Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ার শিবগঞ্জে সরকারী প্রথমিক বিদ‍্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষন করে দপ্তরী।

2,102

বগুড়ার শিবগঞ্জে সরকারী প্রথমিক বিদ‍্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষন করে দপ্তরী।বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে মা।বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক কানতারা পল্লীর চিলইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে নিজ বিদ্যালয়ের দপ্তরী হিমেল।

প্রভাবশালীদের চাপ ও তদ্বিরে এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরে শিবগঞ্জ থানায় মামলা হলেও ধর্ষক হিমেল এবং ঘটনা ধামাচাপা দেবার চেষ্টাকারীরা এখনও গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার মা।

শিবগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কিচক চিলইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী ও কানতারা গ্রামের আজম আলী ফকিরের ছেলে হিমেল (২২) স্বভাবে বখাটে প্রকৃতির হওযায় সে স্কুলের ছাত্রীদের নানাভাবে উত্যক্ত করতো।
একইসঙ্গে নির্যাতিত ছাত্রীকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো হিমেল। ওই ছাত্রীর বাবা ও মা বিষয়টি হিমেলের অভিভাবকদের জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয় হিমেল। গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে স্কুল ছুটির সময় হিমেল ওই ছাত্রীর স্কুল ব্যাগ কেড়ে নিয়ে রাখে।
এর ফলে স্কুল থেকে ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষকসহ ছাত্র/ছাত্রী সবাই বাড়ি চলে গেলে হিমেল ফাঁকা হয়ে যাওয়া স্কুলের একটি শ্রেনী কক্ষে ঢুঁকে পড়ে। সরল মনে ব্যাগ নিতে ওই ছাত্রীও কক্ষে প্রবেশ করলে দরজা জানালা বন্ধ করে ধর্ষন করে দপ্তরী।
এদিকে বাড়ি ফিরতে দেরি দেখে ওই ছাত্রীর মা মেয়ের সন্ধানে স্কুলে গিয়ে একটি কক্ষে কান্নার শব্দ শুনে দরজায় ধাক্কা ধাক্কি করতে থাকলে বিপদ বুঝে হিমেল দরজা খুলেই দৌড়ে পালায়।
পরে উলঙ্গ অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পেয়ে তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে মা ও তার বাবা স্থানীয় মহিলা ইউপি মেম্বার কোহিনুরের কাছে বিচারের জন্য যায়।
কোহিনুরের পরামর্শে এরপর সাবেক মেম্বার জামিলা খাতুনের কাছে যায়। জামিলা এবং এলাকার প্রভাবশালী ও তদ্ববীরকারী যুবক রনী এরপর বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতিতা ও তার মাকে নিয়ে এখানে সেখানে ঘোরা ফেরার মাধ্যমে সময় ক্ষেপন করে।
এমনকি মামলার আসামীদের একজন ধর্ষনের আলামত নষ্ট করতে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর পরনের জামা কাপড় পুড়িয়ে ফেলে তারা।
পরে বিষয়টি একটি মানবাধিকার সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা হলে তাদের সহায়তায় ৩০ জানুয়ারি শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা।মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সানোয়ার হোসেন জানান, উল্লেখিত ঘটনার মূল আসামী ধর্ষক হিমেল এবং তাকে রক্ষায় সহায়তাকারী হিসেবে আরও ৪ জনকে আসামী করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষনের আলামত পেয়েছে পুলিশ। আদালতে নির্যাতিতার জবানবন্দি ও তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে হিমেলসহ কেউই গ্রেফতার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নির্যাতিতার পরিবার। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন বলেন, আসামীরা ছাড় পাবেনা তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে পুলিশ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.