Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুাড়ার ঐতিহ্যবাহী মহাস্থানগড়ের সবজির বাজার জমে উঠেছে।

630

নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মহাস্থানগডে শীতকালীন সবজির কাঁচা বাজার জমে উঠেছে । চলতি বছরের সপ্তাহের শনিবার ও বুধবার হাট ছাড়াও প্রতিদিন বগুড়ার সদর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, গাবতলী, কাহালু, ক্ষেতলাল ও কালাইসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে আসেন।মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর ) প্রতিবেদক নুরনবী রহমান মহাস্থানগডে বাজার ঘুরে জানান মহাস্থান হাটের বিশাল মাঠের
অংশজুড়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ফুলকপি ও বাঁধাকপি। একপাশে ডাটা আর অন্য পাশে শোভা পা”েছ সারিসারি বাঁধাকপি। ভ্যানবোঝাই মুলাগুলো যেন নজর কাড়ছিল। স্তপ থেকে ঝাঁঝ ছড়াচ্ছিলো পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের লাল ও সবুজ রংয়ের বেগুনের তো গুণেরই শেষ নেই। করলা,পেঁপে, লাউ শোভা পাচ্ছিলো গাঢ় সবুজে। তরতাজা এসব সবজির গায়ে তখনও লেগেছিল শিশিরকণা। সবজিগুলোর ক্ষেত থেকে তুলে সরাসরি বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে এসেছে কৃষক। ভোর থেকে তাদের এই বিক্রির আয়োজন চলে। ক্ষেত থেকে সবজি তোলার পর ভটভটি, ভ্যান, রিকশা, বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সকাল ৭টার মধ্যেই কৃষকরা সবজি নিয়ে এই বাজারে হাজির হয়।বাজারে পা রাখা মাত্র
স্থানীয়সহ দেশের নানা প্রান্তর থেকে আসা পাইকাররা ঘিরে ধরে কৃষকদের। যে যার মতো সবজি নিয়ে বাজারের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে পাইকাররা দরদাম কষে সবজি কিনতে শুরু করেন। এভাবেই দিনব্যাপী চলে সবজি কেনা-বেচা। বিকেল হতেই দূর-দূরান্তর পাইকারদের কেনা ছোটখাটো যানে সবজি নিয়ে ছুটে চলেন নিজ এলাকার বাজারগুলোতে। এ কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও দেখা যায়।ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন তোফা,জিয়াউর রহমান জিয়া,সিরাজুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন কৃষক প্রতিবেদক নুরনবী রহমানকে জানান, বগুড়া জেলার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মহাস্থানগড় কাঁচা বাজার সবজির সবচেয়ে বড় মোকাম। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এখানে নিয়মিত আসেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে বড় পাইকাররাও কেনাকাটার জন্য এ মোকামের ওপর নির্ভরশীল। তাই সবসময়ই মহাস্থানগড় বাজারে পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকে।তারা আরও জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গতবারের থেকে এবছর শীতকালীন সবজির আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারেও সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দামও বেশ ভালো। সবমিলিয়ে এ মোকামে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ সবজির আমদানি ঘটাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা,
করতোয়া নদীর তীরে এই হাটে, বিশ্বরোড সংলগ্ন হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের প্রসিদ্ধ সব বাজারগুলোতে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় মহাস্থানের সবজি। শক্তিশালী ম্যানেজিং কমিটি দ্বারা পরিচালিত ঐতিহাসিক মহাস্থানহাটের সূদৃঢ় মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে লেনদেন ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় সারাবছর এখানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সমাগম থাকে। হাট ইজারাদার ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম সফি ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আজমল হোসেন জানান, প্রতিদিন এখানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০লক্ষ টাকার সবজি ক্রয়-বিক্রয় হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এখানে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সমাগম ঘটে প্রচুর। সবজির হাটে সরেজমিনে দেখা যায় বিচিত্র ধরণের শীতের সবজির সমারোহ। পাইকারি হিসেবে ফুলকপি-৯০০-১২০০টাকা মন, বাঁধাকপি-১০০০-২০০০টাকা ১০০পিছ,করোলা-১৫০০-১৮০০টাকা মন, পাতা-পিঁয়াজ- ২০০০-২৮০০টাকা মন, মুলা-৮০০-১০০০টাকা মন, বেগুন-১২০০-১৪০০টাকা মন, ঝিঙে-১০০০-১২০০টাকা মন, পটল-৮০০-১২০০টাকা মন, সবুজ লাউ-২৫০০-৩০০০টাকা ১০০পিছ এবং কাঁচা মরিচ-১০০০-১২০০টাকা মন দামে বিক্রি করছেন কৃষকরা।
অন্য পাইকাররা সবজি কিনতে নিয়মিত এ মোকামে আসেন। কারণ এখানে চাহিদা মতো প্রায় সব ধরনের টাটকা তরতাজা সবজি পাওয়া যায়,
মহাস্থনের বেশিরভাগ সবজি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে চলে যায় বলেও জানান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা পাইকার।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.