Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়া শাজাহানপুরের চাঞ্চল্যকর শিশু রিফাত(৮) অপহরণ ও খুনের রহস্য উন্মোচন , আসামি গ্রেফতার।

1,082

বগুড়ার শাজাহানপুরের চাঞ্চল্যকর রোমহর্ষক শিশু রিফাত(৮) অপহরণ ও খুন রহস্যের উদ্ঘাটন এবং আসামি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত এক সপ্তাহ টানা অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করে টিম শাজাহানপুর জেলার সিনিয়র অফিসারদের সহায়তায় এ কৃতিত্ব প্রদর্শন করতে সমর্থ হয়েছে। অফিসার ইন চার্জ জিয়া লতিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মূল ভূমিকা পালন করেন পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব আবুল কালাম আজাদ। বগুড়া জেলা পুলিশের সক্ষমতার আরেকটা প্রমাণ এই ঘটনা।

ঘটনার বিবরনে জানা যায় গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যা থেকে গোহাইল ইউনিয়নের খাদাস বাজারের ব্যবসায়ী সাবেক কুয়েত প্রবাসী এনামুল হকের ৮ বছরের শিশুপুত্র রিফাত হারিয়ে যায়। তাকে পরিবারের সদস্য এবং গ্রামবাসী রাতভর খুঁজে না পেয়ে পরদিন ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে তারা থানায় এসে একটা সাধারন ডায়েরি করে। খবর জানার পর থেকেই শাজাহানপুর থানা পুলিশ তৎপর হয়ে উঠে এবং সম্ভাব্য সকল বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত শুরু করে। ১৬ তারিখ সকাল নয়টার দিকে রিফাতের বাবা এনামুলের মোবাইল নম্বরে ফোন করে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে বলা হয় টাকা নিয়ে জামাদারপুকুর বাসস্ট্যান্ডে আসতে এবং অবশ্যই পুলিশকে না জানাতে। পুলিশ বিষয়টা জানতে পেরে একটু কৌশলী ভূমিকা গ্রহন করে, কিন্তু কেউই টাকা নিতে আসেনি। ফোনটা কল করার পর থেকে বন্ধ ত বন্ধই।

অনেক তথ্য বিশ্লেষন করে পুলিশ মোটামুটি বুঝতে পারে কারা এ কাজটা করেছে এবং সে অনুযায়ী লোক আটকও করা হয় কিন্তু তাদের মুখ কোনভাবেই খোলানো যাচ্ছিল না। জিজ্ঞাসাবাদের সকল সম্ভাব্য কৌশল ব্যবহার করা হলো। কাজ হলো না। হাল ছাড়ার মতো অবস্থা!

এক পর্যায়ে ১৮ তারিখ সকালে শিশু রিফাতের অর্ধগলিত মৃতদেহ পোয়ালগাছা ভদ্রাবতী নদীর সিংহবাড়ি ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করা হলো। এলাকায় একটা হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হলো। ঐ এলাকার কেউই রিফাতের বাবা মা আত্মীয় স্বজনের বুকফাটা আর্তনাদ দেখে স্থির থাকতে পারে নাই। গোপনে বা প্রকাশ্যে চোখের জল ফেলেছে পুলিশ সদস্যরাও এবং দোষীদের গ্রেফতার করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়।

মৃতদেহ পাবার পর মামলা (মামলা নং ১৫) রুজু হয় এবং নতুন আংগিকে তদন্ত শুরু হয়। রিফাতের বাবা এনামুল বাদি হয়ে কয়েকজনের নাম দিয়ে মামলা করেন।তাদের মধ্যে একজন আবুল কালাম আজাদ @ কালাম(২৮)। সাথে তার এক ঘনিষ্ট নিকটাত্মীয় ছিল(ধরা না পড়ায় নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না)।এজাহারে তিনি জানান তার গ্রামের কালাম তার কাছ থেকে অনেকদিন যাবত টাকা ধার চায়। টাকা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে এ কাজ করতে পারে। কালাম আগে থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরা ছিল। তার কাছ থেকে ঘটনা জানার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হলো কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সকল কৌশল ব্যর্থ হয়ে গেল। এরপর পুলিশি তদন্তের যত রকম তরিকা আছে প্রয়োগ করা হলো। যত জ্বিন পরি ভূত ছিল কাজে লাগানো শুরু হলো। মূল ক্লু ছিল সেই মোবাইল নম্বর। অনেক রিসার্স এনালাইসিস করে, ডিজিটাল এনালগ সকল তরিকা ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ঘটনা স্পষ্ট হয়ে গেল। আটক করা হলো সজীব (১৯) নামক এক অটোরিক্সাচালককে। তার কাছে জানা গেল পুরো ঘটনা । জানা গেল ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় কালাম এবং তার এক নিকটাত্মীয় সজীবের অটোরিক্সায় জমাদারপুকুর থেকে উঠে আরেকটু এগিয়ে আসার পর পাঁচ ফুল, মেহেদী এবং বায়েজিদ নামে তিনজন শিশু রিফাতকে নিয়ে উঠে।তারা শিশুটিকে পাখি দেখানোর কথা বলে বাজার থেকে কৌশলে বের করে নিয়ে আসে। আর একটু এগিয়ে মফিজুল নামে আরেকজন উঠে । পিছন পিছন আরেকটি ব্যাটারি চালিত ভ্যানে ছিল জাহিদ, বোরহান, মাসুদ, সেলিম। তারা সবাই গিয়ে যে সিংহবাড়ি ব্রিজের নিচে লাশ পাওয়া যায় সেখানে গিয়ে নামে। তাদের নামিয়ে দিয়ে সজীব গাড়ি নিয়ে শেরপুরের গাড়িদহ চলে যায়। এর পর কালাম, তার সেই নিকটাত্মীয় এবং মফিজুল বাচ্চাটিকে নিয়ে নদীর ভিতর নামে। মফিজুল বাচ্চাটির পা ধরে কালাম হাত ধরে এবং আরেক জন ছেলেটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ভদ্রবতী নদীর কচুরিপানার ভিতর লাশ ফেলে দিয়ে উপরে চলে আসে। সজীব গাড়িদহ থেকে ফিরে আসার সময় তাদের নিয়ে আবার খাদাস চলে আসে।
ঘটনায় মোট জড়িত ১১ জন, আটক ১০ জন। এ বিষয়ে আদালতে এখন পর্যন্ত ৭ জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। তদন্তকার্যে সার্বিক সহযোগিতা করেছে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের গোয়েন্দা শাখা, গোহাইল ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার ফজু এবং স্থানীয় জনগণ।
সম্ভাব্য সকলদিক বিবেচনা করে এ মামলায় দ্রুততম সময়ের ভিতরে অভিযোগপত্র প্রদান করা হবে। রিফাতকে আমরা বাঁচাতে পারিনি কিন্তু খুনিদের সনাক্ত করে ধরতে পেরেছি। তদন্তের বিষয়ে সামান্য হলেও জড়িত হতে পেরে ভাল লাগছে

Leave A Reply

Your email address will not be published.