জরুরী মুহুর্তে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্য তৈরী রয়েছে টিন দিয়ে ঘেরাও করা একটি কক্ষ, আর ৬০-৭০ বর্গফুটের একটি কক্ষে থাকেন ২ জন উপ-পরিদর্শক। বলা চলে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত কারাগারে থাকার মত অবস্থা ব্যারাক দু’টোর। এছাড়া ভবনের অনেকখানি দেয়াল স্যাতস্যাতে, আবার কোথাও পলেস্তরা খসে পড়ার অপেক্ষায়, ভারি বৃষ্টিতে দু’এক জায়গায় দেয়াল ছুঁইয়ে পানি পড়ে ভেতরে।

একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, পৌরসভার মধ্যে অবস্থিত হলেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ অফিসে নেই গ্যাসের সংযোগ। মান সম্মত চুলাও ছিলনা রান্না করার। বর্তমান ওসি মো. আসলাম উদ্দিন যোগদান করার পর সংকট দেখে বিশ হাজার টাকা খরচে একটি চুলা বানিয়ে দেন। জ¦লে পুড়ে চুলায় রান্না করায় অভ্যস্ত তারা। ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা অপ্রতুল, যতটুকু আছে সেটিও নাজুক। পাশে জ¦ালানী দিয়ে রান্না করায় ভবনের স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে। আশংকা রয়েছে যে কোন ধরণের দূর্ঘটনার। সংস্কারের অভাবে টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, দরজা ভেঙ্গে যাচ্ছেতাই অবস্থা। প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্যের জন্য পুকুরের ঘাটটিও একদমই সংকীর্ণ। একসঙ্গে ২/৩ জনের বেশি ঘাটে নামা যায়না।

সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছেন. সারাদিন খাটা-খাটুনি। সন্ধ্যে থেকে মধ্যরাত অবধি পেট্রোল ডিউটি শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিদর্শক (তদন্ত),এসআই ও এএসআইদের ভাড়া বাসায় ফিরতে হয়। তাদের আবাসনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের ঝুঁকি নিয়েই চলতে হয়। প্রসঙ্গক্রমে জানা গেছে, নাশকতা, জ¦ালাও পোড়াও কালীন সময়ে দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনওয়ারুল আজিম বোমা হামলার শিকার হয়েছিলেন। তাছাড়া মহিলা পুলিশ সদস্যকেও রাত্রি যাপনে যেতে হয় ভাড়া বাসায়। এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্কিত ঘটনা।

জানা যায়, থানা প্রতিষ্ঠার সময় তহবিল সংকটে গ্যাসের সংযোগ নেয়া যায়নি। ওসি আসলাম উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর উদ্যোগ নিয়ে তহবিল পাশ করিয়ে নিলেও অপ্রতুল তহবিলে গ্যাস সংযোগ প্রদানে আপত্তি করে বাখরাবাদ। তাছাড়া গ্যাসের সংযোগ দেয়া নিয়ে সরকারের বিধি নিষেধতো রয়েছেই। তীব্র সমস্যা খাবারের পানিরও, অতি মাত্রায় আয়রণের ফলে ৩টি টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

এ প্রসঙ্গে থানার পরিদর্শক মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, যথাসময়ে জনগনের জান মালের নিরাপত্তা বিধানে পরিবহণ সংকট দূর করা দরকার। একইসঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তায় থানা অভ্যন্তরে আবাসিক ভবন নির্মান করা হোক, এজন্য এ থানায় পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। আমি সরকার ও আমাদের বিভাগের উর্ধ্বতন স্যারদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

কেএইচপি

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.