Ultimate magazine theme for WordPress.

ভাসানীর আদর্শে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো: টাঙ্গাইলে ডা. কামাল

364

 

ফরমান শেখ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী চিরদিন আমাদের অনুপ্রেরণার উৎসহ হয়ে থাকবে। আন্দোলন সংগ্রামে তিনি যে প্রেরণা দিয়ে গেছেন সে প্রেরণা আজ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। মাওলানা ভাসানীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো।

শনিবার (১৭নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঐক্যফ্রন্ট নেতা কৃষক শ্রমিক জনতালীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তোম, মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এরপর ভাসানীর মাজারে পূস্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন-কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।

তিনি মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছেন। নির্বাচনে এখনো লেভেল প্লেইন সৃষ্টি হয়নি। আমরা নির্বাচন থেকে সড়তে চাইনা। আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে সাথে নিয়ে নির্বাচন করতে চাই।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুধু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।

সকাল সাড়ে ৭ টায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভাসানীর মাজারে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডঃ মো. আলাউদ্দিন প্রথমে পুস্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসুচি হয়। পরে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন হল, জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতালীগ, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, ভাসানীর পরিবার বর্গ, ন্যাপ ভাসানী, খোদাই খেদমতগারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণ।

ভাসানী মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ভোর থেকে সন্তোষে মাওলানা ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণে অসংখ্য মুরিদান ও ভক্তদের কন্ঠে যুগ যুগ জিও তুমি মওলানা ভাসানী শ্লোগানে মাজার প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মওলানা ভাসানীর ভক্ত ও মুরিদানরা ছুটে আসে মাজার প্রাঙ্গণে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার (১৭নভেম্বর)। তেভাগা ও ‘লাঙ্গল যার জমি তার’ আন্দোলন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নির্ভীক অবস্থানের কারণে তিনি মজলুম জননেতা হিসেবে আখ্যা পান।

সাংগঠনিক রাজনীতিতে মওলানা ভাসানী কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, আওয়ামী মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্ম মওলানা ভাসানীর। তিনি জীবনের সিংহভাগ কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। সন্তোষের মাটিতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

তত্কালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। গত শতাব্দীর ত্রিশ ও চল্লিশ দশকে আসামে বঙ্গাল খেদা অভিযানের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা স্মরণীয়। তার উদ্যোগে ১৯৫৭ সালে কাগমারীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তার সর্বশেষ কীর্তি ছিল ফারাক্কা লং মার্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.