Ultimate magazine theme for WordPress.

নোয়াখালী বিভাগের দাবীতে রাষ্ট্রীয় দ্বায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে খোলা চিঠি

2,043

নোয়াখালী ভাষাভাষী অঞ্চল বা বৃহত্তর নোয়াখালী তথা ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর এর লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রানের দাবী নোয়াখালী বিভাগ। বিভাগের এই দাবী অাজ বা গত কয়েকবছরের দাবী নয়। এটা নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী। তৎকালীন মুশফিক কমিটি নোয়াখালীকে বিভাগ করার জন্য সর্বপ্রথম দাবী জানায়। তারপর থেকেই শুরু হয় নোয়াখালীকে বিভাগ করার অান্দোলন। নোয়াখালীবাসী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রানের এ দাবীটি জানিয়ে অাসছে, সেটা অনলাইনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, গনমাধ্যমে, এমনকি রাজপথে। লক্ষ লক্ষ মানুষ শুধু নোয়াখালীর রাজপথেই নয় ঢাকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নোয়াখালীকে বিভাগের দাবীতে রাজপথে নেমেছে নোয়াখালীবাসী।

 

অথচ অাশ্চার্য হওয়ার বিষয় হল সরকার বা নোয়াখালীর প্রশাসনিক ক্ষমতাসীন লোকেদের কেউই কখনও নোয়াখালীর প্রানের এই দাবী নিয়ে তেমন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই এদেশের সরকার, প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছে নোয়াখালীর সন্তানেরাই। অাগের কথা বাদই দিলাম বর্তমান সরকারদলীয় দলের সাধারন সসম্পাদক ও সরকারের মন্ত্রীসভার অন্যতম ক্ষমতাধর যোগাযোগ মন্ত্রী, সংসদের স্পীকার, সেনাপ্রধান, ঢাকার মেয়র, প্রধানমন্ত্রীর সহকারীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ বিভিন্ন পর্যায়ে নোয়াখালীর লোক। যার কারনে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার লোকেরা বলে ” দেশ এখন নোয়াখালী সমিতি “। প্রশাসনে এত নোয়াখাইল্লার ছড়াছড়িতেও নোয়াখালী বিভাগের ব্যাপারটির অগ্রগতি হয়নি অাজও। অামরা নোয়াখালীর সাধারন জনতা হিসেবে এতদিন ধরে বিভাগের দাবী জানিয়ে অাসছি, অথচ অাপনাদের একটি কথায় নোয়াখালী বিভাগের দাবী অারো ত্বরান্বিত হতে পারত। অাপনারা একটু চেষ্টা করলেই নোয়াখালী বিভাগ হতে পারে।

 

অামরা যদি একটু পাশ্ববর্তী জেলা কুমিল্লার দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে তাদের প্রশাসনে থাকা এক পরিকল্পনা মন্ত্রী একাই কুমিল্লা বিভাগের জন্য লড়ে গেছেন। এবং অাজ তারা সবুজ সংকেতও পেয়েও গেছেন। এখন পর্যন্ত বলা যায় বিভাগ হবেও, শুধু অানুষ্ঠানিক ঘোষনার দেরী। অথচ প্রশাসনে অাপনাদের মত এত নোয়াখাইল্লা থাকার পরও নোয়াখালী বিভাগ প্রশ্নে সরকার অাপোষ করে। লজ্জাজনক হলেও এখন নোয়াখালীবাসী এটা বলতে বাধ্য অাপনাদের মত নোয়াখালীর এই বিশেষ ব্যাক্তিদের ব্যার্থতা। দেশকে নোয়াখালী সমিতি বলে অার লাভ কি ?  নোয়াখালীর শত বছরের প্রানের দাবীটিই যদি তারা পুরন না করতে পারেন। তাই নোয়াখালীবাসীর পক্ষে প্রশাসনে থাকা নোয়াখালীর কৃতি সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলছি  এখনও সময় অাছে, অাপনারাই নোয়াখালীবাসীর অভিভাবক, অাপনাদের দিকেই তাকিয়ে লক্ষ লক্ষ নোয়াখালীবাসী। নোয়াখালীবাসীর হৃদয়ে অাপনাদের স্থান, অাপনারাও তাদের ভালবাসার প্রতিদান দিন।

 

নোয়াখালী বিভাগ শুধু অামাদের অাবেগ থেকেই বলছিনা, বা প্রশাসনে নোয়াখালীর লোকের অাধিক্য বলেই বলছিনা। সবদিক থেকে সব যুক্তিতে তাকালেও বলা চলে বাংলাদেশে অার কোন বিভাগ হলে সেটার দাবিদার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী জেলা। বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। তার ধারাবাহিতায় রাজধানীর বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারের উন্নয়নকর্ম ও সেবা পৌঁছে দিতে দেশে নতুন বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। বিভাগ গঠনের উদ্যেশ্য হল সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া শুধু  রাজধানীকেন্দ্রীক নয়, সারা দেশে পৌঁছে দেয়া। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবকাঠামোসহ সর্বোপরি উন্নয়ন করা। কিন্তু রাজধানী থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দুরুত্বের কুমিল্লা বিভাগ হলে কিভাবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়ন হবে ? দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ অাগের মতই সুবিধাবঞ্চিত হয়ে থাকবে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে কুমিল্লার চেয়ে তিনগুণ বেশি দুরুত্বের ১৬০ কিলোমিটার দূরে নোয়াখালীকে বিভাগ গঠন করা হলে উপকুলীয় অবহেলিত অঞ্চল ও সেই অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে। এতে বিভাগ গঠনের উদ্যেশ্যও সফল হবে। এছাড়াও অাপনারা জানেন যে নোয়াখালীর অধীনে বঙ্গোপসাগরে নিয়মিতই জেগে উঠছে বিস্তীর্ণ ভুখন্ড বা চর। নিয়মিত জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে যা একসময় বিশাল জনপদে পরিনত হবে এবং যার পরিমান বর্তমান নোয়াখালীর সমান বা বেশী হবে। এ কারনেও কুমিল্লা না হয়ে কাছাকাছি নোয়াখালী তে বিভাগ হলে অদুর ভবিষ্যতে সেসব এলাকার উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি অার অায়তনের দিক থেকেও নোয়াখালীই বিভাগের দাবীদার। ইতিহাস বলে নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্টিত হয় ১৮২১ মতান্তরে ১৮৬৮ সালে অন্যদিকে কুমিল্লা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে। অায়তনের দিক থেকেও কুমিল্লার চেয়ে নোয়াখালীর অায়তন বড়। নোয়াখালীর অায়তন ৪২০২ বর্গকিমি. যা ক্রমাগত বাড়ছে প্রতিনিয়ত অন্যদিকে কুমিল্লার অায়তন ৩০৮৭.৩৩ বর্গকিলোমিটার। সংস্কৃতির কথা বললে নোয়াখালীর ভাষা সংস্কৃতি কুমিল্লার চেয়ে বহুগুনে বিস্তৃত। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর এ তিন জেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী চট্টগ্রামের কিছু অংশ, স্বন্দীপ, মনপুরা এবং কুমিল্লারই বেশ কিছু অংশ নোয়াখালীর সংস্কৃতিতে চলে অাসছে হাজার বছর ধরে। তাই বলা চলে বিভাগ হওয়ার যোগ্য দাবীদার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালীই। ভৌগলিক কৌশলগত কারনেও কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে অাপত্তি থাকে, তা হল কুমিল্লা থেকে ৫ কি.মি. পূর্বেই ভারতের সোনামুড়া বাজার। সেক্ষেত্রে নোয়াখালীই সর্বোত্তম।

 

পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই, নোয়াখালী বিভাগের দাবী লাখো কোটি মানুষের দাবী। এটা অাবেগের দাবী নয়, এটা ন্যায্য অধিকার অাদায়ের দাবী। অাপনারাই পারেন নোয়াখালীর মানুষের অধিকার ফিরিয়ে অানতে। সুখে দুঃখে সবসময় নোয়াখালীবাসী অাপনাদের কাছেই মুখিয়ে থাকে, অাপনারাই অামাদের অভিবাবক।

 

ধন্যবাদান্তে,

নোয়াখালীর সর্বস্তরের জনগণ

Leave A Reply

Your email address will not be published.