Ultimate magazine theme for WordPress.

নেইমারের প্রশংসায় আর্জেন্টিনা কোচও

859

গ্রিক পুরাণের বীর যোদ্ধা অ্যাকিলিসের কথা মনে আছে? নিজের দলকে সঙ্গে নিয়ে যিনি ট্রোজান যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি পাল্টে দিয়েছিলেন। যুদ্ধে নামার আগেই যাঁর প্রতি একটা শ্রদ্ধা মেশানো ভয় কাজ করত প্রতিপক্ষের মনে।
রূপকগুলোকে একটু বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচটা যদি ট্রোজান যুদ্ধের মতো হয়, তবে এই ম্যাচের অ্যাকিলিস কে? চোট যেহেতু লিওনেল মেসিকে কেড়ে নিয়েছে, তো একজনই তো আর বাকি থাকেন—নেইমার। গ্রিক বীরের মতো এই ‘অ্যাকিলিস’ও যুদ্ধের আগে সম্মান আদায় করে নিলেন প্রতিপক্ষ শিবির থেকে। আর্জেন্টিনার কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর কাছ থেকে সময়ের ফুটবলের সম্ভবত সর্বোচ্চ স্বীকৃতিটাই পেলেন নেইমার। ব্রাজিল ফরোয়ার্ড যে এখন আগুনে ফর্মে আছেন। মার্টিনো বলছেন, নেইমার​ নিজের খেলাটিকে নিয়ে গেছেন মেসি-রোনালদোর মানে।
বার্সার কোচ থাকার সময় নেইমারকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেটি ছিল ইউরোপে এই ব্রাজিলিয়ানের প্রথম মৌসুম। সেবার কলি হয়ে ফুটতে শুরু করলেও, ফুল হয়ে ফুটেছেন তিনি গত মৌসুম থেকে। আর এখন তো যেন সবগুলো পাপড়ি মেলে সবুজ মাঠে সুবাস ছড়াচ্ছেন। নেইমারের এই উত্থান কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই বার্সার দায়িত্ব ছেড়ে আর্জেন্টিনার ভার নেওয়া মার্টিনো বললেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। আমি খুব ভালো নেইমারকে পেয়েছি। ও যা করছে সেটি ওকে বাকি দুই খেলোয়াড়ের (মেসি ও রোনালদো) পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, যে দুজনকে আমরা অন্য সবার চেয়ে ওপরে রাখি।’

ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন নেইমার। এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন, করিয়েছেন আরও ৬টি। আর জাতীয় দলের হয়ে নেইমার তো বরাবরই দুর্দান্ত, যেখানে তিনি মেসি-রোনালদোর চেয়েও এগিয়ে। মার্টিনোও বলছেন, ‘নেইমার এখন পরিপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। ও সেরা ফর্মে আছে।’
এই ফর্মটা নেইমার জাতীয় দলেও টেনে আনলে সেটা আর্জেন্টিনার জন্য ভয়ংকর অভিজ্ঞতাই হবে। আলবিসেলেস্তেরা যে বাংলাদেশ সময় কাল সকাল ৬টায় শুরু ম্যাচে পাচ্ছে না নিজেদের ‘অ্যাকিলিস’ মেসিকে। তবে এতেই ‘সুপারক্লাসিকো’তে ব্রাজিলের পাল্লাটা ভারী হয়ে যাচ্ছে—এটাও মানতে নারাজ মার্টিনো, ‘আপনার দলের খেলোয়াড় না-থাকাটা সব সময়ই প্রতিপক্ষের জন্য স্বস্তির। তবে এতেই কি ব্রাজিল ফেবারিট হয়ে যাচ্ছে? আমার মনে হয় না। এটা একটা ধ্রুপদি লড়াই। দুদলেই বেশ ভালো অনেক খেলোয়াড় আছে। ম্যাচটা সমানে-সমানে হবে।’
গ্রিক পুরানের অ্যাকিলিসের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা ছিল তাঁর পায়ের গোড়ালি। নেইমারের যা ফর্ম, তাতে এই ম্যাচ সমানে-সমানে শেষ করতে হলেও কোনো ‘অ্যাকিলিস হিল’ খুঁজে বের করতে হবে মার্টিনোকে। তথ্যসূত্র: গোলডটকম।

Leave A Reply

Your email address will not be published.