Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ার সিভিল সার্জন ও গরীবের ডাক্তার মিশু করোনায় আক্রান্ত।

204

 

বগুড়া জেলার স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সিভিল সার্জন ডা. গাওসিল আজিম চৌধুরী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারাত্মক ওই ছোঁয়াচে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (গরীবের ডাক্তার )ডা. সামির হোসন মিশু । বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের ওই দুই কর্মকর্তার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদক নুরনবী রহমানকে জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, তারা দু’জনেই আইসোলেশনে রয়েছেন। তবে সিভিল সার্জন ডা. গাওসিল আজিম চৌধুরী যেহেতু পরিবারের সদস্য ছাড়া কর্মস্থলে একাই অবস্থান করেন সে কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে।
বগুড়ায় গত ১ এপ্রিল প্রথম করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তার পর থেকে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক, পুলিশ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে শুরু করেন। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ৮৬তম দিনে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা আক্রান্ত হলেন।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ জুন পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ৫১৬জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওইদিন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৩জনের আর সুস্থ হয়েছেন ২৮৩জন। গত মার্চ মাচের শেষ সপ্তাহে বগুড়ায় করোনার উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। শুরুতে তা পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হতো। পরবর্তীতে গত ২০ এপ্রিল থেকে স্থানীয় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) পিসিআর ল্যাবে করোনা সনাক্তকরণ শুরু হয়। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিএমএসএস মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয় এবং ৩১ মে থেকে সেখানেও নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়।
বগুড়ার ওই দু’টি ল্যাবে প্রতিদিন ১৮৮টি করে মোট ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবে সারা জেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ নমুনা আসছে। যে কারণে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে। ২৪ জুন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৬ হাজার ১৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮৪টি নমুনা।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন প্রতিবেদক নুরনবী রহমানকে জানান, করোনার উপসর্গ থাকায় ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন ডা.গাওসিল আজিম চৌধুরী এবং বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সামির হোসেন মিশুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বিকেলে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, তার গায়ে জ্বর এবং গলা ব্যথা রয়েছে। তিনি বলেন,‘আমি বাসাতেই আইসোলেশনে রয়েছি। অন্যদিকে সিভিল সার্জন ডা. গাওসিল আজিম চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে তাঁর ডেপুটি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, আপনারা তো জানেন স্যারের ফ্যামিলি ঢাকায় থাকেন। তিনি তাঁর দপ্তরের ওপর তলায় একটি কক্ষে বসবাস করেন। তো স্যারের এমনিতেই কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যেহেতু তিনি একা থাকেন সে কারণে আমরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি। তাকে হয়তো রাতেই হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com