Ultimate magazine theme for WordPress.

রিপন হত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ

374

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ অবিলন্বে পুলিশ হেফাজতে মেধাবী ছাত্র রিপন হত্যার আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এ হত্যা মামলার বাদিসহ ১০জনের বিরুদ্ধে ৭জুলাই নতুন করে ভাংচুরের মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন সড়কে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত  এই মানববন্ধন চলে। বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী,শিক্ষক,অভিভাবক এলাকার নারী পুরুষ অংশ নেয়।

মানববন্ধন চলাকালে কালে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি নেতা কাওছার আজম হান্নু,সাবেক মেম্বার লথিফুল ইসলাম, জাপা নেতা লথিফুল ইসলাম,মাসুদ রানা,জিয়াউর রহমান, যুবনেতা আশরাফুল ইসলাম, শিক্ষক হায়াদার আলী মোখলেছুর রহমান,অন্তর মিয়া , ছাত্রনেতা মিলন মিয়া,সাত্তার মিয়া,তারা মিয়া প্রমূখ।

এসময় রিপনের পিতা বাবুল চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, আমার সন্তান রিপনকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করে মামলা করেছি, আমি গত একবছর ধরে মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছি। এই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পুলিশের কেউ কেউ ও আসামি মমতাজ মেম্বারসহ অন্য আসামিরা আমাদের পরিবারকে নানাভাবে মামলা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে চাপ দিয়ে আসছিল। আমরা তাতে রাজি না হওয়ায় গত ৭জুলাই আমার মামলার ১নং আসামি সুরিশ আমার পরিবারের ১০জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় ভাংচুরের মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ ওইদিনেই ৫ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এছাড়াও আমার ছোট ছেলে পন্ডিতের এজাহারে আসামি করা না হলেও সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ ৯ জুলাই সকালে এসে ওকেও ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকেও আসামি করা হয়েছে। আমি এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায় এবং আমার সন্তানের বিচার চাই। এসময় বাবুল চন্দ্র দাস কান্নায় ভেংগে পড়েন।

প্রসঙ্গত, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা হাতিয়া গ্রামের বাবুল চন্দ্র দাস ও সুজকি রানী দাসের  ছেলে কলেজ ছাত্র রিপন চন্দ্র দাস প্রতিবেশী সুরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে চম্পার প্রেমের সম্পর্ক হলে ২৯ মে ২০১৬ সালে দু’জনে বাড়ি থেকে পালিয়ে বগুড়া জেলার কাহালুতে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে যায়। এই ঘটনায় চম্পার বাবা সুরেশ বাদি হয়ে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করে। সুন্দরগঞ্জ থানার এস আই রাজু আহমেদ,কনস্টেবল শাহানুর আলম, মোস্তাফিজার রহমান,নার্গিস বেগম ওই বছরে ১ জুন বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলা থেকে চম্পা ও রিপনকে কাহালু থানার সহায়তায় উদ্ধার মাইক্রোতো তোলে। এসময় রিপনের বাবা বাবুল চন্দ্র দাসের অনুরোধ উপেক্ষা করে পুলিশ একই মাইক্রোতে মেয়ের পিতা ও তাদের অন্যতম সহযোগি মমতাজ উদ্দিনকে তুলে নিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দিকে রওনা দেয়। পথিমধ্যে পলাশবাড়ির কাছে পুলিশের সহযোগিতায় রিপনকে হত্যা করা হয়।

এব্যাপারে রিপন চন্দ্র দাসের পিতা বাবুল চন্দ্র দাস বাদি হয়ে ওই চার পুলিশসহ সুরেশ চন্দ্র, ইউপি মেম্বার মমতাজ উদ্দিনকে আসামি করে আদালতে  মামলা দায়ের করে। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড করে সিআইডিকে তদন্তাভার দেয়া হয়। সিআইডি  সকল আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।  পরে বাবুল চন্দ্র দাস এতে না রাজি জানিয়ে আদালতে আবেদন জানালে আদালত পিবিআইকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্তকাজ পরিচালনা করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.