Ultimate magazine theme for WordPress.

সোনাগাজীতে সড়ক মেরামতের নামে হরিলুট

863

সৈয়দ মনির অাহমদঃ

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ভূঞার হাট মুক্তিযোদ্ধা সড়কের ৯ কিলোমিটার মেরামতের নামে বরাদ্দ সাড়ে ৪ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সড়কটির মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই সড়ক ও সড়ক রক্ষার গার্ডওয়াল ভেঙে পড়েছে। সংসদ সদস্য রহিম উল্যা, ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আরিফিন ও স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগ কাজের গুণগতমান নিয়ে বারবার আপত্তি তুললেও কাজের মানের কোনো উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ। অভিযোগে সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগের সড়কের অধিকাংশ স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে। ভেঙে পড়েছে রাস্তা রক্ষার গার্ডওয়াল। নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিুমানের উপকরণ ও কাদামাটি মিশ্রিত বালি ব্যবহার করায় সড়কের এই বেহালদশা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী বার বার প্রতিবাদ করেও কোনো কাজ হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাদের ইচ্ছামতো নির্মাণ কাজ চলিয়েছে। স্থানীর সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর ও ঠিকাদার সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া ভৈরব চৌধুরী মোড় থেকে মদিনা বাজার, ধান গবেষণা, বহদ্দারহাট হয়ে সোনাগাজী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সড়কটির ৯ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে দি নিউ ট্রেড লিংক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ করে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিুমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ শুরু করে। একই সঙ্গে রাস্তার দুইপাশ ভরাটের কথা থাকলেও রাস্তার পার্শ্বে গর্ত করে দায়সারাভাবে মাটি দিয়ে রাস্তাটি পাশ ভরাট করে। সড়কটির বিভিন্ন অংশের খালের পাশ্বে গার্ডওয়াল করার কথা থাকলেও সিডিউল মতো কাজ না করে নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ শেষ করে। নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয় নিুমানের ইট ও কাদা মাটি মিশ্রিত বালি ও নাম মাত্র সিমেন্ট। যার ফলে সড়কটির নির্মাণের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পরেই রাস্তাটি পূর্বের পুরনো রুপে রুপ নেয়। ভেঙে পড়তে শুরু করে বিভিন্ন গাইডওয়াল। উপজেলা প্রকৌশলী মিনহাজ মোস্তফা জানান, সড়ক নির্মাণে অনিয়মগুলো দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাজুল ইসলামকে মেরামত করতে বলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন আমি আমার পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা করেছি কাজের মান রক্ষা করতে। সড়কটির কিছু গার্ডওয়াল ও বিভিন্ন অংশে সড়ক ধসে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আবারও ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ফেনী-৩ আসনের এমপি হাজী রহিম উল্যাহ জানান, মুক্তিযোদ্ধা সড়কসহ চলমান সব উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজের মান ঠিক না থাকায় কাজ স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.