Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ায় আগুনে পোড়া লাশের রহস্য উদঘাটন বাবা-মেয়ে গ্রেফতার

894

ঘটনার ৪ দিনের মাথায় গলাকাটা ও আগুনে পোড়ানো লাশের পরিচয় উন্মোচিত করার পাশাপাশি হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। নিহত ব্যাক্তি দুপচাচিয়া থানার খিদিরপাড়া এলাকার কফির উদ্দিনের ছেলে রংমিস্ত্রী সেলিম (৩২)। লোমহর্ষক ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত বাবা ও তার মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর ভাড়াটে খুনিদের ধরতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ডিবিসহ পুলিশের একাধিক টিম। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানা এলাকার আব্দুর রহমান ও তার মেয়ে সৌদি প্রবাসী ইকরামুলের স্ত্রী রুপালী। বগুড়া জেলা পুলিশ এই বর্বরোচিত ঘটনার বিবরণ নিয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেসবব্রিফিংয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারী বেলা ১২টার সময় জেলা পুলিশ জানতে পারে যে, বগুড়া ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী এলাকা দুপচাচািয়া থানার চামরুল ইউনিয়নের বড়কোল গ্রামের মাঠে একটি গলাকাটা ও আগুনে পোড়া লাশ পড়ে আছে, খবর পেয়ে পুলিশ সুপারসহ, ডিবি টিম, পুলিশ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার বিবরনে জানাগেছে, নিহত সেলিম ও রুপালীর ছোটবেলা থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুজনের অন্যত্র বিয়ে হলেও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে দুজন। দুজনে বার বার মিলিত হয় একান্তভাবে। একান্ত মিলিত হওয়ার দৃশ্য গুলো ভিডিও করে রাখত সেলিম। এদিকে দিন দিন রুপালীর প্রেমে আসক্ত হয়ে সেলিম বিয়ের জন্য চাপ দেয়। রুপালী বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দিলে, সেলিম তাকে ব্লাকমেইল করার ফন্দি আঁটে। ফেসবুকে নগ্ন দৃশ্য ভাইরাল করার হুমকি দেয়। রুপালীর স্বামী ইকরামুলের কাছে ইমোর মাধ্যমে তাদের নগ্ন দৃশ্যর ভিডিও পাঠালে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারন করে। রুপালী-সেলিমকে চিরতরে শেষ করার মতলব আটে। সে তার বাবা আব্দুর রহমানের সাথে পরিকল্পনা করে। জোগাড় করা হয় ভাড়াটে খুনিকে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সেলিমকে ফোন করে রুপালী বিয়ে করার জন্য তার বান্ধবীর বাড়িতে ডাকে। জয়পুরহাট জেলার খেতলাল থানার বেরুজ গ্রামে ভ্যানে করে ৪/৫কিলোমিটার গিয়ে পাকা রাস্তা থেকে নেমে মাঠের মধ্য নিয়ে যায় সেলিমকে। সেখানে রুপালী ও তার বাবা এবং ভাড়াটে খুনি ৩ জন সেলিমকে জাপটে ধরে, রশি দিয়ে হাত, পা, বেধে এবং মুখ ও মাথায় স্কচটেপ পেচিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। লাশটি যাতে কেউ চিনতে না পারে সেজন্য দাহ্যপদার্থ দিয়ে পোড়ানো হয়। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য লাশের পাশে ৬টি কনডম ফেলে রাখে খুনিরা। পরে সেলিমের লাশটি তার পরিবারের সদস্যরা সনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুইঁয়া বিপিএম, সাংবাদিকদের জানান, অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে রয়েছে খুব শীঘ্র তাদের গ্রেফতার করা হবে। সেই সাথে তিনি জেলা পুলিশের টিমকে ধন্যবাদ জানান, অল্পসময়ের মধ্যে লোমহর্ষক এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করায়। এদিকে এ ধরনের ঘটনা বিদেশি চ্যানেলের কতিপয় সিরিয়াল দেখে অপরাধীরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে কি না তা ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.