Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ার কাহালুতে তালপাতার পাখার গ্রাম সরগরম

849

কাহালু প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের আগমনে বাড়ছে তাপদাহ। তাপদাহে ওষ্ঠাগত মানুষের দরকার শীতল হাওয়া অথবা পাখার বাতাস। বাঙ্গালীর সংস্কৃতির ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে আছে কাহালুর তালপাতার পাখার গ্রাম গুলোর নানা ইতিহাস। প্রাচীন পুন্ডনগরী বগুড়ার নিকটবর্তী কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নে রয়েছে সেই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা স্বাক্ষর। পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলায় অবস্থিত শালীবাহন রাজার রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ। যোগীর ভবনে রয়েছে প্রাচীন আশ্রম ও মন্দির ভারত বিভক্তির আগ মুহুর্ত পর্যন্ত এই আশ্রম ও মন্দির ছিলো সব সমং সরগরম। এখানে পূজা, আর্চনা ও আরাধনার জন্য ভারত, নেপাল, ভুটান থেকে প্রতিদিনই আসতো অসংখ্য হিন্দু ধর্মাম্বলী মানুষ। ঐসময় এই অঞ্চলের কোথাও ছিলোনা বিদ্যুৎ সংযোগ। পূজা-পার্বনে মেলার জন্য আশ্রমের পার্শ্ববতী আড়োলা, আতালপাড়া, যোগীর ভবনসহ কয়েকটি গ্রামে তালপাতা দিয়ে তৈরী করা হতো পাখা। স্থানীয় প্রবীণদের ধারনামতে শত শত বছর আগে থেকে এই গ্রাম গুলোতে পাখা তৈরীর কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন অসংখ্য পরিবার। এখানে বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে পাখা তৈরী করছেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ প্রায় সকলেই। এখন প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। তারপরেও এখানে পাখার গ্রাম গুলোতে পাখা তৈরীর কাজ কমেনি। দিন যতই যাচ্ছে ততই এখানে পাখা তৈরীর কাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আড়োলা উত্তরপাড়ার আঃ জলিল (৬০) বয়সের ভারে একপ্রকার নুয়ে পড়েছেন। তারপরও তিনি এখনো পাখা তৈরী করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি জানা এটা আমার বাপ-দাদার আদি পেশা। এই পেশা ছেড়ে কোনো পেশায় আমি আর যায়নি। সেখানকার এনামুল (৩০) জানান, আগে গরমের সিজিনে শুধু পাখা তৈরী হতো। এখান বলতে গেলে সারা বছরই এখানে পাখা তৈরীর কাজ চলে। তারা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কাছে তালপাতার পাখা সরবরাহ করে থাকেন। আবার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে এসে অনেকের কাছ থেকে পাখা কিনে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যায়। মিনা বেগম (২৮) জানান, তিনি প্রতিদিন ১০০ পিচ পাখা তৈরী করতে পারেন। ১০০ পিচ পাখা তৈরীতে তার খরচ হয় ৮০০ টাকা। আর ১০০ পিচ পাখা তিনি পাইকারী দরে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করে। যোগীর ভবনের বাহাদুর, বুলি ও বাদশা জানান, পাখা তৈরীর কাজ তাদের আদি পেশা। তাদের মতে গ্রীষ্মের শুরু পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পাখার চাহিদা বেড়ে যায়। পহেলা বৈশাখের আগেই এখানে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা পাখা কিনতে আসে। বিশেষ করে পুরো গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের পাখার চাহিদা পুরুনে অনেকটা হিমশিম খেতে হয়। সেখানকার জামাল মন্ডল, ইউসুফ মন্ডল জানান এখানে প্রকারভেদে হরতন, ডাটি, ঘুরকি ও পকেট এই ৪ প্রকারের পাখা তৈরী হয়। ডাটি পাখা বিক্রি হয় ২০ থেকে ২২ টাকা পর্যন্ত। বাঁকী ৩ প্রকারের পাখা ৮ টাকা থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। স্থানীয় প্রবীন পাখা তৈরীকারক মজিবর জানান, এখানকার আশে-পাশের পাড়া গুলোর প্রায় ৫০০ পরিবার তালপাতার পাখা তৈরীর কাজের উপর নির্ভরশীল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.