Ultimate magazine theme for WordPress.

শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে গোপন ক্যামেরায় অন্তরঙ্গের দৃশ্য ধারণ করে টাকা দাবি! আটক-২

96

 

মৌলভীবাজার জেলাধীন কুলাউড়া উপজেলা থেকে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এসেছিলেন এক দম্পতি। তারা রাত্রিযাপনের জন্য উঠেছিল উপজেলার মৌলভীবাজার সড়কের তামিম রিসোর্ট নামে এক গেস্ট হাউসে।

কিন্তু সেখানে রিসোর্টের রুমের ভেতর কঠিন বিপদের সম্মুখীন হন এই দম্পতি। জানা যায় রিসোর্টে দুই কর্মচারী দম্পতির রুমে টিস্যু বক্সের ভেতরে গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে রাখেন।

রাত্রি যাপনকালে দম্পতির অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করে তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিল রিসোর্ট এর দুই কর্মচারী। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় বুধবার রাতে ভিকটিম কুলাউড়ার কালা রায়ের চর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সোহাগ মিয়ার ছেলে রিয়াজউদ্দিন পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দুই অভিযুক্তকে আসামি করে মামলা করেন।

এমন বর্বরোচিত ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গল থানার এসআই আল আমিন এর নেতৃতে পুলিশের একটি টিম মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা থেকে রেজোয়ান ও শহরের বিরাইমপুর এলাকা থেকে খালেদ নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার চড়িপারা এলাকার আবুল কালামের ছেলে রেজোয়ান (২৩) এবং শহরের বিরাইমপুর এলাকার মৃত শফিক মিয়ার ছেলে খালেদ মিয়া (২৭)।

শ্রীমঙ্গল থানাসূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৯ জুলাই শ্রীমঙ্গলে কুলাউড়া থেকে বেড়াতে আসেন ওই দম্পতি। রাতযাপনে তারা উঠেন উপজেলার মৌলভীবাজার সড়কের তামিম রিসোর্টে।

রিসোর্টের দুই কর্মচারী টিস্যু বক্সের ভেতরে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে দম্পতির শারীরিক মেলামেশার দৃশ্য ধারণ করেন। এ ঘটনার কিছু দিন পর মোবাইল ফোনে রিয়াজউদ্দিনকে ইমু নাম্বারে ফোন করে জানায়, তাদের নোংরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করা আছে। মন হুমকি দিয়ে ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে বলে ফোনের লাইন কেটে দেয়।

তার পর গত বছরের ২১ অক্টোবর ‘নাদিরা আক্তার রুমি’ নামে একটা ফেক আইডি থেকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে রিয়াজউদ্দিনের কাছে তাদের গোপন মেলামেশার দৃশ্যের কিছু ছবি পাঠায়। পরে ওই নাম্বার থেকে বাদীর ইমু নাম্বারে কল করে হুমকি দিয়ে জানায়, এই ছবি ও ভিডিও ফেরত পেতে ৫০ হাজার টাকা তাদের দিতে হবে।

এতে আরও বলা হয় যদি টাকা দেওয়া না হয়, তা হলে তাদের এই ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেবে বলে হুমকি প্রদান করে। এমন স্পর্শকাতর ঘটনায় রিয়াজউদ্দিন দম্পতি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি তাদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা চালিয়ে যান। পাশাপাশি আইনের আশ্রয় নেবেন কিনা ভাবতে থাকেন।

বাদীর কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ইতোমধ্যে তারা ফেসবুকে তাদের বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের কমেন্ট ও ম্যাসেঞ্জারে তাদের নোংরা ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতে থাকে।

কোন উপায় না পেয়ে এই দম্পতি অবশেষে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করে এর মধ্যে থেকে দম্পতির শারীরিক মেলামেশার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায় বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আল আমিন জানান।

প্রাথমিকভাবে আসামিরা পুলিশের কাছে তাদের অপকর্মের স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এ ঘটনায় তামিম রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী হারুণ মিয়া জানান, কর্মচারীরা কি করেছে তা আমার জানা নেই। তারা একসময় আমার এখানে ছিল, এখন আর নেই।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির জানান, অভিযোগ পেয়ে আমরা দ্রুত মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার করি। এ ঘটনার সাথে মালিকপক্ষের কোনো যোগসাজশ রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে বের করা হবে বলে তিনি জানান।

আব্দুস শুকুর
শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
০১৭৪৪৬৮৮৯৩৪

 

আমাদের নিউজ যদি ভালো লাগে অবশ্যই শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ কের দিবেন। 

সম্পাদক নুরনবী রহমান মহাস্থান ডটকম 

যোগাযোগ -০১৭১১-৭১৭০১৫/

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com