Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়া শহর ফাঁকা প্রাণ চাঞ্চল্য মানুষগুলো যেন ঘরে ঘরে সংসার বেঁধেছে নতুন করে।

534

ইলেকট্রিক হর্ণের বিকট শব্দ নেই। নেই ব্যস্ততা। মানুষে মানুষে ধাক্কা নেই। ফুটপাতে কোন ভিড় নেই। সবকিছু চুপচাপ। দুই-চারজন মানুষ বিশেষ প্রয়োজনে চলাচল করছে। পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন বিভিন্ন মোড়ে মাড়ে সাধারণ চলাচল নিষেধ করে ঘরে থাকার পরামর্শ প্রদান করছে। একেবারে প্রাণহীন। কোলাহল নেই। নিশ্চুপ শহর। যেন ঘুমিয়ে গেছে এই শহর আর শহরের বাসিন্দারা। শহর ফাঁকা হলেও ঘরে ঘরে প্রাণ আছে। প্রাণ চাঞ্চল্য মানুষগুলো ঘরে ঘরে সংসার বেঁধেছে নতুন করে। বগুড়ায় করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে ফাঁকা হয়ে গেছে শহর। আর নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরে জরুরী সেবা ছাড়া কোথাও কোন দোকানপাট, খোলা নেই। স্বাধীনতা দিবসের কোন অনুষ্ঠান নেই। এই প্রথম সরকারি আর দলীয়ভাবে ছাড়া বগুড়ায় স্বাধীনতা দিবসের কোন কিছু হলো না। প্রায় জনশূণ্য ছিল শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমথা। পুলিশ, সেনাসদস্য, র‌্যাব সদস্যদের এসময় বিভিন্ন সচেতনমুলক প্রচার প্রচারণা করতে দেখা গেছে।

অনেকেই বলছেন, করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিজ বাড়িতে অবস্থানের বিকল্প নেই। নিজ বাড়িতে অবস্থান করার পাশাপাশি যে সব কারণে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে সেসব নিয়ম কানুনও পালন করতে হবে। কোন অবস্থাতেই এখন মানুষের সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরের শেরপুর রোড, কলোনী, বনানী, খান্দার সড়ক, স্টেশন রোড, হর্কাস মার্কেট, চকযাদু রোড, বড়গোলায়, কাঁটালতলা, চেলোপাদা, নবাববাড়ি সড়ক, নিউ মার্কেট, থানা রোড, সাতমাথা, সপ্তপদী, গালাপট্টি, শহরের জলেশ^রীতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট বন্ধ ছিল। বিপনী বিতান ও বড়বড় শোরুমের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংক বীমা বন্ধ ছিল। একদিকে স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সাথে পড়েছে সরকারের সাধারণ ছুটিও।

সব মিলিয়ে বগুড়া শহর ছিল নিশ্চুপ। তবে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ওষুধের দোকান এর পাশপাপাশি কিছু মুদির দোকান ছিল খোলা। খোলা থাকলেও তেমন কোন ভিড় দেখা যায়নি। শহর থেকে দূর পাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায়নি। সকল মেইল ট্রেন বন্ধ থাকায় বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনে কোন ভিড় দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের সাতমাথায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও কর্মীরা জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটিয়ে দিয়েছে। এদিকে বিদেশ ফেরতদের নিজগৃহে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে কার্যক্রমে সেনা সদস্যরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। শহরের সাতমাথা দিয়ে গাড়ীতে করে টহলকালে দেখা গেছে হ্যান্ড মাইকে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূল প্রচারনা করছেন সেনা সদস্যরা।কাজ শেষে তারা সেনানিবাসে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, শহরের কোথাও কোন জনসমাগম দেখা যায়নি। স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি সরকারি ও দলীয়ভাবে পালনকালেও সমাগম তেমন ছিল না। শহরবাসিকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার স্বার্থে পাহাড়া দিচ্ছেন। শহরে বা বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় অযথা কেউ যেন ভিড় না করে সে বিষয়ে বারবার করে সতর্ক করা হচ্ছে। একই সাথে তিনি গুজব রোধে সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রদান করেন।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.