Ultimate magazine theme for WordPress.

প্যারিস হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশি তারেক

680

শুক্রবার। ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন ৯টা ৪৯ মিনিট। প্রতিদিনের মতো বিকেলের পালায় আপন মনে কাজ করছিলাম প্যারিসের বাতাক্লঁ কনসার্ট হলের কফি বারের পেছনে। সঙ্গে কাজে করছিল সেফ ক্রিস্তফো, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বেখতন, সার্ভিসম্যান মাকু ও ইবন। পাশের বাতাক্লঁ হলে তখন চলছিল মনমাতানো ব্যান্ড শো। এমন সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে ভড়কে যাই আমি। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো থিয়েটার হল গুলির শব্দে একাকার হয়ে ওঠে। উঁকি মেরে দেখতে পাই সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বেখতন আমাদের নিরাপদে স্টোর রুমে ঢোকার নির্দেশ দেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে স্টোর রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিই। আল্লাহকে ডাকতে থাকি। এ সময় আমরা মানুষের গগনবিদারী চিত্কার আর সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলির শব্দ শুনতে পাই। জীবনের প্রথম এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি। স্টোর রুমের ভেতরে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকি। আমাদের তখন সাহস জোগান বেখতন। তিনি পুলিশের কাছে আমাদের অবস্থানের কথা মোবাইলে জানান। একপর্যায়ে সবকিছু নীরব নিস্তব্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশি সহায়তায় আমরা মুক্ত হই।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.