Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ার শিবগঞ্জে হচ্ছে বাল্যবিবাহ ভাঙছে সংসার।

956

বগুড়ার শিবগঞ্জে হচ্ছে বাল্যবিবাহ ভাঙছে সংসার ।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার অনেকের পড়াশোনা বন্ধ করে
শিশু বয়সেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারপর ভাঙছে সংসার।গোপীনাথপুর গ্রারে ছন্দা রানীর ( ছদ্মনাম) সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয় এক ভটভটিচালকের সঙ্গে। বিয়ের পর শিশু বয়সেই দুই সন্তানের মা। এপর ছন্দার শরীর ভেঙে যায়। স্বামী নির্যাতন করতে থাকেন। নির্যাতন সইতে না পেরে তিন মাস হলো তিনি এখন ছোট সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর চোখের সামনে এখন শুধু অন্ধকার। বাল্যবিবাহের কারণেই আজ তাঁর জীবনে এ অনিশ্চয়তা নেমে আসেছে বলে ছন্দা মনে করেন। শুধু ছন্দা রানী নয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় তাঁর মতো অনেকের পড়াশোনা বন্ধ করে শিশু বয়সেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বছর না যেতেই মা হচ্ছে ওই শিশুরা। তারপর ভাঙছে সংসার। এরপর বেশির ভাব ক্ষেত্রেই নবাজতক শিশুকে নিয়ে দরিদ্র বাবার সংসারে ফেরত আসছে শিশু মায়েরা। তারা এখন সুখের বদলে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছে। গত ছয় মাসে উপজেলায় কতটি বাল্য বিবাহ হয়েছে, তা কোনো পরিসংখ্যান সরকারি কোনো দপ্তরে নেই। তবে বাল্যবিবাহ নিয়ে উপজেলায় কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির কর্মসূচি সংসগঠক রুমা আকতার বলেন, শিবগঞ্জে প্রতি মাসে গড়ে কমপক্ষে ২৫টি বাল্যবিবাহ হচ্ছে। এর মধ্যে সংসার ভাঙছে কমপক্ষে শতকরা ৯০ জনের। শিশু বয়সে বিয়ে হওয়ায় তারা অপরিচিত পরিবেশে গিয়ে নিজেদের নতুন পরিবেশের সঙ্গে মেনে নিতে না পারা, চেহারা দ্রুত নষ্ট হওয়া, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে না পারাসহ বিভিন্ন কারণ বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েরা স্বামী বাড়ি থেকে বিতাড়িত হচ্ছে। এরপর কষ্টের জীবন কাটাতে হচ্ছে। এি পরিসংখ্যানের সঙ্গে অনেকটা এমত পোষণ করেছেন ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির আইন সহায়তা কর্মকর্তা কাজলী খাতুন বলেন, আমি চলতি অক্টোবর মাসে স্বামীর নির্যাতন বা বিতাড়িত করার আটটি অভিযোগ পাই। এর মধ্যে পাঁচটিরই বাল্যবিবাহ-পরবর্তী সমস্যা সম্পর্কে। বিয়ের পর প্রথম সন্তান হওয়ার পরই বিভিন্ন সমস্যার অজুহাতে বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। শথ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উপজেলায় কিছুকেই বাল্যবিবাহ রোধ করা যাচ্ছে না। উপজেলার কয়েকজন নারী ও জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিভাবকদের অসচেতনতা, দারিদ্র্য, উত্ত্যক্তকারীদের উৎপাত, সামাজিক চাপসহ নান কারণে শিবগঞ্জে রোধ করা যাচ্ছে না বাল্যবিবাহ। প্রতিবছরই এ সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের মধ্যে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। আবার দরিদ্র্যের কারণে প্রতি বছরই এদের সংসার ভেঙে যাচ্ছে। তারা এখন সুখের বদলে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছে। উপজেলার আলাদীপুর গ্রামের এক ভুক্তভোগী বলে, দারিদ্র্য ও অসচেতনতার কারণে তিন বছর আগে ১৩ বছর বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে তাকে। দূর্ভাগ্য, বছর না গড়াতেই আবার অভাব ও যৌতুন দিতে না পারায় সংসার ভেঙে যায়। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মা-বাবারর কাছে আবারও ফিরতে হয়েছে তাকে। পৌর এলাকার বন্তেঘরী মহল্লার একজন বলেন, অভাব-অনটনের কারণে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় তাকেও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে। কিন্তু স্বামীল সংষসারে বেশি দিন থাকতে পারেনি। ১৫ মাস সংসার করার পর তার সংসার ভেঙে যায়। এখন সে আবার পড়াশোনা শুরু করেছে। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানা বলেন, গত ছয় মাসে উপজেলায় কতটি বাল্যবিবাহ হয়েছে, তার কোনো পরিসংখ্যান আমার দপ্তরে নেই। তবে আমরা বিয়ের খবর পেলে তা রোধ করার চেষ্টা করি। তারপরও অভাবী ঘরের অভিভাবকেরা গোপনে বাল্যবিবাহ দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া অল্প বয়সে বিয়ের কারণে শারীরিক সমস্যায় ভুগতে হয় তাদের। বিশেষ করে গর্ভধারণ করতে গিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তৌহিদুর রহমান বলেম, আমরা দাম্পত্য নিয়ে যেসব অভিযোগ পাই, তার ৯০ শতাংশই ঘটছে বাল্যবিবাহের কুফল থেকে। একজন মেয়ের যখন বাল্যবিবাহ হয়, তার জীবনের সব আশা-স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। তাই সবার সচেতন হতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধের ব্যাপারে সবার এগিয়ে আসতে হবে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের সর্বোত্তম ব্যবহার ও আমাদের সচেতনতাই পারে বাল্যবিবাহের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে। ইউএনও আলমগীর কবীর বলেন, বাল্যবিবাহ হওয়ার খবর পেলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তা বন্ধ করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জন সচেতনতা গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ সহ বিভিন্ন জায়গায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে।

সুত্র প্রথম আলো।

Leave A Reply

Your email address will not be published.