Ultimate magazine theme for WordPress.

স্বপ্ন দেখানো মানুষগুলা আজ স্বপ্ন বিক্রি করে দিচ্ছে! ঘুরছে পথে! পথে!

397

 

কনক দেবঃ- পেটে ভাত নাই! ছেলে মেয়ের চাহিদা পুরন করতে পারে না! মখমলের বিছানায় শোয়া তো দূরের কথা একটা খাটও ভাগ্যে জোটে না! জোটেনা আরাম-আয়েশে জীবন। সারা জীবন শিক্ষকতা করার পর যখন অবসরে যায়। তখন হয়তোবা কোন দোকান করে চকলেট বিক্রি! মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘোড়া! কখনো বা রিক্সা চালান! এভাবেই চলে আমাদের বাংলাদেশের শিক্ষকদের জীবন। অথচ এই শিক্ষকদেরই ছাত্র তারাই সরকারি বড় আমলা! ডাক্তার ম্যাজিস্ট্রেট, জজ, ব্যারিস্টার, ইত্যাদি পেশায় নিযুক্ত হয়। কিন্তু ওই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের কথা কেউ মনে রাখেনা। হয়তোবা রাস্তাঘাটে পথে দেখা হলে একটা সালাম এছাড়া আর কীইবা দেওয়ার আছে। তারপরও শিক্ষক বিধাতার কাছে ফরিয়াদ জানায় আমার ছাত্ররা যেন ভালো থাকে। এতক্ষণ বলছিলাম বাংলাদেশের অবহেলিত শিক্ষকদের কথা। এইতো কয়দিন আগেই মোকামতলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কে দেখলাম জীবনের সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছে। শিবগঞ্জ উথলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সারা জীবন যে স্কুলে কর্ম করেছেন সেই স্কুলের সামনে চকলেট বিক্রি করে জীবন জীবিকা চালিয়ে বেঁচে আছেন। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! যে স্কুলে ছিলেন শিক্ষক সেই স্কুলের চকলেট বিক্রেতা! কি জাতি আমরা! এই শিক্ষক যখন অবসরে যান সরকার থেকে নাম মাএ সামান্য কটা টাকা পান। যে টাকা হয়তো মেয়ের বিয়ে বা অন্য কিছু কারনে শেষ হয়ে যায়। দেশের সরকারি একজন পিয়ন মাসে মাসে পেনশন তুলতে যায়। আর এই বৃহত্তর শিক্ষকরা চুপচাপ চেয়ে থেকে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। আজ কে সরকারি দলের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। যখন বিরোধী দলে ছিলেন। তখন শিক্ষকদের রাজপথে বসিয়ে মুখে পানি দিয়ে বলেছিলেন আমরা যখন সরকার গঠন করব। তখন দেশের চালিকাশক্তি শিক্ষা। এই অবহেলিত শিক্ষকদে’র আগে জাতীয় করন করবো! কোথায় সেদিনের কথার বাস্তবতা!
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে মহামারী করো না। যার প্রভাব এখন বাংলাদেশে সব চাইতে বেশি। শিক্ষিত যুবক ছেলেরা দু’চারটে টিউশনি, কোচিং, পার্ট টাইম জব করে হয়তোবা একটু হলেও জীবন জীবিকা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমান পেক্ষাপটে এই অবহেলিত শিক্ষকরা পারে না চাইতে। পারে না হাত পাততে। ঠিক বর্তমান সময়ে জীবিকার তাগিদে স্কুল বিক্রি করে দিচ্ছে! বিক্রি করে দিচ্ছে চেয়ার, টেবিল সহ শিক্ষা উপকর। এই শিক্ষকতা পেশায় দুঃখ-দুর্দশার কারনে আসছে না কোন মেধাবীমুখ। এই হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা! সত্যিই জানতে ইচ্ছে হয়। আপনাদের তো থাকবে শুধু একটা ছাতি, একটা শার্ট, একটা প্যান্ট, এর বেশি কিছু আপনাদের আশা করা তো ভুল! তাই আবারও বলতে ইচ্ছে হয়। শিক্ষা কি জাতির মেরুদন্ড! কি আর করার আছে আমাদের ক্ষমা করে দিবেন-স্যার! আমরা আপনাদের প্রাপ্য দিতে পারলাম না!

Leave A Reply

Your email address will not be published.