Ultimate magazine theme for WordPress.

৩শ ৩০টি পরিবার মাঁথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে এখন স্বাবলম্বী নওগাঁ পত্নীতলায়।

500

 

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ “যার জমি আছে ঘর নেই” এর অধীনে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে ৩৩০ দুঃস্থ পরিবার।উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে প্রতি পরিবার পেয়েছে একটি করে বসতঘর ও একটি করে টয়লেট। প্রথম পর্যায়ের বরাদ্দকৃত ঘরগুলোতে ইতিমধ্যে উপকারভোগীরা বসবাস শুরু করেছে আর দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।সুত্রে জানা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে “যার জমি আছে, ঘর নেই; তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” কর্মসূচির আওয়াতায় উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নে ১ম পর্যায়ে ২০০টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩০টিসহ ৩৩০টি পরিবারকে বসতঘর নির্মাণের বরাদ্দ দেওয়া হয়। টিনের বেড়া ও ছাউনী ও পাকা মেঝে বিশিষ্ট প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ আসে এক লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারী ও মার্চে মাসে দুই দফায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ আসার পর পরই এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়।

প্রকল্পের আওতায় ঘর পেয়েছেন পপত্নীতলা উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নের কোতয়ালী তালপুকুর গ্রামের তাহিরুন্নেসা বেওয়া (৭৫)। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন নির্বাহ করে থাকেন।
তাহিরুন্নেসা বলেন, “এত দিন হামার কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই আছিল না। এর-ওর বারান্দায় থ্যাকা জীবন পার করছি। আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়ে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই হছে।”কথা হয় প্রকল্পের আওতায় ঘর পাওয়া উপকারভোগী তালপুকুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান, চকশ্রীপুর গ্রামের খলিলুর রহমান, শ্রীপুর গ্রামের কাজল বিবি ও কার্তিক কুমার দাসের সাথে। তারা জানান, বিনামূল্যে ঘর পেয়ে তাঁরা খুশি। এক লাখ টাকায় ঘর ও টয়লেট নির্মাণের কাজ যথেষ্ট ভালো হয়েছে।

গগনপুর সরদারপাড়া গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী আতোয়ার রহমান প্রকল্পের একটি ঘর পেয়েছেন। আতোয়ারের চাচাত ভাই জসিম উদ্দিন জানান, আতোয়ার কোনো থাকার জায়গা ছিল না। নতুন ঘর পেয়ে আতোয়ার সেখানেই থাকে। সে এখন বেজায় খুশি।

ঘোষনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তার ইউনিয়নে জমি আছে, ঘর নেই এ ধরণের ৬৩০টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩০টি পরিবারকে সরকার তাদের জায়গায় থাকার ঘর ও টয়লেট নির্মাণ করে দিয়েছে। বাকি ৩০০ পরিবারকেও মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় সাংসদ শহীদুজ্জামান সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহবুবুর রহমান বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা মতে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়েরর ২০০টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৩০টি ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এমন বসতঘরগুলো উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে।পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম জানান, এই প্রকল্পের অধীনে যে ৩৩০ অসহায় পরিবার ঘর পেয়েছে তাঁরা বেশ খুশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পত্নীতলা উপজেলায় শুধুমাত্র ঘোষনগর ইউনিয়নে এই বরাদ্দ আসে। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও জমি আছে, ঘর নেই এধরনের অনেক ব্যক্তি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য ঘর নির্মাণের জন্যেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.