Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ার ডিবি পুলিশ কুড়িগ্রামের দুর্গম চরঞ্চল থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ ৩ জঙ্গী গ্রেফতার।

642

বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ রংপুরের পর এবার কুড়িগ্রামের দুর্গম চরাঞ্চল থেকে অস্ত্র এবং বিস্ফোরকসহ ৩ জঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে।এরা হলো: পুরাতন জেএমবির কুড়িগ্রাম জেলার ইছাবার (সামরিক শাখা) প্রধান ওই জেলার ঢুসমারা থানার চিয়ারারচর কৌনাইছাপাড়া গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে তোফাজ্জল হোসেন তোতা (৩০), একই এলাকার মৃত আফছার আলীর ছেলে জেএমবি’র কুড়িগ্রাম জেলার ঢুসমারা ও রাজিবপুর থানার ইছাবার দায়িত্বশীল রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং দিয়ারারচর মুন্সিপাড়ার মৃত আব্দুস সামাদ আকন্দের ছেলে ওই সংগঠনের দাওয়াহ্ শাখার সদস্য আব্দুল হাামিদ (৬০)

BTVnews24.net

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা শনিবার সকালে তাঁর কার্যালয়ে ব্রিফিংকালে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা এবং বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ওই জেলার ঢুসমারা থানার (উপজেলা নয়, নতুন পুলিশ থানা) ব্রহ্মপুত্র নদের দিয়ারারচর কৌনাইছাপাড়া গ্রামে ওই জঙ্গী আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে। জঙ্গীদের কাছ থেকে চার রাউন্ডগুলিসহ ৭.৬৫ বোরের একটি বিদেশী পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ৫০০ মিলিমিটার সালফিউরিক এসিড, ৫০০ গ্রাম সোডিয়াম নাইট্রেট পিউরিফাইড (বিস্ফোরক) এবং ৫০০ গ্রাম এমপ্লুরা লেড নাইট্রেট (বিস্ফোরক) উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানকালে অপর পাঁচ জঙ্গী পালিয়ে গেছে।এর আগে গত ২৮ জুলাই দুপুরে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর দূর্গম চর বাগডহড়া থেকে পুরাতন জেএমবি’র শীর্ষ পর্যায়ের ৪ নেতাকে ভারী আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করে বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ। তবে সেদিনও অভিযানকালে পুরাতন জেএমবির বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক এবং রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধানসহ পাঁচ জঙ্গী পালিয়ে যায়।প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, জঙ্গীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরক দিয়ে ৩০টি শক্তিশালী গ্রেনেড তৈরি করা সম্ভব। তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার জঙ্গীরা জানিয়েছে বড় ধরনের নাশকতার জন্যই এসব মজুদ করা হয়েছিল। অভিযানকালে যে পাঁচ জঙ্গী পালিয়ে গেছে তারা হলোঃ পুরাতন জেএমবির রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার দাওয়াহ্্ শাখার প্রধান ফুয়াত ওরফে নিয়াজ (৩২), ইছাবা সদস্য মেরাজ, তোহা ওরফে খায়রুল, কামরুল ও আমিন।পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, গ্রেফতার জঙ্গীরা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গোপনে বৈঠক করার জন্য মিলিত হয়েছিল। অভিযানকালে জঙ্গী নেতা তোফাজ্জল হোসেন তোতা মিয়া তার কোমড়ে লুঙ্গির মধ্যে বিশেষ কায়দায় বিদেশী পিস্তল ও গুলি গুঁজে রেখেছিল। এছাড়া জঙ্গী রফিকুলের বাড়ির শয়ন কক্ষের খাটের নিচে প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে কাঁচের বোতলে ৫০০ মিলিমিটার সালফিউরিক এডিস এবং আলাদা দু’টি প্লাস্টিকের কৌটায় ৫০০ গ্রাম করে বিস্ফোরক দ্রব্য রাখা ছিল। তিনি জানান, গ্রেফতার জঙ্গীদের গ্রেফতারের পর বগুড়ায় আনা হয় এবং পরে তাদের কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ফিরোজ বাদী হয়ে ওই জেলার ঢুসমারা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হাবে।পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ‘জঙ্গীরা যে বাড়িতে গোপন বৈঠকের জন্য মিলিত হয়েছিল সেটি খুবই দূর্গম একটি এলাকা। নৌকা এবং পায়ে হাঁটা ছাড়া কোন যানবাহন নিয়ে সেখানে যাওয়া যায় না। পলাতক জঙ্গীদের গ্রেফতারের জন্য তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.