Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৫’শ ১৮কেজি চাল উদ্ধার

426

 

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়া গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৫’শ ১৮কেজি চাল উদ্ধার করেছে স্থানীয় বাগবাড়ী ফাঁড়ি পুলিশ। পরে চাল গুলো জব্দ করে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাবতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান এবং ওসি (অপারেশন) লাল মিয়া। জানা গেছে সোমবার স্থানীয় নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদে ১’শ ৫৬জন দুঃস্থ’র মাঝে ভিজিডি’র চাল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম মিন্টু সাকিদার। এ সময় কিছু ভিজিডি কার্ডধারী মানুষ চাল উত্তোলন করে কালো বাজারে বিক্রি করে। আর কালো বাজারী হিসেবে ওইস্থানে চাল ক্রয় করে কদমতলী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে হাবিল ও কাবিল এবং নশিপুর গ্রামের বিরাজ উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন। ভিজিডি কার্ডধারীরা জনপ্রতি ৩০কেজি করে চাল পাওয়ার নিয়ম থাকলেও কিছু কার্ডধারী ২৫থেকে ২৭কেজি করে চাল পেয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষ কয়েকজন ইউপি মেম্বার ও স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এসে একত্রি হলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতোক্ষনে বাগবাড়ী ফাঁড়ি পুলিশ সেখানে আসেন। পাশ^বর্তী মাঝবাড়ী গ্রামের প্রবাসী আরিফুল ইসলামের স্ত্রী ভিজিডি কার্ডধারী শান্তি বেগম, একই গ্রামের আবু জাফবের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, তারা ২৫/২৬কেজি করে চাল পেয়েছেন এবং ৩০টাকা করে দিতে হয়েছ। ওয়ার্ড মেম্বার নজরুল ইসলাম, জনাব আলীসহ কয়েকজন মেম্বার জানান, ভিজিডি কার্ডধারীদের জনপ্রতি ৩০কেজি করে চাল দেয়ার নিয়ম থাকলেও দেয়া হয়েছে ২৫কেজি করে। এ ছাড়া তাদের নিকট থেকে ৩০টাকা করে নেয়া হয়েছে। নশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উজ্জল হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদও ভিজিডি’র চাল ওজনে কম দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম মিন্টু সাকিদার বলেছেন, গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে বস্তায় কিছু চাল কম থাকায় জনপ্রতি এক/দেড় কেজি করে কম দিতে হয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্চ ছুড়ে দিয়ে আরো বলেন, আমার ইউনিয়ন পরিষদে কোন প্রকার অনিয়ম করা হয় না এবং কোন মেম্বারকে অনিয়ম করতে না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ বুলু জানান, আমার জানা মতে মিন্টু চেয়ারম্যান কোন অনিয়ম করে না, মেম্বারের সাথে কিছু দ্বন্দ্ব থাকার কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। চাল নিতে আসা বাগবাড়ী এলাকার আঙ্গুরী বেগম, শ্রীমতি মালতী রানীসহ আরো কয়েকজন জানান, নজরুল ইসলাম মিন্টু চেয়ারম্যান গরীবের চেয়ারম্যান। তিনি সব সময় গরীবদের সাহায্য সহযোগিতা করেন থাকেন। শ্রী নকুলসহ আরো কয়েকজন গ্রাম পুলিশ জানিয়েছেন, গরীবদের চাল বিতরণ ছাড়াও সার্বিক কর্মকান্ড চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিন্টু সাকিদার নিয়ম অনুযায়ী করে থাকেন। গাবতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান জানান, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৫’শ ১৮কেজি চাল উদ্ধার করা হলেও পরে মালিক পাওয়া গেছে। চাল গুলো ভিজিডি কার্ডধারীদের নিকট থেকে ক্রয় করেছিল স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তিনি আরো জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল কম দেয়ার অভিযোগও করেছে কয়েকজন। তবে ঘটনাটি বড় ধরনের কিছু নয়। এ ধরনে চাল বিতরণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত (ট্যাক) অফিসার উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও নশিপুর ইউনিয়ন ছাড়াও অধিকাংশ ইউনিয়নে তাঁদেরকে দেখা বা পাওয়া যায় না। তবে নশিপুর ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত (ট্যাক) অফিসার রয়েছেন উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রওনক জাহান এর সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল ফোনটি রিসিফ করেননি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com