Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ায় ভিজিএফ এর ২৮০ বস্তা চাল পাচারের উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

212
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়ায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সরকারের দেয়া ভিজিএফ(ভার্নারেল গ্রুপ ফিডিং) প্রকল্পের প্রায় ২৮০ বস্তা চাল উপকারভোগীদের না দিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে। সরকারের পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে এই ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেশের বন্যাকবলিত এবং অন্যন্য দুর্যোগে আক্রান্ত দুস্থ হতদরিদ্র ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য বিতরণ করার কথা বলা হলেও বগুড়ার সারিয়াকান্দীর বেশিরভাগ উপকারভোগীদের মাঝে তা বিতরণ না করে বিক্রি করা হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সুত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দী বোহাইল ইউনিয়নে ১৪৩৪ জন উপকাভোগীর মাঝে ভিজিএফ এর ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এর নেতৃত্বে মাত্র কয়েকজনের মাঝে চাল বিতরণ করে বাকি চাল বিক্রি করে দেয়া হয়। চাল বিতরণ ট্যাগ অফিসার ছিলেন সারিয়াকান্দী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব। বুধবার বিকালে সারিয়াকান্দী – ধুনট উপজেলার সীমান্ত এলাকায় আওলাকান্দী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে নৌকার ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি নৌকা থেকে ভিজিএফ এর চাল আনলোড করে দুটি বড় ভটভটিতে তোলা হচ্ছে। এ দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দীর সময় চালের ক্রেতারা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। ভটভটি ও নৌকার লোকজন জানায়, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী এলাকার মৃত আফছার আলীর ছেলে ধুনট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসের চুক্তিবদ্ধ চাল সরবরাহকারী মিল মালিক আল আমিন চালগুলো কিনে সারিয়াকান্দী উপজেলা থেকে ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ীতে নিয়ে যান। চালগুলো নৌকা থেকে ভটভটিতে আনলোড করার সময় স্থানীয় লোকজন প্রথমে সারিয়াকান্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সেল ফোনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানায়। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ার সুযোগে ভিজিএফ এর উক্ত চালগুলো ভটভটিতে তুলে নিয়ে ধুনটের গোসাইবাড়ীতে নিয়ে যায় পাচারকারীরা। পরে বিষয়টি বগুড়া নবাগত জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানার পর সারিয়াকন্দী ও ধুনট উপজেলা দুই নির্বাহী কর্মকর্তাদের চালগুলো উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেয়ে পুলিশের সহায়তা নিয়ে দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা ধুনটের গোসাইবাড়ী ও সারিয়াকান্দী আওলাকান্দী এলাকায় অভিযান শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় পাচারকৃত চালগুলো কাজ করছে প্রশাসন। এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তারা। ত্রাণের চাল পাচারকৃত এক ভটভটি চালক ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া এলাকার বাবলুর ছেলে আলম ও অপর ভটভটি চালক সারিয়াকান্দী উপজেলার বোয়াইল ইউনিয়নের আওলাকান্দী এলাকার কোরবান আলীর ছেলে সোহেল এবং একই এলাকার নৌকার মাঝি ফটিকের ছেলে ইসমাইল ও ভটভটি চালক নিশ্চিত করেন, ত্রাণের চালগুলো ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী এলাকার মৃত আফছার আলীর ছেলে আল- আমিনের। আল-আমিন ধুনট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের চুক্তিবদ্ধ চাল সরবরাহকারী মিল মালিক। এলাকাবাসী জানান, বর্তমান চালের দাম বেশি হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের কিছু অসৎ চেয়ারম্যান মাধ্যমে অনেক মিল মালিকরা ত্রাণের চাল কম দামে কিনে তা ৩৬ টাকা কেজি দরে সরকারী খাদ্য গোডাউনে সরবরাহ করে থাকেন।অসৎ এসব জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে ত্রাণের চাল পাচার ও চুরি বন্ধ করা যাবেনা বলে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল জানান।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com