Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ায় করোনা রোগীর ভরসার নাম ডা.কাজল।

205

নানা প্রতিকূলতার পরও শুধু আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে করোনার সাত রোগীসহ এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ২৬ জনকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়েছেন বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল করোনা আইসোলেশন ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়ে এরই মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল। শুধু চিকিৎসা কাজে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাই নয়, বরং তিনি এই ইউনিটে করোনা উপসর্গে ভর্তির পর কেউ মারা গেলে

এলাকায় যেন জানাজা নিয়ে ঝামেলা না হয় সে কারণে হাসপাতাল চত্বরেই করছেন জানাজার ব্যবস্থা। আর রোগীর সঙ্গে হাসপাতালে আসা স্বজনরা যেন অনাহারে না থাকে সেই উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। নিজে ডায়াবেটিক রোগী, তাই করোনা ঝুঁকিতে থেকেও হাসপাতালের দায়িত্ব থেকে পিছপা হননি। বরং দেশের এই ক্রান্তিকালে তাঁর ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন মনোবল না হারান, সে জন্য সর্বদা তাঁদের উৎসাহ জোগাচ্ছেন।
চিকিৎসা কর্মকর্তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে যাতে সুবিধা হয় সে জন্য ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি আধুনিক সুবিধা সংবলিত আবাসিক হোটেলেরও ব্যবস্থা করেছেন। এ কারণে এলাকার করোনা রোগী ও স্বজনদের এখন ভরসার নাম ডা. কাজল। কারণ বগুড়ার শিবগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির বাড়িতে চিকিৎসক পাঠাতে এবং মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডের পাশে পড়ে থাকা রোগীকে (যিনি বগুড়ায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনা রোগী) উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন ইউনিট ঘোষণার পর করোনায় আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার জন্য তাঁর উদ্যোগেই জেলায় প্রথম চালু হয় হটলাইন। সেই লাইনে ফোন দিয়েই বগুড়ার শিবগঞ্জের দাঁড়িদহে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির স্বজনরা সহযোগিতা চান। ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবরে প্রতিবেশীদের কেউ এগিয়ে না গেলেও ডা. কাজলের প্রচেষ্টায় শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন চিকিৎসক সেখানে যান। পরে সেই মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। এরপর বগুড়ার মহাস্থানে করোনা উপসর্গ নিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে যখন কেউ সহযোগিতার হাত বাড়াতে অস্বীকৃতি জানায়, বিষয়টি জেনে তিনিই উদ্যোগী হয়ে সেই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে ওই রোগী করোনা আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে তাঁরই তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেয়। পরে সুস্থ হয়ে রংপুরের নিজ বাড়িতে ফিরে যান ওই রোগী।
করোনার কারণে বগুড়ায় যখন লকডাউন ঘোষণা করা হয়, তখন সব ধরনের খাবার দোকান বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে তাঁর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনরা পড়েন বেকায়দায়। তাঁদের খাবার দেওয়া নিয়ে সৃষ্টি হয় ঝামেলা। কারণ হাসপাতালে রোগী ভর্তি না থাকলে তাঁকে খাবার দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। এর সমাধান করতে উদ্যোগী হন হাসপাতালের আরএমও ডা. কাজল। বগুড়ার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগীর স্বজনদের খাবার সরবরাহ করতে সম্মত করেন তিনি।
ওই হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার শহিদুল ইসলাম সুইট জানান, দিনে বা রাতে যখনই হাসপাতালে কোনো রোগী আসেন তখনই হাজির হন ডা. কাজল। আর তাই নয়, এই হাসপাতালের একজন নার্স করোনা 0পজিটিভ হওয়ার পর তাঁর চিকিৎসা তদারকি থেকে শুরু করে ওই নার্সের পরিবার যেন সামাজিকভাবে কোনো সমস্যায় না পড়ে সবই দেখভাল করেছেন তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূরুজ্জামান সঞ্চয় আরএমও ডা. কাজলকে একজন মানবিক গুণের চিকিৎসক উল্লেখ করে বলেন, ‘নিজে উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিক রোগী হওয়ার পরও এই সময় ছুটিতে যাননি। বরং তাঁকে ছুটিতে যেতে বলায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই মুহূর্তে তিনি ছুটিতে গেলে অন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল ভেঙে যাবে। ফলে তিনি নিজে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থেকেও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে আরএমও ডা. কাজল বলেন, ‘দেশে এমন এক সময় চলছে যখন সবাই সম্মিলিতভাবে তা মোকাবেলা করা প্রয়োজন। এ কারণে আমি আমার দায়িত্বটুকুই পালন করছি। অন্যরা এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বলেই চিকিৎসাকাজ সহজ হয়ে গেছে। সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী একটি পরিবারের মতো হয়ে এই সংকট মোকাবেলায় কাজ করছেন।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.