Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থান কোরবানির পশুর হাটে প্রচুর গরুর আমদানি থাকলেও ক্রেতা কম

270

 

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় ঐতিহাসিক মহাস্থান কোরবানির পশুর হাটে প্রচুর গরুর আমদানি থাকলেও ক্রেতা কম। গরু-ছাগল বিক্রি করতে না পেরে হতাশা হয়ে পড়েছেন এলাকার কৃষক ও খামার মালিকরা। গরু বিক্রির জন্য হাটে হাটে ঘুরে বিক্রি করতে না পেরে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থন পশুর হাটে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় কৃষক,গরু ব্যাবসায়ী ও খামার মালিকদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। মহামারী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব কমাতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা জরুরী। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর কবীর এর নিদের্শনায় হাটে আগত ব্যক্তিদের তাপমাত্রা পরীক্ষা ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, মাস্ক ছাড়া কাউকে হাটে ঢুকতে না দেওয়া হচ্ছে না, হাটে ঢুকতে ও চালান পরিশোধের সময় ক্রেতাদের মাঝে কমপক্ষে এক মিটার দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি একটি পশু থেকে আরেকটিকে রাখতে অন্তত ৫ ফুট দূরে সহ ১৬ টি স্বাস্থ্য বিধি নিদের্শনা মেনে কোরবানীর পশু হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহাস্থান হাট কমিটির ইজারাদার আজমল হোসেন, শাহাদত হোসেন, মোশারফ হোসেন ও রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, হাটে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছে ১৫ টি’র ও বেশি হাত ধোয়ার জায়গা করা হয়েছে এবং হাটে আগাত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য ৪টি পয়েন্টে মাইক দ্বারা জন সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তার পরেও অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা স্বাথ্যবিধি মানছেন না। হাটে ঘুরে-ঘুরে বিনামুল্যে মাস্ক্র বিতরন করা হচ্ছে। তবে গতবারের তুলনায় ক্রয়-বিক্রয় নাই বললেই চলে। হাটে কোরবানীর পশুর স্বাথ্য পরিক্ষার জন্য ২জন ডাক্তার রাখা হয়েছে এবং সিসি ক্যমেরা দ্বারা হাট নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে। হাট কতৃপক্ষ বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে চলতি অর্থ বছরে ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হাটটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং হাট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সার্বক্ষনিক পর্যাবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম ধর্মালম্বী। আর মাত্র ১০ দিন পর মুসলিমদের খুশীর দিন ঈদ-উল আযহা। ঈদ উল আযহা উপলক্ষে মুসলিম ধর্মালম্বীরা তাদের স্বাধ্যমত কুরবানীর পশু গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কোরবানী করবেন। এ সব কোরবানীর পশু বিভিন্ন হাট বাজার থেকে ক্রয় করবেন। বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় ৪০ হাজার খামারে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তত রয়েছে পৌনে ৪ লাখ। আর জেলায় চাহিদা রয়েছে সোয়া তিন লাখ। খামারী বগুড়া সদর উপজেলার বাঘোপাড়া গ্রামের মৃত্যু হবিবরম মাষ্টারের ছেলে মহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে তার বিক্রির মতো ১৫টি ষাড় রয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো বিক্রি করতে পারেননি। গরু ব্যবসায়ী রতন, জলিল, আব্দুল আজিজ ও শ্রী ভরত জানান, করোনার কারণে ঢাকার বড় বড় কোরবানির হাট না বসানোর সম্ভাবনা থাকায় তারা গরু কিনছেন না। শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিহারা বাজারের আর কে এগ্রো এন্ড ফিসারিজ এর প্রোপাইটর শামিম হোসেন জানান, তার খামারে একশটি গরুর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩০টি গরু অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, যে মূল্যে গরুগুলি বিক্রি করা হয়েছে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা যেত। এদিকে করোনার কারণে বগুড়ার হাটগুলোতে মৌসুমী গরু ব্যাপারীদের আনাগোনা তেমন দেখা যাচ্ছে না। জেলার ১২ উপজেলায় ৮৩টি কোরবানির পশুর হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে স্থায়ী কোরবানির পশুর হাট ৪৮টি ও অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট ৩৫টি। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম মহাস্থান গরুর হাট, এই হাটের সঙ্গে ঘোড়াধাপ, সুলতানগঞ্জ হাট, শেরপুর হাট, সাবগ্রাম হাট, পেরী হাট, নামুজাসহ প্রায় শতাধিক স্থানে হাট বসে। এই সব হাটে স্থানীয়ভাবে যেমন কোরবানির পশু কেনাবেচা হয় ঠিক তেমনি অন্য জেলার জন্যও পশু কেনাবেচা হয়। কিন্তু এবার হাটের চিত্র ভিন্ন। প্রচুর গরুর আমদানি থাকলেও বেচা কেনা কম। বগুড়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও সুস্থ পশু বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রাণী সম্পদ বিভাগের চিকিৎসক দল প্রতিটি হাটে পর্যবেক্ষণে থাকবে। খামারে এবার প্রচুর পরিমাণে দেশীয় জাতের গরু পালন করা হয়েছে। বাড়তি পশুগুলো বিভিন্ন জেলায় চলে যায়। সবচেয়ে বেশি যায় ঢাকায়। এছাড়া চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেটে যায় কোরবানির পশু। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার মন্দা ভাব যাচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com