Ultimate magazine theme for WordPress.

নিজের পরিবারের সবাইকে হারিয়ে এদেশকে ভালোবেসে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী-সংসদে এমপি মুক্তা

1,485

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরজাহান বেগম মুক্তা বলেছেন, দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে তখন সুবিধাবাদী সুশীল সমাজ এবং তথাকথিত পরিবেশবাদীরা নিজেদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে বলে রামপাল প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। রাজধানী ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা যখন মরে যাচ্ছে তখন তারা কোনো কথা বলছেন না। এমনকি বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ নিয়েও তাদের নেই কোনো আন্দোলন। সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং দেশকে পিছিয়ে রাখতেই তারা রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরজাহান বেগম মুক্তা। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন দেশ বিরোধীরা মেগা প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। এটা কখনোই দেশের জনগণ মেনে নেবে না। মুক্তা বলেন, সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না রামপাল প্রকল্পের কারণে, একথা যুক্তি দিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও কোন উদ্দেশ্যে তারা এর বিরোধিতা করে যাচ্ছেন তা বোধগম্য নয়।

মুক্তা পরিবেশবাদীদের একহাত নিয়ে আরো বলেন, আপনারা অনেকেই জীবনে একটি গাছও রোপন করেননি। এমনকি সুন্দরবনেও কখনো যাননি। আগে সুন্দরবনে গিয়ে থাকুন তারপর আন্দোলন করুন। এছাড়া বড় বড় কথা বলার আগে, নিজেরা যে এসি রুমে বসে থাকেন সেখানেও এসি থেকে বিষাক্ত গ্যাস বের হয়, সেটি নিয়ে কথা বলেন না। নীমতলিতে ক্যামিকেল বিস্ফোরনে নিহত শত শত লোকের পাশে আপনাদের দাঁড়াতে দেখা যায়নি। রাজধানীর বুকে ট্যানারি থাকলেও সেগুলো সরানোর জন্য আপনারা পরিবেশবাদীরা হরতাল ডাকেননি। আপনাদের আন্দোলন শুধু রামপালের বিরুদ্ধে।

তিনি স্পষ্টভাষায় বলেন, রামপালসহ আরো মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আর গরিব থাকবে না। এদেশের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের পরিবারের সবাইকে হারিয়ে এদেশকে ভালোবেসে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক আর কে হতে পারেন। তিনিই ভালো বুঝেন দেশের জন্য কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ। বাংলাদেশকে ডিজিটাল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে প্রশংসনীয় পরিশ্রমের জন্য প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রবক্তা। আমি নিজে যখন, যেখানে যাই, দেশ-বহির্বিশ্বের সব কিছু জানার জন্য আমার নিত্যসঙ্গী ল্যাপটপ। সবাইকেই ডিজিটাল হতে হবে। তাহলেই দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, পরিবেশবাদীরা ঢাকার রাস্তায় গাড়ির তীব্র হর্নের বিরুদ্ধে অর্থাৎ শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না, নিমতলীতে ক্যামিকেল বিস্ফারনে কত মানুষ মরলো, সেখান থেকে ক্যামিকেলের গুদাম সরানোর জন্য কোনদিন হরতাল দেননি।

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি প্রসঙ্গ টেনে নূরজাহান বেগম মুক্তা বলেন, কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। কিন্তু খালেদা জিয়া ও ইউনূস গংরা মিলে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে নানা ইন্ধন যুগিয়েছিল সেসময়। তাদের বিচার হওয়া উচিত।

নিজ এলাকা হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির মানুষের জন্য প্রতি ঘরে ঘরে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পৌঁছে দিতে বিদ্যুতের আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নূরজাহান বেগম মুক্তা।

তিনি আরো বলেন, ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর- এটা একটা ব্র্যান্ডিং। এটাকে কাজে লাগিয়ে চাঁদপুরে একটি অাধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি এখন মানুষের দাবি। চাঁদপুরে আধুনিক নদীবন্দর তৈরির কাজ দ্রুত আরম্ভ করার দাবি জানিয়ে

চাঁদপুর-ঢাকা সরকারি লঞ্চ/ স্টীমার চালু, ডাকাতিয়া নদী ও বোয়ালজুরি খাল অবিলম্বে ড্রেজিং করা, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তির রাস্তাগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও প্রয়োজনমত নতুন রাস্তা পাকাকরনের দাবী জানান মুক্তা। এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক  সেলাই মেশিনের সংখ্যার পরিমাণ বাড়ানোর তাগিদ দেন, বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য আরো সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের আহবান জানান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com