Ultimate magazine theme for WordPress.

সালমান ‘আত্মহত্যা’ করেনি: নীলা চৌধুরী

778

চিত্রনায়ক সালমান শাহ মা নীলা চৌধুরী বলেছেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করে মরেনি। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে তিনি এ কথা বলেন।

নীলা চৌধুরী বলেন, সালমান শাহ যেদিন মারা যান সেদিন সকাল ৯টায় তাঁকে দেখতে বাসায় গিয়েছিলেন সালমানের বাবা কমর উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী। বাসার গেট থেকে সালমানের স্ত্রী সামিরা আমার স্বামীকে বলেছিলেন, ‘সালমান টায়ার্ড, ঘুমাচ্ছে। তাকে ডাকা যাবে না।’ তখন তিনি আমাদের গ্রিন রোডের বাসায় চলে আসেন। এর দুই ঘণ্টা পর সালমানের বাসা থেকে এক ব্যক্তি টেলিফোন করে বলে, ‘সালমানের কি যেন হয়েছে। আপনারা আসেন।’
সালমানের মা আরও বলেন, সঙ্গে সঙ্গে ওই বাসায় গিয়ে দেখি, তাঁর নিজ রুমে সালমানের নিথর দেহ পড়ে আছে। পাশে তাঁর স্ত্রী। যখন বলছিলাম, ‘‘ওকে হাসপাতালে নিতে হবে। তখন সামিরা চিৎকার করে আমাকে বলল, ‘গেট আউট ফ্রম হাউস’। এরপর সালমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলাম কিন্তু তাঁর স্ত্রী কখনো আসেনি।’ ’
তদন্ত প্রসঙ্গে নীলা চৌধুরী বলেন, ঠিকমতো তদন্ত হয়নি। হলে বেরিয়ে আসত, ‘সালমান আত্মহত্যা করেনি। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
এর আগে দুপুর থেকে শতাধিক সালমান ভক্ত আদালত প্রাঙ্গণে সালমান শাহ হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সালমানকে।
ঘটনার পর সালমান শাহ’র পিতা কমরউদ্দিন উদ্দিন চৌধুরী রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে তিনি এটি হত্যা মামলা রূপান্তরের আবেদন করেন। কিন্তু ঘটনার সত্যতার প্রমাণ না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এরপর আদালতের নির্দেশে এক যুগ ধরে চলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়, সালমান শাহ খুন হননি। আত্মহত্যায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এরপর সালমান শাহ’র মা ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য র‍্যাবকে নির্দেশ দেন।
কিন্তু সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করেন। এই আবেদনের শুনানি শুনানি হয়েছে আজ। আগামী ১২ নভেম্বর ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
শুনানির সময় আদালতের এজলাস কক্ষে উপস্থিত ছিলেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। পুনরায় তদন্তের আদেশ মহানগর হাকিম দিতে পারেন না, এমন আইনি যুক্তি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী। তখন নীলা চৌধুরী কাঁদছিলেন। সাদা রুমাল দিয়ে বারবার চোখ মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেন।
সালমান শাহের মামলা পুনরায় তদন্তের আদেশ আইনগতভাবে সঠিক, এমন বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন নীলা চৌধুরীর আইনজীবী মাহফুজ মিয়া। একপর্যায়ে তিনি আদালতে বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর অনেক প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। তখন আদালত বলেন, ‘আবেগ দিয়ে সুষ্ঠু বিচার করা যায় না। পুরো ঘটনা শুনতে আমাকে শুনতে হবে। নথিপত্র আরও পর্যালোচনা করতে হবে। আরও শুনানির প্রয়োজন রয়েছে।’
মামলার আসামি করা হয় ১১ জনকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন আজিজ মোহাম্মাদ, সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, তাঁর শাশুড়ি লতিফা হক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.