Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়া গাবতলীর হোসেনপুরে অতীত বাংলার ইতিহাস

683

আব্দুর রহীম বগড়া রিপোর্টে ক্যামেরায় মতিউর রহমান বগুড়া থেকেঃ

* পূর্ব বগুড়ার ইতিহাস ঐতিহ্যের খোঁজে আমি ও আমার সহকর্মী মতিউর রহমান গিয়েছিলাম গাবতলী উপজেলার হোসেনপুর ও লস্করীপাড়া গ্রামে। গ্রাম দুটির সাথে জড়িয়ে আছে অতীত বাংলার মুসলিম শাসনামলের রাজরাজাড়াদের অনেক স্মৃতি। গ্রাম জণপদের নামকরনের ইতিহাস গবেষকদের মতে হোসেনপুরের নামকরণ হয়েছে স্বাধীন সুলতান শাসনামলের সুলতান হোসেন শাহ’র নামে।

* আসাম বিজয়ের পর এই পথে রাজধানী গৌড়ে ফেরার পথে এই জনপদে তার অামত্যবর্গ ও লোকলস্কর সহ যাত্রা বিরতি করেন।পরে এখানে তার নামে একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপিত হয়। অতীতের কিছু পুরাকীর্তি নিদর্শন হোসেনপুর গ্রামে মাটির উপর এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ৯২৫ হিজরী বা ১৫১৯ খৃষ্টাব্দে সুলতান হোসেন শাহ ইন্তেকাল করেন। ভারত সম্রাট জহির উদ্দিন বাবর তার আত্নজীবনী গ্রন্থ বাবরনামায় লিখেছেন, হোসেন শাহ’র ইন্তেকালের পর তার জ্যেষ্ঠপুত্র নসরত শাহ পিতৃ সিংহাসন লাভ করেন।পশ্চিম বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলায় ‘নসরতপুর’ নামে যে রেলস্টেশন ও গ্রাম রয়েছে তা বাংলার মুসলিম শাসনামলে সুলতান নসরত শাহ’র নামে হয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে।

* হোসেনপুরের পূর্বপার্শ্বে অবস্থিত আরেক ঐতিহ্যবাহী গ্রাম লস্করীপাড়া। অতীত বাংলার মুসলিম শাসনামলে এই গ্রামে সেনানিবাস ছিল বলে মনে করেন ইতিহাস গবেষকরা। লস্কর কথাটা এসেছে সৈনিকদের নাম থেকেই। অতীতে তেমনটা যে ছিল তার নিদর্শন হিসাবে হোসেনপুর ও লস্করীপাড়ার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদী। যা লস্করদের বা সেনানিবাসের প্রতিরক্ষা ক্যানেল হিসাবে ব্যবহার হয়েছে।

* এই গ্রামে রয়েছে উনবিংশ শতাব্দীর মুসলিম স্থাপত্য রীতিতে তৈরী দৃষ্টি নন্দন মসজিদ। যা বগুড়ার ইতিহাসের বিশিষ্টজন ডাক্তার হাবিবুর রহমানের পূর্ব পুরুষের দ্বারা নির্মিত।আমরা প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যগুলো রক্ষার আবেদন করছি। গাবতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এক্ষেত্রে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছি। মসজিদের পার্শ্বেই ঐতিহ্যবাহী যে বাড়ি তা ডাক্তার হাবিবুর রহমানের জন্মস্থান। তিনি অবিভক্ত ভারতে বঙ্গীয় ব্যাবস্থাপক পরিষদের সদস্য, পাকিস্থান আমলে জাতীয় পরিষদের সদস্য, বগুড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি প্রথম বগুড়া শহরে বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থা শুরু করেন। ১৮৯৩ সালে লস্করীপাড়া গ্রামে তার জন্ম, ইন্তেকাল করেছেন ১৯৭৫ সালে বগুড়া শহরের বাদুরতলা এলাকায় অবস্থিত তার বাসভবনে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.