Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ায় ব্যবসায়ী নির্যাতন ঘটনায় ৪ পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত।

390

বগুড়ায় সোহান বাবু আদর ব্যবসায়ীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৪ ঘন্টা ধরে নির্যাতনের পর পুলিশ গত শুক্রবার রাতে গুরুতর আহত বাবুর পিতার নিকট থেকে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। পরে আশংকাজনক অবস্থায় বাবুকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় এসআই জোব্বার সহ ৪ পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।জানাগেছে, বাবু  বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া উটের মোড় এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে। পুলিশী নির্যাতনে গুরুতর আহত বাবুর পিতা সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শহরের গোয়ালগাড়ি এলাকায় আল ফালাহ বহুমুখি নামে একটি সমিতি রয়েছে। সোহান বাবু আদর, সাথী বানু ও তার  স্বামী বাপ্পি মিয়া তিনজন মিলে ওই সমিতিটি পরিচালনা করেন। সমিতির অপর দুই পরিচালক সাথী বেগম ও তার স্বামী বাপ্পির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় সদর থানার কনস্টেবল (মুন্সি) এনামুল হক বাবুকে মোবাইল ফোনে থানায় ডেকে নেন। বাবু থানায় আসলে সদর থানায় এস আই আব্দুল জোব্বার, এএসআই এরশাদ ও নিয়ামত উল্লাহ এবং মুন্সি এনামুল পাশের একটি নতুন কক্ষে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে পাশে একটি পিলারের সাথে বেঁধে রেখে ১১ লক্ষ টাকা দাবী করে। পুলিশের দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় গভীর রাতে মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে নির্যাতন করে। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের সময় থানায় লোকজন না থাকার সুযোগে একই দাবীতে পুনরায় বাবুর হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে কোমর থেকে পা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বেদম প্রহার করা হয়। পুলিশের নির্যাতনে বাবুর কোমরের নিচ থেকে পা পর্যন্ত রক্তাক্ত ফোলা গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়। থানা হাজতে বাবুর শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে  শুক্রবার রাত ১২ টায় এস আই আব্দুল জোব্বার বাবুর পিতা সাইদুর রহমানকে ডেকে বলে তোর ছেলে সুস্থ্য আছে ভাল আছে এই মর্মে মুচলেকা লিখে ২০ হাজার টাকা দিয়ে তোর ছেলেকে নিয়ে যা। পরে বাবুর পিতা মুচলেকা ও ২০ হাজার টাকা দিয়ে তার ছেলেকে থানা থেকে ছেড়ে নিয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। বর্তমানে বাবুর শারিরীক অবস্থা আশংকাজনক। পুলিশ জানায়, অভিযোগকারী সাথী বানু ও তার স্বামী বাপ্পি মিয়া শহরের কাটনারপাড়া আলোরমেলা স্কুল এলাকার বাসিন্দা। এ ব্যাপারে এস আই আব্দুল জোব্বার ও এএসআই  এরশাদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের মন্তব্য পাওয়া যায় নি।কন্সষ্টবল এনামুল হক বলেন, আমি সামান্য চর থাপ্পর মেরেছি।এ ব্যাপারে বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান সেল ফোনে জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সোহান বাবু আদরকে থানায় আনা হয়েছিল পরে বাদী ও বিবাদীর মধ্যে আপোষ মিমাংসা হলে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। ওসি বলেন, বাবুকে নির্যাতনের কথা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। এপ্রসঙ্গে  বগুড়া সদর সার্কেল অতিরক্তি পুলিশ সুপার সানতন চক্রবর্ত্তী জানান, জরুরী কাজে বগুড়া পুলিশ সুপার মহোদয় বগুড়ার বাইরে আছেন। তিনি বগুড়ায় আসলেই তদন্ত সাপেক্ষে দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরে তিনি থানায় এসে জেলা পুলিশ সুপারের বগুড়ার বাইরে থাকায় তার সাথে বিষয়টি মুঠোফোনে আলাপ করে এসআই জোব্বার সহ অভিযুক্ত ৪ পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.