Ultimate magazine theme for WordPress.

পুরাতন তিনটি ভবনেই ফাটল: একাডেমিক ভবন সংকটে খোলা মাঠে ক্লাস

339

স্টাফ রিপোর্টার: সুনাম আর ঐতিহ্যর স্বাক্ষী হিসেবে গড়ে ওঠা বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা উচ্চবিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবনের অভাবে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া পুরাতন ভবন গুলোতে ফাটল ধরায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শতশত শিক্ষার্থী । যে কোন মুহুর্তে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশংকায় ইতোমধ্যই পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে কয়েকটি ক্লাস রুম। শিবগঞ্জের প্রত্যান্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা অসংখ্য প্রতিষ্ঠান নতুন ভবন পেলেও  ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শিবগঞ্জের  প্রাণ কেন্দ্র খ্যাত মোকামতলা বন্দরে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি আজ অবধি পায়নি কোন একাডেমিক ভবন। তাই পুরাতন ভবন গুলো নিয়ে শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার শেষ নেই।

মঙ্গলবার সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, দীর্ঘ দিনে পূর্বে  নির্মিত তিনটি ভবনের সব গুলো রুমেই ধরেছে ফাঁটল। ছাদ থেকে সিমেন্ট-বালু ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে।একটু ঝড়  বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে পানি পড়ে শ্রেণীকক্ষে। অতি ঝুঁকীপূর্ণ হওয়ায় বন্ধ থাকতে দেখা গেছে ৪ টি ক্লাস রুম। এছাড়া  যে কয়টি রুম আছে তার সব’টিতেই ফাটল ধরায়  জীবনের ঝুঁকী নিয়ে ক্লাস করছে কমলমতি শিক্ষার্থীরা।

এসময় নবম শ্রেনীর মোজাহিদ  নামের এক ছাত্র জানায়,আমরা খুব কষ্টে  ক্লাস করছি এখানে।উপর (ছাদ) থেকে সিমেন্ট আর বালু পরে আমাদের গায়ে।একই ক্লাসের মেহেদী হাসান নামের আর এক শিক্ষার্থী জানান, বৃষ্টি আসলে ছাদ থেকে পানি পড়ে বই পূস্তক ভিঁজে যায়। আমরা তখন ক্লাস করতে পারিনা। একই রকম অবস্থার বর্ননা দিয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেনীর বাধন,সপ্তম শ্রেনীর সামী হাসান,অষ্টম শ্রেনীর নাবিলসহ প্রায় সকল ক্লাসের শিক্ষার্থীরা। আর শিক্ষকরা জানালেন তাদের মনের গভীর উদ্বেগের কথা। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মমিনুল ইসলাম,ফজলে ইলাহী মিলন ও অাবু হাসান রিমন  জানান,মোকামতলা একটি গুরুত্বপূর্ন বন্দর।এই বন্দরে গড়ে ওঠা মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী গোল্ডেন জিপিএ ৫ সহ কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ন হয়। কিন্তু  বর্তমানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় অনেকটা জৌলুস হারাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ক্লাস রুমের অবস্থা দেখে অভিভাবক ,শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সবাই আতঙ্কে থাকেন।

এসম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রধান শিক্ষিকা  শাহনাজ বেগম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় আট’শ শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের সব গুলো  ক্লাসেই ফাঁটল ধরেছে। অতি ঝুঁকীপূর্ন কয়েকটি রুম বন্ধ করে দেয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুমের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বারান্দা ও কখনো কখনো খোলা মাঠে ক্লাস নিতে হচ্ছে  আমাদের।

প্রতিষ্ঠানটির বেহাল অবস্থার কথা  স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক ও ২০১৮ সাল থেকে জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু রুম সংকটের কারনে পার্শ্ববর্তী বালিকা বিদ্যালয়কে ভেন্যু সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

শিবগঞ্জ তথা বগুড়া জেলার গুরুত্বপূর্ন একটি বন্দরে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টির জন্য একটি একাডেমিক ভবন নির্মান খুব জরুরী হয়ে পড়েছে বলে জোর দাবি জানান তিনি।

 

এদিকে নতুন একটি একাডেমিক ভবন নির্মান করে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাকার্যক্রমকে বেগবান করার মাধ্যমে শতশত কমলমতি শিক্ষার্থীর পাশে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এগিয়ে  আশা দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.